Logo
Logo
×
   

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংস্কারের তাগিদ

সানেমের ওয়েবিনার আলোচনা

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

করোনা ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মর্ডেলিং (সানেম)। এতে বলা হয়েছে, চলমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি নতুন কর্মসূচি যেমন দরকার, তেমনি পুরোনো কর্মসূচি কমিয়ে আনা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি তদারকি বৃদ্ধি করতে হবে। কেননা এসব কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তদের মধ্যে অনেকেই প্রকৃত গরিব নয়। এক্ষেত্রে ৭১ শতাংশ ভুল মানুষকে কর্মসূচি থেকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ‘সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী : বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে’ শিরোনামে ওয়েবিনারে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।

এতে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কী, এর প্রয়োজনীয়তা কী, বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর চিত্র কী, ইত্যাদি প্রশ্নকে বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সানেমের চেয়ারম্যান ড. বজলুল হক খন্দকার। বক্তব্য দেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।

ড. বজলুল হক খন্দকার বলেন, মধ্যবিত্তদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। করোনা-পরবর্তী এই শ্রেণির মানুষ ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর মাধ্যমে একটি দেশের সুবিধাবঞ্চিত, অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিভিন্নভাবে সুরক্ষা প্রদান করা হয়। একটি কল্যাণ রাষ্ট্র নির্মাণে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর মুখ্য ভ‚মিকা রয়েছে। বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় বয়স্ক ভাতা, দরিদ্র অসহায় নারীদের জন্য ভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাতা ইত্যাদির প্রচলন আছে। তবে এই কর্মসূচিগুলোর গ্রহীতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এই সহায়তা যাদের প্রাপ্য, তারা পান না। আবার সহায়তা যাদের পাওয়ার কথা নয়, তারা পান। তিনি বলেন, একই সঙ্গে ভাতার পরিমাণও প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় একজন বয়স্ক ব্যক্তির জন্য প্রতি মাসে ৫০০ টাকা সহায়তা বরাদ্দ থাকে, যা তার চিকিৎসা, খাবার ও অন্য খরচ বিবেচনায় নিতান্তই অপ্রতুল। সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি। সমতাভিত্তিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতা ও পরিমাণ বৃদ্ধি, সঠিক গ্রহীতা নির্বাচন, ভাতা প্রাপ্তির পদ্ধতি সহজীকরণ, ইত্যাদির কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, চলমান প্রায় ১৫০টি কর্মসূচিকে গুটিয়ে এনে বড় আকারে কয়েকটিতে নামিয়ে আনতে হবে। সেই সঙ্গে সোশ্যাল কেয়ারকে যুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ এর মধ্যে সামাজিক ইস্যুরেন্স, আনইমপ্লয়মেন্ট ইন্স্যুরেন্স এবং কর্মসহায়ক কার্যক্রম যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি মহিলা, শিশু, কৃষি এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মজীবীদের নতুন করে যুক্ত করতে হবে সামাজিক নিরাপত্তায়। এসব কাজে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আনতে হবে। এতে সরকারের খরচ কমবে। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যেসব মন্ত্রণালয় পরিচালনা করে তাদের জন্য প্রশাসনিক ব্যয় ১-২ শতাংশ থেকে বাড়াতে হবে। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা শহরে বাড়াতে হবে। কেননা অনেক মানুষ গ্রাম থেকে শহরে চলে আসছেন।

ড. সেলিম রায়হান বলেন, আমাদের দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সৃজনশীল করা দরকার। বিশেষ করে করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্র সংস্কার করতে হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম