গণতন্ত্র, সুশাসন ও উন্নয়ন কতটা সম্পর্কযুক্ত

  এম এ খালেক ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সুশাসন

এবার অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি, তার ফরাসি স্ত্রী এস্তের দুফলো এবং মাইকেল ক্রেমার। অভিজিতের নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তি নানা কারণেই বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে।

নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির পর তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে যে বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিবিসির সঙ্গে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে অভিজিতের একটি বক্তব্য নানাভাবে আলোচিত হচ্ছে।

অভিজিৎ ব্যানার্জি বলেছেন, দুর্নীতি ও গণতন্ত্রহীনতার মাঝেও একটি দেশ বা জনপদের অর্থনৈতিক উন্নতি হতে পারে। উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে। এমনকি চরম দারিদ্র্যও হ্রাস পেতে পারে। কারণ দুর্নীতিপরায়ণ ও অগণতান্ত্রিক সরকারও তার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার জন্য দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধনে ব্যাপৃত হতে পারে।

অর্থাৎ অভিজিৎ ব্যানার্জি এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, অর্থনৈতিক উন্নয়নে গণতন্ত্র কোনো আবশ্যিক শর্ত নয়। এমনকি ব্যাপক দুর্নীতিও একটি দেশের উন্নয়ন বিঘ্নিত করতে পারে না। কিন্তু তিনি এটি বলেননি যে, অর্থনৈতিক উন্নতি করতে হলে অগণতান্ত্রিকতা ও দুর্নীতির সহনীয় মাত্রা কী পরিমাণ হতে পারে।

অর্থাৎ কতটা দুর্নীতি ও অগণতান্ত্রিক চর্চা থাকলে একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে না। অথবা সীমাহীন দুর্নীতি এবং চরম অগণতান্ত্রিক অবস্থার মাঝেও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হতে পারে কিনা।

এক সময় আমাদের দেশে এমন একটি বিতর্ক উত্থাপিত হয়েছিল- আমরা উদার ও নির্ভেজাল গণতন্ত্র চাই, নাকি উন্নয়ন চাই? অনেকেই উন্নয়নের স্বার্থে কিছুটা হলেও গণতন্ত্রকে বির্সজন দেয়ার পক্ষপাতী ছিলেন।

তবে অধিকাংশই বলেছিলেন, আমরা গণতন্ত্রও চাই, পাশাপাশি উন্নয়নও চাই। একটিকে বিসর্জন দিয়ে অন্যটি কাম্য হতে পারে না। অবশ্য এ বিতর্ক বেশিদূর এগোতে পারেনি।

কারণ অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, আমরা উন্নয়ন চাই, একইসঙ্গে গণতন্ত্রও চাই। অর্থাৎ তারা বলতে চাইছিলেন, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। উন্নয়ন ও গণতন্ত্র একইসঙ্গে হাত ধরাধরি করে চলুক।

আমরা উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র অথবা গণতন্ত্রের জন্য উন্নয়ন বিসর্জন দিতে চাই না। কোনো দেশের জন্য উন্নয়ন যেমন প্রয়োজন তেমনি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাও কাঙ্ক্ষিত। অবশ্য এটা স্বীকার করতেই হবে যে, উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র সবসময় আবশ্যিক শর্ত নাও হতে পারে।

চরম স্বৈরাচারী ব্যবস্থার মধ্যেও একটি দেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন করতে পারে। এমনকি জনসংখ্যার ভারে ভারাক্রান্ত একটি দেশও অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যেও অর্থনৈতিক উন্নতি অর্জন করতে পারে। বিশ্বে এমন অনেক উদাহরণ আছে।

পূর্ব এশীয় দেশ চীন বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিমধ্যেই তার যোগ্যতার প্রমাণ দিতে সমর্থ হয়েছে। চীন বিশ্বের সবচেয়ে জনসংখ্যাধিক্য দেশ। চীনে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অনুপস্থিত। কিন্তু তারপরও দেশটি অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

