রাজশাহীতে সিজিএসের আলোচনা
উদ্যোক্তা তৈরিতে অন্যতম বাধা দুর্নীতি
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিগ্রস্ত। দুর্নীতির নেতিবাচক প্রভাব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এমনকি করোনাকালীন মহামারির মধ্যেও দুর্নীতির গতি ও মাত্রা হ্রাস পায়নি। বাংলাদেশে ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতাই হলো দুর্নীতি। রোববার রাজশাহীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত আঞ্চলিক আলোচনায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা এ কথা বলেন। ব্যবসার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের প্রতিনিয়ত সম্মুখীন হওয়া, দুর্নীতি এবং এই দুর্নীতি প্রতিরোধে একটি সমন্বিত মঞ্চ তৈরির প্রয়োজন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট এন্টারপ্রাইজ (সিআইপিই)-এর সহায়তায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা এতে অংশহগ্রহণ করেন।
আলোচনায় উদ্যোক্তারা ব্যবসা শুরু এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে যেভাবে দুর্নীতির শিকার হন, সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে লাইসেন্স বা অনুমোদন নেওয়ার ক্ষেত্রে ১৩-১৪টি বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুর্নীতি জড়িত। রেজিস্ট্রেশন, ট্রেড লাইসেন্স তৈরি বা অন্যান্য ক্ষেত্রে হয়রানি, ব্যবসায়িক বিড়ম্বনা ও ঝামেলা এড়ানোর জন্য প্রধানত উদ্যোক্তারা ঘুস বা বখশিস প্রদান করতে বাধ্য হন যা দুর্নীতিরই নামান্তর।
এদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সাহায্য করতে অনীহা প্রকাশ করে। শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে সাহায্যের পরিবর্তে হয়রানি এবং হেনস্তা করে। অনলাইনে ভ্যাট প্রদান প্রক্রিয়াতে অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনার কথাও তারা উল্লেখ করেন। এক নারী উদ্যোক্তা বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়, অর্থ না দিলে ঋণ পেতে সমস্যা হয়। দুর্নীতি ও অন্যান্য অনিয়মের কারণে প্রণোদনা প্যাকেজের সুযোগ থেকে অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত হন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
রাজশাহীর বিখ্যাত সিল্ক শিল্পের দুরবস্থা ও জাতীয় পর্যায়ে পাটশিল্পের ধ্বংসের জন্য উদ্যোক্তারা মূলত দুর্নীতিকেই দায়ী করেন। দুর্নীতি প্রতিরোধে জাতীয় থেকে তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং সেমিনারের আয়োজন করা জরুরি বলে বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন। আলোচনায় রাজশাহীর শতাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।
