শ্রীলংকায় ক্ষমতার পালাবদল আঞ্চলিক মেরুকরণে প্রভাব ফেলবে কি?
Advertisement
এ কে এম শামসুদ্দিন
প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
১৬ নভেম্বর দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়ে গেল। নির্বাচনে শ্রীলংকা পিপলস ফ্রন্টের (এসএলপিপি) গোতাবায়া রাজাপাকসে ৫২ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেয়ে শ্রীলংকার সপ্তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয়লাভ করেছেন।
তিনি শ্রীলংকার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ছোট ভাই। মাহিন্দা রাজাপাকসে ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার শাসনামলে গোতাবায়া দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গোতাবায়া শ্রীলংকা সেনাবাহিনীর একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা। তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবির কর্মকর্তা থাকাকালীন সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করে রাজনীতি শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে নিজেকে একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
মাহিন্দা রাজাপাকসের শাসনামলে তিনি যখন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তখন শ্রীলংকার সেনাবাহিনী তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উৎখাত করে ২৬ বছর ধরে চলে আসা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটায়। কথিত আছে, তামিল টাইগারদের দমনকালে আনুমানিক ৪০ হাজার তামিল বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে মাহিন্দা রাজাপাকসের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে গোতাবায়া সে অভিযোগের দায়ভার এড়াতে পারেন না। গোতাবায়ার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) প্রধান সাজিথ প্রেমাদাসা পেয়েছেন ৪১ দশমিক ৯৯ শতাংশ ভোট। তিনিও রাজনৈতিক পরিবারের একজন সদস্য। সাজিথ প্রেমাদাসা শ্রীলংকার সাবেক প্রেসিডেন্ট রানাসিংহ প্রেমাদাসার পুত্র।
শ্রীলংকায় ক্ষমতার পালাবদলের কারণে দেশটির অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায় গুণগত কী পরিবর্তন হল এবং এ পরিবর্তনের ফলে গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় এর প্রভাব কতটুকু অনুভূত হবে তা এখন দেখার বিষয়। মাহিন্দা রাজাপাকসের পরপর দুই কিস্তির শাসনামলে তার তিন ভাই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও সংসদের স্পিকারের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ আছে। সীমাহীন দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে ২০১৫ সালের নির্বাচনে যে জনগণ তাদের বর্জন করেছিল, সেই জনগণই এবারের নির্বাচনে রাজাপাকসের পরিবারের অন্যতম সদস্য গোতাবায়াকে দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর হিসেবে বেছে নিল। শ্রীলংকার ২ কোটি ২০ লাখ জনগণের মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ ভোটার। সে দেশে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হতে একজন প্রার্থীকে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে হয়। নির্বাচনী শর্ত পূরণ করেই গোতাবায়া শ্রীলংকার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। গোতাবায়ার মূল শক্তি ছিল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষের সমর্থন। সংখ্যালঘু জনগণের ভেতর সাজিথ প্রেমাদাসার চেয়ে গোতাবায়া রাজাপাকসের জনপ্রিয়তা তুলনামূলকভাবে কম। এ কারণে এবারের নির্বাচনে গোতাবায়ার মূল লক্ষ্য ছিল সিংহলিদের সমর্থন আদায় করা।
সে হিসেবে তিনি শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছেন। তবে এ ক্ষেত্রে শ্রীলংকার সার্বিক পরিস্থিতি এবং গোতাবায়া ও তার দলের নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজি যে নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে তাতে সন্দেহ নেই। গত ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডেতে কলম্বোসহ অন্য কয়েকটি শহরের তিনটি গির্জা ও হোটেলে একইসঙ্গে সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনা এবং ঘটনা-উত্তর পরিস্থিতি নির্বাচনে গোতাবায়ার সাফল্যের পক্ষে কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এপ্রিলের ঘটনার পর সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে এক অভাবিত ঐক্য লক্ষ করা গেছে।
সন্ত্রাসী ঘটনার পরপর গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎকালীন সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে যে ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন তা দ্বীপরাষ্ট্রটির রাজনৈতিক ময়দানে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছিল। এবারের নির্বাচনে প্রচার অভিযানের শুরু থেকেই জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুকে সামনে এনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প এবং ভারতের মোদির পথ অনুসরণ করে শ্রীলংকা পিপলস্ ফ্রন্টের গোতাবায়াও মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে জাতিগত ঘৃণার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিয়েছিলেন বেশ কায়দা করে। এতে ফলও পেলেন হাতে-হাতে। এ ছাড়া দীর্ঘ ২৬ বছরের রক্তস্নাত গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে গোতাবায়া ও তার দল ইতিমধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সিংহলি মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলেন।
শ্রীলংকা মূলত বৌদ্ধপ্রধান একটি রাষ্ট্র। মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশই বৌদ্ধ, যাদের অধিকাংশই হল সিংহলি। তাছাড়া, ১২ শতাংশ হিন্দু, ১০ শতাংশ মুসলিম এবং ৭ শতাংশ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নাগরিক। ১২ শতাংশ হিন্দুর মধ্যে জাতিগতভাব বেশিরভাগই তামিল সম্প্রদায়ের; যারা মূলত শ্রীলংকার উত্তর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বসবাস করে। শ্রীলংকার সংখ্যালঘুদের ভেতর ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির জনপ্রিয়তা তুলনামূলকভাবে বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের বেশিরভাগ ভোট পড়েছে সাজিথ প্রেমাদাসার পক্ষে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর স্বাভাবিক কারণেই সংখ্যালঘু নাগরিকদের ভেতর ভীতির সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম ও তামিল সম্প্রদায়ের মানুষ গোতাবায়া ক্ষমতায় ফিরে আসায় কিছুটা বেকায়দায় পড়ে গেল বলে মনে হচ্ছে। এরকম মনে করার যথেষ্ট কারণও আছে। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা প্রয়োজন, ইস্টার সানডের নৃশংস ঘটনার পর মুসলিমদের ওপর যে দমন-পীড়ন শুরু হয়েছিল তা অদ্যাবধি জারি আছে।
অবশ্য মুসলিমদের ওপর এ ধরনের আচরণ ইস্টার সানডের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়নি, এর গোড়াপত্তন হয়েছিল অনেক আগেই। ২০১১ সালে গোতাবায়ার ভাই মাহিন্দ রাজাপাকসের শাসনামলে সিংহলি জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ মঙ্করা মুসলিমদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েটি উগ্রবাদী মিছিল ও মিটিংয়ের আয়োজন করেছিল যা শেষ পর্যন্ত রায়ট বা দাঙ্গায় রূপলাভ করেছিল। কথিত আছে, সিংহলি বৌদ্ধ মঙ্ক ও সংসদ সদস্য আথুরালিই রাথানা মুসলিমবিরোধী সে অভিযানে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ ধর্মান্ধ বৌদ্ধ মঙ্ক এতটাই মুসলিমবিদ্বেষী যে তিনি মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি মসজিদ চিরতরে বন্ধ করে দেয়ার দাবি উত্থাপন করেন। মুসলিম রাজনৈতিক নেতারা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত আছে কিনা তার তদন্তও দাবি করেন।
তার এ অন্যায্য দাবির জের ধরেই দু’জন মুসলিম প্রাদেশিক গভর্নর ও একজন মন্ত্রী জোরপূর্বক পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। যদিও রাথানার এ দাবি অদ্যাবধি প্রমাণিত হয়নি এবং এতদসংক্রান্ত একটি মামলা আদালতের স্থগিতাদেশে এখনও আটকে আছে। শ্রীলংকার কিছু রাজ্যের পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে, সেখানকার মুসলিমরা মনে করেন সমাজে তারা নিগৃহীত এবং পরিকল্পিতভাবে অন্যান্য সম্প্রদায় থেকে আলাদা করে তাদের একঘরে করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের উপলব্ধি, অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ বিশেষ করে সিংহলি বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা মুসলিমদের শত্রুভাবাপন্ন দৃষ্টিতে দেখে থাকে। ব্যবসা-বাণিজ্যে ও অন্যান্য লাভজনক বিষয়েও মুসলিমদের বর্জনের এক ধরনের যে পাঁয়তারা চলছে তা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রায়ই দেখতে পাওয়া যায়।
মাহিন্দ রাজাপাকসের আমলে হাজার হাজার তামিল নাগরিকের গুম হয়ে যাওয়া, কারাগারে বন্দি থাকাকালীন নির্যাতন করে হত্যা এবং লাশ পুড়িয়ে ফেলা ইত্যাদির দুঃস্বপ্ন আজও তামিল হিন্দুদের তাড়িয়ে বেড়ায়। উল্লেখ্য, মাহিন্দ রাজাপাকসের আমলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন তামিলদের দমনে নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালানোর জন্য নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি গোতাবায়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলা রয়েছে। এ ছাড়াও সেসময় সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যা এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের গুম করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে আরও দুটো মামলা আছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, গোতাবায়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়া সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ কোনো সুখবর বয়ে নিয়ে আসেনি।