তারা জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে পেরেছে। চীনের অভ্যন্তরীণ সুশাসন ব্যবস্থা বেশ উন্নত। তারপরও সেখানে দুর্নীতি একেবারে কম নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশটি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উন্নতি করতে সমর্থ হয়েছে।

চীনের এ অর্থনৈতিক উন্নতি অনেকের জন্যই ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীন বিশেষ করে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার কারণেই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এতটা সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

২০৫০ সালের মধ্যে চীন অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও অতিক্রম করে যাবে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে। পারচেজিং পাওয়ার প্যারেটির (পিপিপি) বিচারে ইতিমধ্যেই চীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অতিক্রম করে গেছে। কয়েক বছর আগে বিশ্ব অর্থনীতিতে জাপানের আধিপত্য খর্ব করে চীন দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে।

চীন যে তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এমন সাফল্য দেখাতে পেরেছে, এর পেছনে একটি বড় কারণ হচ্ছে দেশটির ভূমি ব্যবস্থাপনায় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ। চীনের জমিতে ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত ছিল না।

ফলে কোনো কারণে ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে রাষ্ট্র তা সহজেই করতে পারত। সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার পতন ঘটলে চীনও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসে। তবে তারা পশ্চিমা বিশ্বের ধাঁচে সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টিকারী পুঁজিবাদী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

বরং তারা মুক্তবাজার অর্থনীতি অনেকটা তাদের নিজেদের মতো করে অনুসরণ করছে। চীন এমনভাবে শিল্পায়ন প্রক্রিয়াকে ঢেলে সাজিয়েছে যে তা তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ সুগম করেছে। চীন টিভিই (টাউন-ভিলেজ এন্টারপ্রাইজ) নামে এক ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।

এটি শহর ও গ্রামের উদ্যোক্তাদের মাঝে এক ধরনের লিঙ্কেজ তৈরি করেছে। চীন এমনভাবে শিল্পজাত পণ্য উৎপাদন করছে যে তা একইসঙ্গে উচ্চবিত্ত শ্রেণি এবং সাধারণ পর্যায়ের গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করতে পারে। সারা বিশ্বেই চীনা পণ্যের কদর রয়েছে। বিশ্বব্যাপী ভোক্তাদের একটি সাধারণ প্রবণতা হচ্ছে, তারা তুলনামূলক স্বল্পমূল্যে পণ্যসামগ্রী ক্রয় করতে চান। তাই এমন একটি দেশও নেই যেখানে চীনা সস্তা পণ্য পাওয়া যায় না।

আমরা যদি দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে তাকাই তাহলে কী দেখতে পাই? এক সময় দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্ব অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তারা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন, আয় বৈষম্য হ্রাসকরণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সমর্থ হয়েছিল।

যদিও দেশটিতে গণতন্ত্র ছিল অনুপস্থিত এবং ব্যাপকমাত্রায় দুর্নীতি হচ্ছিল। দক্ষিণ কোরিয়া এখনও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপকমাত্রায় বিনিয়োগ করে চলেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার উৎপাদনশীল শ্রমিক শ্রেণি অত্যন্ত পরিশ্রমী। তারা জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ। আমরা যদি গভীরভাবে লক্ষ করি তাহলে দেখব, এক সময় একই দেশের অংশ হওয়া সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার মতো অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এতটা সাফল্য দেখাতে পারেনি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে প্রতাপশালী সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খান প্রায় ১০ বছর পাকিস্তান শাসন করেছিলেন। তার শাসনামলে দেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্র ছিল না। সমাজের সর্বস্তরে ব্যাপকমাত্রায় দুর্নীতি বিরাজমান ছিল।

এ অবস্থাতেও তৎকালীন পাকিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছিল। জেনারেল আইয়ুব উন্নয়নের এক দশক পালন করেছিলেন; কিন্তু সে সময় গণতন্ত্র, মানবাধিকার ছিল সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। আইয়ুব খানের এক দশকের শাসনামলে দেশের রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নতি হয়েছিল।

কিছুদিন আগেও দেশের গ্রামাঞ্চলে আইয়ুব খান আমলে তৈরি রাস্তা ও ব্রিজের উপস্থিতি লক্ষ করা যেত। এমনকি স্বাধীনতার পর সামরিক শাসনামলে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অনুপস্থিতি এবং ব্যাপকমাত্রায় দুর্নীতির মাঝেও ব্যাপক উন্নতি হয়েছিল। বিশেষ করে রাস্তাঘাট ও ব্রিজ-কালভার্ট তৈরির ক্ষেত্রে উন্নতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

গণতন্ত্র অনেক সময় উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। গণতান্ত্রিক সরকার জনমত, বিশেষ করে দলীয় সমর্থকদের সবসময় উপেক্ষা করতে পারে না। কোনো উন্নয়ন কর্মসম্পাদন করতে গেলেই দলীয় সমর্থকরা নানা অজুহাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

যেমন আড়িয়ল বিলে একটি বিশ্বমানের বিমানবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল; কিন্তু স্থানীয়দের বিরোধিতার কারণে শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরটি হয়নি। গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত থাকার কারণে সরকার জনমত উপেক্ষা করতে পারেনি।

সেদিন কথা প্রসঙ্গে একজন অধ্যাপক বলছিলেন, হাতিরঝিল প্রকল্প যদি সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা না হতো, তাহলে এখন এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না। কারণ এ প্রকল্পের আশপাশের জমির মালিকরা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করত। সেই চাপ উপেক্ষা করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

কাজেই গণতন্ত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের একমাত্র শর্ত নয়। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণতন্ত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে কিছুটা হলেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে থাকে, যা আগেই বলেছি। তবে এর মানে এই নয় যে, গণতন্ত্র সর্বোত্তম ব্যবস্থা নয়।

গণতন্ত্রহীনতা যে কোনো দেশে অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে এবং এ কারণেও ব্যাহত হতে পারে উন্নয়ন। অন্যদিকে দুর্নীতির ব্যাপক উপস্থিতি উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষ করে দুর্নীতির কারণে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল ন্যায্যতার ভিত্তিতে জনগণ ভোগ করতে পারে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলছে। এ অভিযান বিভিন্ন মহলে নানাভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এ অভিযানের মাধ্যমে দেশের একটি দুর্নীতিবাজ চক্রের মুখোশ খুলে গেছে।

দলীয় নেতাদের মধ্যে যারা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন তারা ভাবতেও পারেননি, এমন দুর্দিন তাদের জীবনে আসতে পারে। যেসব ব্যক্তি প্রতি রাতে লাখ লাখ টাকা ক্যাসিনোর মাধ্যমে আয় করতেন, তাদের এ অবৈধ উপার্জনের অর্থও তো জাতীয় অর্থনীতিতে কোনো না কোনোভাবে মূল্য সংযোজন করত। তারা হয়তো মনে করেছিলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেগবান রয়েছে।

এ অবস্থায় কেউ হয়তো তাদের বিরুদ্ধে কিছু করবে না। কিন্তু তাদের শেষরক্ষা হয়নি। যারা বেশি সচেতন, তারা উপার্জিত অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচার করেছিলেন। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে কত টাকা বিদেশে পাচার হয় তার সঠিক হিসাব কেউই দিতে পারবেন না।

ক’দিন আগে দেখলাম একজন লিখেছেন, ‘টাকা পাচার বন্ধ করা গেলেই দুর্নীতি বন্ধ হবে।’ কিন্তু এ বক্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। কারণ টাকা পাচার করা যাবে কী যাবে না তা ভেবে কেউ দুর্নীতি করে না। দুর্নীতির উদ্দেশ্য কখনও টাকা পাচার হতে পারে না।

টাকা পাচার বন্ধ হলে দুর্নীতি বন্ধ হবে না বরং দুর্নীতি বন্ধ হলে টাকা পাচার বন্ধ হতে পারে। অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের রাস্তা বন্ধ করতে হবে অথবা উপার্জিত অর্থ তা বৈধ বা অবৈধ যাই হোক না কেন, তা ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে টাকা পাচার বন্ধ করা যাবে না কোনোভাবেই।

এম এ খালেক : অর্থনীতিবিষয়ক কলাম লেখক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×