সিপিডির সংলাপ
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির জন্য বাড়তি উৎপাদনও দায়ী
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও করোনার কারণে জ্বালানি খাত চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে। জ্বালানি তেল, এলএনজি ও কয়লা আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত চাপের মুখে পড়েছে। বিদ্যুতের বাড়তি উৎপাদনও আরেকটি সমস্যা। এটি কমিয়ে আনা গেলে বিদ্যুতের দাম কমানো সম্ভব। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ভালো বিকল্প হতে পারে।
রাজধানীর একটি হোটেলে রোববার প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে জ্বালানি খাত নিয়ে সংলাপের আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সেখানে মূল প্রবন্ধে এসব কথা বলেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন-পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন-জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম, অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম, অধ্যাপক বদরুল ইমাম, ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইপিপিএ) প্রেসিডেন্ট ইমরান করিম প্রমুখ। মূল প্রবন্ধে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, উৎপাদনের ৪২ শতাংশ বিদ্যুৎ অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। অব্যবহৃত বিদ্যুৎ সমস্যা হতো না, কিন্তু এজন্য সরকারকে বাড়তি মূল্য (ক্যাপাসিটি চার্জ) পরিশোধ করতে হচ্ছে। এটি দুশ্চিন্তার জায়গা। এখন জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে অব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণ ও ক্যাপাসিটি চার্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) টেনশনে ফেলে দিয়েছে। এ ওভার জেনারেশন ক্যাপাসিটি কীভাবে কমিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে কাজ করা দরকার। ২০১৮ সালে যেখানে ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে, সেখানে ২০২২ সালে বিপিডিবিকে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে। ২০২৩ সালে প্রায় ৩১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা দিতে হতে পারে। তিনি আরও বলেন, সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন খরচ কম। কেন জানি তারপরও রেন্টাল, কুইক রেন্টাল থেকে উচ্চ মূল্যে সরকারকে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। কিন্তু কম দামে সরকারি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে বিপিডিবিকে সাবসিডি দিতে হচ্ছে।
পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এক সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেশি জোর দেওয়া হতো। এখন সঞ্চালন ব্যবস্থায় জোর দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি খাতে ভর্তুকির বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমরা যদি গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পরতাম সেক্ষেত্রে ইউনিট প্রতি খরচ পড়ত ৪ টাকা। কিন্তু ফার্নেস অয়েল ব্যবহারে এই খরচ হচ্ছে ১৫ হতে ২০ টাকা এবং ডিজেল ব্যবহারে খরচ হচ্ছে ৩০ টাকা। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ভর্তুকিও বাড়াতে হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো কীভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করা যায় সে বিষয়ে সমীক্ষা চলছে বলে জানান তিনি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, আমরা বিদ্যুতের দাম নিয়ে গণশুনানিতে দেখিয়েছি কীভাবে জনগণের কাছ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। এই লুণ্ঠন দীর্ঘদিন চলে আসছে। এমনকি আইন দিয়ে তাদের সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। ভর্তুকির বড় কারণ ক্যাপাসিটি চার্জ। এটাকে যৌক্তিকভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। সরকার সবার জন্য ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু জ্বালানি খাত শতভাগ বাণিজ্যিকভাবে পারিচালিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে ভৌতিক ব্যয় কমিয়ে আনতে হবে।
অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, পেট্রোবাংলা থেকে আমাদের ধরণা দেওয়া হয়েছে দেশে গ্যাস নেই, এটা ভুল ধারণা। বিদেশি কোম্পানিগুলো দেশে উৎপাদন বাড়িয়ে যাচ্ছে অথচ পেট্রোবাংলার উৎপাদন কমে গেছে। জ্বালানি খাতে নেতৃত্বের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে হলে অবশ্যই প্রাথমিক জ্বালানির খরচ কমিয়ে আনতে হবে। তিনি বলেন, ওভার ক্যাপাসিটি নিয়ে হইচৈই হচ্ছে। এটা সঠিক নয়।
আমাদের সর্বমোট ওভার ক্যাপাসিটি বলা হচ্ছে ২৫ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট, এটা সঠিক নয়। কারণ এটা ভাড়াভিত্তিক এবং সোলারসহ এই হিসাব করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকৃতভাবে এই ক্যাপাসিসিট ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি নয়।
বিআইপিপিএ প্রেসিডেন্ট ইমরান করিম ওভার ক্যাপাসিটি বেশি দেখানো হচ্ছে বলে মনে করেন। তিনি বলেন, বাস্তবতা বিবেচনায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করা কঠিন। এটা সাশ্রয়ী নয়। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে আমরা সরে আসতে চাইছি কিন্তু বাস্তবতাও দেখতে হবে। আমাদের এখন সঞ্চালন ব্যবস্থায় গুরুত্ব দিতে হবে।
