রংপুরে উন্নয়ন সংলাপ
দেশে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বড় বেশি : বাণিজ্যমন্ত্রী
Advertisement
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, দেশে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বড় বেশি। আমি নিজেও খুব হ্যাপি না। কারণ সারা জীবন কাজ করে বেড়িয়েছি। এখন সরকারের এ চেয়ারে বসে মনে হয়, এ দৌরাত্ম্য কবে শেষ হবে? তবে চেষ্টা করা হচ্ছে, আমরা চেষ্টা করছি। শনিবার দুপুরে রংপুরের আরডিআরএস-এর বেগম রোকেয়া মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘জাতীয় উন্নয়নে অঙ্গীকার : শিক্ষা, শোভন কর্মসংস্থান, জেন্ডার সমতা’ শীর্ষক রংপুর সংলাপ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে সিপিডি, সুজন ও ইউএনডিইএফ। টিপু মুনশি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় রংপুর অঞ্চল পিছিয়ে পড়ছে। এ অঞ্চলে ভারী শিল্প কলকারখানা নেই। উৎপাদন খরচ বেশি পড়বে বলে বড় কোম্পানিগুলো এখানে আসতে চায় না। এর পেছনে যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবহণ খরচ, গ্যাস সংযোগ না থাকাসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে। তবে এ অঞ্চলের শ্রমিকরা অনেক পরিশ্রমী ও সুশৃঙ্খল। জাতীয় পর্যায়েও সুনাম রয়েছে।
তিনি বলেন, একসময় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অর্ধেক মানুষও আসতেন না। বিমানে যাত্রী পাওয়া যেত না। কিন্তু এখন এ বিমানবন্দরে দিনে ১৩-১৭টি ফ্লাইট ওঠানামা করছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতিদিন অন্তত ৩০টি ফ্লাইট ওঠানামা করবে। ইতোমধ্যে ৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বিমানবন্দরের মূল ভবন হয়ে গেছে। এটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হলেও এখন নেপাল ও ভুটানের ফ্লাইট নিয়ে কথা চলছে। চিনিকল প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ দেশে যে আখ হয়, তা দিয়ে চিনিকল চালু রাখা সম্ভব নয়। এ খাতে শুধু লোকসান হচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে চিনিকলগুলোয় বেসরকারি খাতে অন্যকিছু উৎপাদন নিয়ে ভাবতে হবে। এতে শ্রমিকরা বেকার থাকবেন না, লোকসান বন্ধ হবে। কিন্তু লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে অনেক কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিস্তা নদীর দুপাশে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট নিয়ে রংপুর অঞ্চলের মানুষকে হতাশ না হতে আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক একটা ছোট ঝামেলা থাকায় বিলম্ব হলেও এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। কারণ প্রধানমন্ত্রী নিজেই চাইছেন তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন হোক। এছাড়াও বক্তব্যে রংপুর অঞ্চলের উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বিভিন্ন উন্নয়নের পাশাপাশি রংপুর বিভাগে একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সভাপতিত্বে সূচনা বক্তব্য দেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। এছাড়া বক্তব্য দেন সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সদরুল আলম দুলু, সুজনের জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, নারী সংগঠক ও উন্নয়নকর্মী মোশফেকা রাজ্জাক, আরডিআরএস বাংলাদেশের হেড অব ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম আব্দুস সামাদ প্রমুখ।