ভারত মহাসাগরে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের মধ্যে যে ইঁদুর লড়াই চলে আসছিল, রাজাপাকসে পরিবার আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসায় ভারত সে লড়াইয়ে আপাতত পিছিয়ে পড়ল বলেই মনে হচ্ছে। ভারত ও চীন উভয়েই দীর্ঘদিন ধরে শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ দেশ দুটোকে নিজেদের কব্জায় রেখে ভারত মহাসাগরের বাণিজ্যিক পথের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কারণ তারা বিশ্বাস করে, সমুদ্রপথের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ কারণে উভয়ের চেষ্টা থাকে এ দুটো দেশে তাদের আশীর্বাদপুষ্ট ব্যক্তিই যেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকেন। চীন এ ক্ষেত্রে মালদ্বীপের বিগত নির্বাচনে তাদের পছন্দের ব্যক্তি সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল্লাহ ইয়ামিনের পরাজয়ের প্রতিশোধ যেন শ্রীলংকার গোতাবায়া রাজাপাকসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয়লাভের মাধ্যমে আদায় করে নিল। স্মরণ করা যেতে পারে, মালদ্বীপের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবদুল্লাহ ইয়ামিনের বিরুদ্ধে ভারতপন্থী ইব্রাহীম মোহাম্মদ সলিহ জয়লাভ করেছিলেন। সন্দেহ নেই, গোতাবায়া রাজাপাকসে চীনের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। উল্লেখ্য, গোতাবায়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন তামিলদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চীন এককভাবে শ্রীলংকার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। গোতাবায়া নির্বাচনের আগে ঘোষণা করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলে চীনের সঙ্গে শ্রীলংকার সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করবেন। চীনের সমুদ্র সিল্ক রোড প্রকল্পের অন্যতম সদস্য হল শ্রীলংকা এবং এ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল শ্রীলংকার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত কৌশলগত বন্দর হাম্বানটোটা। চীন এরই মধ্যে এ বন্দর এবং তদসংলগ্ন ১৫ হাজার একর জমি ৯৯ বছরের জন্য লিজ নিয়ে ফেলেছে। এ বন্দরটি চীন মূলত সাবমেরিনসহ সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের রিফুয়েলিং ও অন্যান্য প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। চীন এ অঞ্চলে তার সামরিক প্রভাব বিস্তারে শ্রীলংকাকে সম্পৃক্ত করে এক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে চায়।
তারই নিদর্শনস্বরূপ চলতি বছরের জুলাই মাসে শ্রীলংকাকে একটি যুদ্ধজাহাজ উপহার দিয়ে শ্রীলংকার সঙ্গে তাদের সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে বলে মনে হয়। এ রকম পরিস্থিতিতে চীন সমর্থক গোতাবায়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ ভারতের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকরও বটে। গোতাবায়ার জয়লাভে ভারত মনঃক্ষুণ্ণ হলেও কূটনৈতিক অনুশীলনের অংশ হিসেবে মোদি শ্রীলংকার নতুন প্রেসিডেন্টকে যথারীতি অভিনন্দন জানিয়েছেন। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য শ্রীলংকার কিছু কিছু রাজনৈতিক দল ও নেতা ভারতের মুখাপেক্ষী হলেও শ্রীলংকার সাধারণ মানুষ ভারতকে কখনও ভালো বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে পারেনি। দীর্ঘমেয়াদি গৃহযুদ্ধ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ভারতের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা আছে বলে শ্রীলংকার মানুষ মনে করে। উল্লেখ্য, ইস্টার সানডের সন্ত্রাসী ঘটনায় ব্যবহৃত বিস্ফোরক দ্বীপরাষ্ট্রটির ওপার থেকেই সরবরাহ করা হয়েছে বলে তারা বিশ্বাস করে।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দুটি দেশ ভারত ও শ্রীলংকায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদলে যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে তাতে আপাতত মনে হচ্ছে দেশ দুটোর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। কাশ্মীরকে নিয়ে ভারতের সর্বশেষ পদক্ষেপ, এনআরসির নামে আসামসহ অন্যান্য রাজ্যে মুসলিম বিতাড়নের নীলনকশা এবং পার্শ্ববর্তী মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের ভাগ্য নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলা চলছে তাতে এ ভূখণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশও যে খুব স্বস্তিকর পরিস্থিতিতে আছে তা বলা যায় না। রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে বাংলাদেশ এরই মধ্যে এক সংকটকাল অতিক্রম করে চলেছে। অতএব এ সার্বিক পরিবেশে আগামীতে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তা দেখার জন্য হয়তো আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা
