মিসরে নতুন বসন্তের আভাস
Advertisement
মেহেদী হাসান
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্বৈরশাসক জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নেমেছে মিসরের জনগণ। ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট সিসি ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছরের মাথায় তার বিরুদ্ধে এটাই প্রথম বিক্ষোভ। সিসির পদত্যাগ দাবিতে মিসরের রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কয়ারে অবস্থান করছেন দেশটির হাজারো নাগরিক। এ ছাড়া মিসরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেকজান্দ্রিয়া ও সুয়েজেও বিক্ষোভ হয়েছে।
২০১১ সালে মিসরে বিদ্রোহের প্রাণকেন্দ্র ছিল তাহরির স্কয়ার। এখানের আন্দলনের ফলেই ক্ষমতা হারিয়েছিলেন তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসনি মোবারক। সিসির শাসনামলে গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো সরকার পতনের জন্য এমন বিক্ষোভ হল। আরব বিশ্বের এই মুহূর্তের অন্যতম স্বৈরশাসক, মধ্যপ্রাচে ইসরাইলি আগ্রাসনের সমর্থক ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সব সময়ের বন্ধু জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিসরের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন ২০১৩ সালে।
স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের ৩০ বছরের নির্মম নির্যাতনের হাত থেকে মিসরবাসীকে মুক্তি দিতে ২০১২ সালের ৩০ জুন মিসরের ইতিহাসের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ মুরসি। এর এক বছরের মাথায় ২০১৩ সালের ৩ জুলাই সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুরসিকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল সিসি।
ওই অভ্যুত্থানের পৃষ্ঠপোষক ছিল ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আর সৌদি আরব তো সরকারিভাবে বিবৃতি দিয়ে মুরসি সমর্থকদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জেনারেল সিসি’কে সমর্থন দিয়েছিল। সেদিনের সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে মুরসি সমর্থকরা রাস্তায় নামলে জোর করে কারাগারে আটকে রাখা হয় ব্রাদারহুডের প্রায় হাজারখানেক নেতাকর্মীকে।
ঘটনার পরপরই ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং সংগঠনটিকে সন্ত্রাসীগোষ্ঠী হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করেন আল-সিসি। এরপর সব ধরনের বিরোধীদের প্রতি তিনি দমনাভিযান চালিয়েছেন। ষাট হাজার ভিন্নমতাবলম্বীকে তিনি কারাগারে ঢুকিয়েছেন, যাদের অনেকের বিচার চলছে আবার অনেককে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয় মিসরের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে। চরম নিপীড়নের মধ্যে গত ১৭ জুন বিচার চলাকালে আদালত কক্ষে আকস্মিক পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন মোহাম্মদ মুরসি।
মানবাধিকারকর্মীরা বলেন, কারাগারে তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এমনকি মুরসির পরিবারকে বাধ্য করা হয় কঠোর গোপনীয়তায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য। বাবার মৃত্যুর দুই মাসের মাথায় রহস্যজনকভাবে মারা যান মুরসির ২৪ বছরের পুত্র আবদুল্লাহ মুরসি। আশঙ্কা করা হয় বাবার মতো তাকেও কৌশলে হত্যা করা হয়েছে।
২০১৩ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিসরে সব ধরনের গণবিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেন সামরিক শাসক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ‘২০১৮ সালের দ্বিতীয় মেয়াদে নিজের ক্ষমতা নিশ্চিত করার পর বিরোধীদের বিরুদ্ধে তার নিরাপত্তা বাহিনী ভীতিপ্রদর্শন, সহিংসতা ও বিনা বিচারে গ্রেফতারের অভিযান বাড়িয়ে দিয়েছে।’ এ
দিকে জাতিসংঘের বিশ্লেষকরা মিসরের বাকস্বাধীনতার ওপর ব্যাপক হামলাকে গভীর উদ্বেগের উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশটিতে প্রচুর সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, সাংবাদিক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের অবৈধভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে’। আলজাজিরার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক ইয়াহিয়া গানাম বলেন, ‘মিসরীয়দের গতিশক্তির বিভিন্ন মাত্রার প্রতিনিধিত্ব করে শুক্রবারের এ বিক্ষোভ। তিনি বলেন, মিসর দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন পাওনা আছে। দেশটিতে এখন যা ঘটছে, সেটা তারই প্রতিফলন। আরও আগেই এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। দেশবাসী জুলুমশাহীর কবল থেকে মুক্তি পেতে চাচ্ছেন।’
প্রায় একই রকম অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিবিসির সংবাদদাতা সালি নাবিল এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘কয়েক দিন আগেও দেশটিতে এ ধরনের বিক্ষোভ আয়োজনের কথা কল্পনাও করা যেত না।’ লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর গ্লোবাল পলিসির গবেষক ডালিয়া ফাহমি বলেন, ‘২০১১ সালের তুলনায় শুক্রবারের বিক্ষোভ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিবন্ধকতার আতঙ্ক থেকে এ গণজাগরণ। তবে এটা প্রত্যাশিত।’ যদিও মিসরীয়দের ক্ষোভের মূল নিহিত ছিল মুরসিকে জোর করে ক্ষমতাচ্যুত করার মধ্যে।
এবারের আন্দোলনের নায়ক মিসরের নির্বাসিত ব্যবসায়ী ও অভিনেতা মোহাম্মদ আলী। তার নামেই আরব মিডিয়াগুলো এবারের আন্দোলনের নামকরণ করেছে, ‘সাউরাতু মোহাম্মদ আলী’। দেশের স্বার্থে স্বৈরশাসকের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামার ডাক দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ ১৫ বছর মিসরে একজন মিলিটারি ঠিকাদার হিসেবে কর্মরত থাকায় অভ্যন্তরীণ অনেক দুর্নীতির ব্যাপারে অবগত ছিলেন আলী। অনেক সেনা কর্মকর্তা ও জেনারেল সিসির বিরুদ্ধে জনগণের টাকা আত্মসাৎ করে ফাইভ স্টার হোটেল আর ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার যে অভিযোগ মোহাম্মদ আলী দাঁড় করান তাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে থাকে।
মোহাম্মদ আলী সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা ধারাবাহিক ভিডিওগুলোতে বিগত ছয় বছরে যে ইস্যুগুলো নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, সেগুলো নিয়েও প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। তার দাবিগুলোর মধ্যে ছিল- মিসরের চরম অর্থনৈতিক মন্দা, রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বিপরীতে গিয়ে সানাফির ও তিরান দ্বীপ বিক্রি করে দেয়া, ইসরাইলের স্বার্থরক্ষায় জাতীয় স্বার্থের প্রতি লক্ষ না রেখে সিদ্ধান্ত নেয়া, রাজনৈতিক বন্দি ও গুমের রেকর্ড তৈরি করা, এককভাবে নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসা, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নিজের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করা।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগকে ‘মিথ্যাচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জেনারেল সিসি। এতদিন যাবৎ এসব দুর্নীতির কোনো বিষয় নিয়েই কোনো ধরনের প্রতিবাদের সুযোগ পায়নি মিসরীয় জনগণ। তবে এই বিক্ষোভের পেছনে কোনো রাজনৈতিক শক্তি বা সংঘবদ্ধতার চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়াই বড় ভূমিকা রেখেছে। পুঞ্জিভূত এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ যখন সাহস করে একজন বেসামরিক মানুষ করে দেখালেন, তখন জনমনে এই আবেদন দারুণ সাড়া ফেলেছে।
এমনকি মোহাম্মদ আলীর কথা আমলে নিতে বাধ্য হন জেনারেল সিসি এবং একটি অনুষ্ঠানে মিডিয়ার সামনেই রাষ্ট্র পরিচালনায় ত্রুটির কথা কৌশলে স্বীকার করে নেন এ স্বৈরশাসক। এতে মোহাম্মদ আলীর আন্দোলনের পক্ষে জনমত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সর্বশেষ মোহাম্মদ আলী ১৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার জেনারেল সিসিকে পদত্যাগের জন্য সময় বেঁধে দেন এবং বলেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যে যদি স্বৈরশাসক সিসি পদত্যাগ না করেন, তবে শুক্রবার মিসরীয়রা তাহরির স্কয়ারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন।
২০ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে ‘জুমুয়াতুল গজব’ (বিক্ষোভের শুক্রবার) বলে অভিহিত করেন মোহাম্মদ আলী। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শুক্রবার রাত আটটার পর থেকে তাহরির স্কয়ারসহ রাজধানীর প্রায় চারটি স্পটে মোটামুটিভাবে ও রাজধানীর বাইরে আলেকজান্দ্রিয়া ও মানসুরায় জনগণ সিসির পদত্যাগের দাবিতে বিশাল শোডাউন করে। ২০১১ সালে এ তাহরির স্কয়ারের গণবিক্ষোভে দেশটির তখনকার স্বৈরশাসক হুসনি মোবারকের পতন ঘটে।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ‘আরব বসন্ত’ নামের ওই বিক্ষোভের জের এখনও রয়ে গেছে। বিক্ষোভকারীরা নিজেদের প্রোফাইল পিকচারে লাল ছবি দিয়ে রাজপথে নেমে আসেন। সবার স্লোগান ছিল ‘আশ শা’ব ইউরিদ ইসকাতুন নিযাম’ তথা জনগণ সরকারের পতন চায়। আরও স্লোগান ছিল ‘আমরা যাব না, এবার সিসি যাবে’। বিক্ষোভের তীব্রতায় বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট। এ সময় ধরপাকড়ের পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়।
বিবিসির স্থানীয় সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ‘পুলিশ ছত্রভঙ্গের চেষ্টার পরও শতশত বিক্ষোভকারী তাহরির স্কয়ারে সমবেত হওয়ার চেষ্টা করেছে’। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা রয়টার্সের প্রতিবেদক বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। কিন্তু অনেক তরুণ পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে শহরের মূল সড়কে অবস্থান করে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন’। কায়রোর নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র এএফপিকে জানায়, বিক্ষোভ চলাকালে মধ্যরাতেই ৭৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশ শহরটির কেন্দ্রস্থলে টহল দিতে শুরু করেছে।
এদিকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের প্রতি সম্মান দেখাতে মিসরীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। শনিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক উপপরিচালক মাইকেল পেজ জানিয়েছেন, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমন করতে প্রেসিডেন্ট আল-সিসির নিরাপত্তা বাহিনীগুলো ফের নৃশংস উপায় বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের উচিত এসব স্বীকার করে নেয়া। অতীতের নৃশংসতা যাতে ফের না ঘটে, সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে।’ অন্যদিকে এমন এক সময় এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন মিসরীয় প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।
টুইটারে গণতন্ত্রপন্থী তৎপরতাকারী আইয়াদ আল-বাগদাদী বলেন, হেই, ডোনাল্ড ট্রাম্প, আপনার প্রিয় একনায়ক এখন নিউইয়র্কের পথে। তাকে সেখানেই রাখেন। তিনি ফিরে আসুক, মিসরীয়রা সেটি চান না।
কিন্তু সিসির নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আল-জাজিরার সাংবাদিক আহমেদ মনসুরের মতে, স্বৈরশাসক সিসি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যাননি যেমনটি তিনি ঘোষণা করেছিলেন। তিনি মিসর থেকে নিউইয়র্ক গিয়েছেন ঠিকই, তবে তা হল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য। গণমাধ্যমের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে আহমদ মনসুর জানান, ‘সিসি মূলত বাইরে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আশ্রয় অনুসন্ধান করতে গিয়েছেন। মিসরীয় জনগণ দীর্ঘদিনের ভয় ও বাধা ভেঙে তার পতনের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসার বিষয়টি তিনি আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন।’
এরই ধারাবাহিকতায় সিসিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে মিসরীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ জাকিকে আহ্বান জানিয়েছেন মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, ‘আপনি দেখেছেন, লোকজন কীভাবে বিক্ষোভে নেমেছেন। আমি আশা করছি, উত্তেজনা বাড়বে না। দয়া করে নিজের সম্মানের দিকে তাকিয়ে আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিন।’ মিসরের সবশেষ পরিস্থিতি কোনদিকে গড়াবে তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। তবে দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ পরিস্থিতি মিসরীয় জনগণের মনে সিসির বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ তৈরি করেছে, তার বিস্ফোরণ মিসরীয়দের আরও একবার স্বৈরশাসনের হাত থেকে মুক্তি দেবে বলে আশা করা যায়।
মেহেদী হাসান : শিক্ষক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
