দৃষ্টিপাত
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সরকারের আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্র্রীয় সফরে জাপান ঘুরে এলেন। তার এ সফর কোনো সাধারণ দ্বিপাক্ষিক শুভেচ্ছা সফর ছিল না। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার জন্যই এ সফর। এ সফরকালে মোট ৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট ২১টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণে জরুরি সহায়তা ঋণ কর্মসূচির আওতায় জাপান বাংলাদেশকে ৫০ বিলিয়ন ইয়েন সহায়তা দিয়েছে। দুটি প্রকল্পে প্রায় ২৯ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশে জাপানের ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন সমতুল্য ৭৭ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জাপানের সম্ভাব্য এ বিনিয়োগের ফলে বাংলাদেশে ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপান হচ্ছে একক দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে দেওয়া সর্ববৃহৎ ঋণের জোগানদার। বাংলাদেশকে দেওয়া জাপানি ঋণের বর্তমান স্থিতির পরিমাণ ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন সমতুল্য ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। এ ঋণের সুদের হার শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ১০ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ থেকে ৪০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তবে এ সফর ছিল মূলত অর্থনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের একটি কৌশল মাত্র। বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে যে পর্যায়ে রয়েছে, তাতে আগামীতে আমাদের বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে হবে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আমাদের উন্নয়ন কৌশল সময়োপযোগী করে ঢেলে সাজাতে হবে। সম্ভাব্য অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ বাংলাদেশ গত ৫ বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি প্রবণতা মোকাবিলা করে চলেছে। এ পরিস্থিতি থেকে খুব সহসাই উত্তরণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। উচ্চ মূল্যস্ফীতিকালীন সাধারণত ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়; কিন্তু বাংলাদেশে ঘটছে সম্পূর্ণ উলটো ঘটনা। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ধারণা করছে, বাংলাদেশ অচিরেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি, স্বল্প বিনিয়োগ ও মন্থর জিডিপি প্রবৃদ্ধির ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে। এ অবস্থার সৃষ্টি হলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়ে দারিদ্র্যবিমোচন কার্যক্রমকে মন্থর করে দেবে। রাজস্ব আহরণের পরিমাণ কমতে থাকবে। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা স্থবির হয়ে পড়বে। একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ যুদ্ধের অংশ নয়। কিন্তু তারপরও যুদ্ধের প্রভাব আমাদের অর্থনীতিতে নানাভাবে প্রভাব ফেলছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করতে হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জনশক্তি রপ্তানি কার্যক্রম বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের কর্মক্ষেত্র ত্যাগ করে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। যারা আগে দেশে এসেছিলেন ছুটিতে, তারা পুরনায় কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারছেন না। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স। পরিস্থিতির যেভাবে অবনতি ঘটছে, তাতে মনে হচ্ছে, আগামীতে মধ্যপ্রাচ্যের জনশক্তির বাজার সংকুচিত হতে পারে। বাংলাদেশ প্রতিবছর যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ব্যবহার করে, তার প্রায় পুরোটাই মাধ্যপ্রচ্যের দেশগুলো থেকে আমদানিকৃত। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদি তেমনটি ঘটে, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য।
ইন্টারন্যাশনাল মানিটারিং ফান্ড (আইএমএফ) বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি নিয়ে যে প্রাক্কলন প্রকাশ করেছে, তাতে সংকটের আশঙ্কা প্রবল বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, চলতি অর্থবছরে (২০২৬-২৭) বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে যেতে পারে। পরবর্তী দুই বছর যথাক্রমে ২ দশমিক ২ শতাংশ এবং ২ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে। চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ শতাংশ। এটা অর্জিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আইএমএফের প্রাক্কলন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের প্রবৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির কাছাকাছি থাকবে। একমাত্র বাংলাদেশেই প্রবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি অসহনীয় পর্যায়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রবৃদ্ধি হ্রাস, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়ে যাওয়ার ফলে দেশে দারিদ্র্যবিমোচন কার্যক্রম বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। গত অর্থবছরে ১৯ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। এ নিয়ে গত ৪ বছরে মোট ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেল। আয়বৈষম্য প্রকটভাবে বাড়ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থার সৃষ্টি করেছে মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না, বরং কমছে। ফলে সাধারণ নিম্নআয়ের এবং নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ আরও অসহায় অবস্থার মধ্যে পতিত হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম দুর্বল খাত হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে ব্যাংক খাতকে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এ খাতে যে দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকে উত্তরণের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ২ শতাংশ। এখন তা ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বিপুল পরিমাণ অবলোপনকৃত ঋণ, পুনঃতফসিলকৃত ঋণ এবং মামলাধীন প্রকল্পগুলোর কাছে পাওনা ঋণের পরিমাণ যোগ করলে নন-পারফর্মিং লোনের পরিমাণ ১০ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি চলে যাবে। খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংক খাত উদ্যোক্তাদের চাহিদাকৃত ঋণের জোগান দিতে পারছে না। এদিকে জ্বালানি তেলের দুষ্প্রাপ্যতা, উৎপাদন উপকরণের উচ্চমূল্যসহ নানা কারণে বিদ্যমান কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমে গেছে। অনেক কারখানা তাদের কর্মী ছাঁটাই করেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মঘণ্টা কমিয়ে বা কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে ব্যয় সাশ্রয় করার চেষ্টা করছে।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে অভ্যন্তরীণ খাতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য সীমিতসংখ্যক পণ্য ও অল্প কিছু দেশের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। বাংলাদেশ প্রতিবছর যে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করে, তার প্রায় ৪০ থেকে ৪৩ শতাংশ আসে চীন ও ভারত থেকে। আর বাংলাদেশের মোট রপ্তানি পণ্যের মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ যায় চীনে ও ভারতে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যথাক্রমে ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ এবং ১৮ থেকে ২০ শতাংশ পণ্য রপ্তানি করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ আমদানি করে মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ পণ্য।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতি অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। একইসঙ্গে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ‘লুক ইস্ট’ নীতি অনুসরণ করা যেতে পারে। পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। ১৯৮১-৮২ অর্থবছরে মালয়েশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মোহাম্মদ সর্বপ্রথম লুক ইস্ট নীতি অনুসরণ করেন। দেশটি এ নীতি অনুসরণ করে রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে। পরবর্তী সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাও ১৯৯১ সালে লুক ইস্ট নীতি গ্রহণ করেন। তারাও রপ্তানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন। ২০০২ সালে বাংলাদেশ ‘লুক ইস্ট’ নীতি গ্রহণ করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এ নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়নি। এ মুহূর্তে লুক ইস্ট নীতি জোরদার করার পাশাপাশি বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিতে হবে।
তবে সবার আগে আমাদের রপ্তানিপণ্য তালিকা বহুমুখীকরণ করতে হবে। বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের ৮৫ শতাংশজুড়ে রয়েছে তৈরি পোশাক। এই একটিমাত্র পণ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি দিন টিকে থাকা যাবে না। এছাড়া তৈরি পোশাকশিল্প আমদানিকৃত কাঁচামালনির্ভর বলে এ খাত জাতীয় অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন করে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ। স্থানীয় কাঁচামালনির্ভর পণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নিতে হবে। দুটি দেশ যদি একই ধরনের পণ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের মধ্যে আন্তঃবাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম থাকে। যেমন-ভিয়েতনাম আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগী। এ অবস্থায় বাংলাদেশ যদি ভিয়েতনামের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি করতে চায়, সেটা খুব একটা ভালো ফল দেবে না। বাংলাদেশকে এমন পণ্য ভিয়েতনামে রপ্তানি করতে হবে, যে পণ্য দেশটিতে উৎপাদিত হয় না। অর্থাৎ রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য দুটি দেশের রপ্তানি পণ্যে ভিন্নতা থাকতে হবে। অন্যথায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে না। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আমাদের রপ্তানি পণ্য তালিকা বিচিত্র পণ্য দ্বারা ঢেলে সাজাতে হবে। বাংলাদেশ ২০২৯ সালে উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত তালিকায় উত্তীর্ণ হবে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেওয়া জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহৃত হবে। সেই অবস্থায় বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বছরে ৬ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার কমে যাবে।
এ অবস্থায় আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। আবেগ দিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চলে না। বিকল্প পণ্য নিয়ে উপস্থিত হতে না পারলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়। বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। নতুন নতুন পণ্য রপ্তানি তালিকায় স্থান দিতে হবে। এভাবেই সংকট উত্তরণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী : প্রফেসর ইমেরিটাস, সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত

