Logo
Logo
×

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

সিপিডির সংলাপ

করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

করোনায় শ্রমবাজার চরম ক্ষতিগ্রস্ত। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা। সরকার কারখানা খোলা রাখলেও পরিবহণ বন্ধ। এতে পোশাক খাতের লাখ লাখ শ্রমিককে কয়েক কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে আসতে হয়। এতে স্বাভাবিকভাবেই তাদের উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায়। শ্রমিক সংগঠনগুলোও তাদের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারেনি।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্ট্যাডিজ (বিলস) শনিবার আয়োজিত ভার্চুয়াল সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান, আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পটিয়াইনন, বিলসের নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান, সংসদ সদস্য শিরীন আখতার, এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কেএম আবদুল সালাম, বিলসের উপদেষ্টা নাইমুল আহসান, আমিরুল হক আমিন এবং বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তৌহিদুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূলপ্রবন্ধে উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

বক্তারা বলেন, দেশের শ্রমবাজারে করোনার অভিঘাত লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে ২০২০ সালের প্রথমার্ধে এই হার ছিল বেশি। নিয়মিত বা অস্থায়ী শ্রমিক শ্রেণিসহ ছোট প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বিভাগের শ্রমিকরা এই চ্যালেঞ্জে পড়েছে। ট্রেড ইউনিয়নগুলো এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারে কার্যকর সামাজিক সংলাপের দিকে দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগে শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এই কাজে ট্রেড ইউনিয়নের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। করোনাকালে দেশের শ্রম সংগঠনগুলো মানবিক ও শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করেছে। তাদের কর্মকাণ্ডে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতি ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাজে প্রভাব ফেলবে।

সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান বলেন, শুধু কারখানায় নিরাপদ থাকার পাশাপাশি শ্রমিকরা বাসায় কতটা নিরাপদ, তাও বিবেচনায় আনতে হবে। কারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রী রাখতে হবে। এছাড়া শ্রমিকদের আনা নেওয়ার জন্য পরিবহণের ব্যবস্থা করা উচিত। করোনা সংকটের এই সময় এসব জরুরি। কারখানা ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিকের বাসস্থান নিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো কাজ করতে পারে। তবে তার আক্ষেপ, এসব নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয়নি। করোনার সময়ে ট্রেড ইউনিয়নগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারছে না।

সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, ‘সুখী কর্মী সব সময় ভালো কর্মী। একজন শ্রমিক প্রতিদিন তিন-চার মাইল হেঁটে কারখানায় আসে। আবার একই পথ হেঁটে ঘরে ফেরেন। এর ফলে তার কাছে ভালো কতটা উৎপাদন আশা করা যায় না। মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন বলেন, যখন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, তখন শ্রমিকদের জন্য পরিবহণ ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে মালিকপক্ষ তা করেনি। ফলে শ্রমিকরা সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখেই হেঁটে কারখানায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

কেএম আব্দুল সালাম বলেন, শ্রমিক সমস্যাগুলো আমরা গুরুত্ব সহকারে শুনছি। এছাড়াও কেন্দ ীয়ভাবে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর টুওমো পটিয়াইনন বলেন, সংগঠিত ও অসংগঠিত উভয় ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষাকে সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান শিরীন আখতার বলেন, তালিকাভুক্তির মাধ্যমে আরও বেশি শ্রমিকদের সংগঠিত করা উচিত।

বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তৌহিদুর রহমান বলেন, লকডাউনে শ্রমিকদের স্বার্থ দেখা হয়নি। তিনি বলেন, সরকার সর্বাত্মক লকডাউন দিয়েছে। কিন্তু সব কারখানা চালু রাখা হলো। পোশাক শিল্পের ৪৫ লাখ শ্রমিককে কারখানায় যেতে হয়। কিন্তু পরিবহণের ব্যবস্থা করা হয়নি। কারখানায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শ্রমিকরা অনিরাপদই থাকছেন।

বিলসের উপদেষ্টা নাইমুল আহসান বলেন, করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা। সব পক্ষের সামাজিক সংলাপের মাধ্যমে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। সরকারের নানা কর্মসূচি থেকে তারা কী পেয়েছেন, তা জানি না। তিনি আরও বলেন, প্রায় দুই কোটি মানুষ শহর থেকে গ্রামে গেছেন। তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নেই। বিলসের আরেক উপদেষ্টা আমিরুল হক আমিন বলেন, গতবার করোনার সময় দুই লাখ পোশাক শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে দেড় লাখ কাজ ফিরে পেয়েছেন। এখনো ৫০ হাজার পোশাক শ্রমিক বেকার। এমন অবস্থায় করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা এসেছে। তাই আগামী ঈদের ১০ দিন আগে বেতনবোনাস দিতে হবে, করোনার দোহাই দিয়ে বেতনভাতা কাটছাঁট করা যাবে না। সংলাপে মূল প্রবন্ধে ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, করোনা সংকটে শ্রমিকরা সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন। শ্রমিকদের কাছে প্রণোদনার পর্যাপ্ত অর্থ পৌঁছায়নি। বরাদ্দও পর্যাপ্ত ছিল না। শ্রমিকদের স্বার্থ নিয়ে বলার মতো ট্রেড ইউনিয়নও নেই। মোট শ্রমশক্তির মাত্র ৪ দশমিক ২ শতাংশ ইউনিয়নভুক্ত। তিনি এমন সংকট মোকাবিলায় সামাজিক সংলাপের তাগিদ দেন।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি নিয়ে দুগ্রুপে সংঘর্ষ

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি নিয়ে দুগ্রুপে সংঘর্ষ

ব্রিফিংয়ে জয়সোয়াল সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকার উদ্যোগী হবে

সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকার উদ্যোগী হবে

মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক আরও ৯ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত

আরও ৯ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত

পূর্বাচল-ঝিলমিলে পাঁচ কাঠা ও বড় আবাসিক প্লটে প্রণোদনা

পূর্বাচল-ঝিলমিলে পাঁচ কাঠা ও বড় আবাসিক প্লটে প্রণোদনা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম