নিজের সুরক্ষার চিন্তা নিজেকেই করতে হবে
jugantor
নিজের সুরক্ষার চিন্তা নিজেকেই করতে হবে

  এ কে এম শাহনাওয়াজ  

০৬ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মারাত্মক আকারে দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে ঠাঁই নেই। খালি নেই অধিকাংশ আইসিইউ বেড। শ্বাসকষ্ট নিয়ে অনেকে প্রায় বিনা চিকিৎসায় ছটফট করে মারা যাচ্ছে।

সেদিন এক টিভি চ্যানেলে একজন ডাক্তার বলছিলেন, কোভিডের লক্ষণ নিয়ে অনেকে হাসপাতালে আসছেন; কিন্তু হাসপাতালগুলোর সেবাদানের সীমাবদ্ধতার কারণে তারা মারা গেলে কোভিড আক্রান্তের তালিকায় আসছেন না। এ মৃত ব্যক্তিরা যদি কোভিড আক্রান্ত হয়েই মারা গিয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে মৃত্যুর তালিকা আরও বড় হতে পারে।

তবে কোভিড পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন সচেতনতা দেখা যাচ্ছে না। কোভিড ছড়িয়ে যাওয়ার পেছনে এটি অন্যতম কারণ হতে পারে। সরকারের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে নীতিনির্ধারণে কেমন যেন দোদুল্যমান অবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির ১৮ দফা প্রতিপালনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। একটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় যেন সবাই। এর মধ্যে এখন বিশেষ ধরনের লকডাউন পরিস্থিতিতে আছে দেশবাসী।

এমন এক অবস্থায় এক সপ্তাহের ‘হাফ লকডাউনে’ কী উপকার হবে, কেউ জানে না। হয়তো সময়ের প্রেক্ষাপটে লকডাউনের পরিধি আরও বাড়বে। গত বছরের অভিজ্ঞতা হলো, লকডাউনের প্রতিক্রিয়ায় লাখ লাখ মানুষ গ্রামে চলে গিয়েছিল। সম্ভবত সেই আশঙ্কায় সরকার লকডাউন ঘোষণা নিয়ে দ্বিধায় ছিল; কিন্তু বাঙালি অত বোকা নয়!

৩ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এক সপ্তাহের লকডাউনের আভাস দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক টিভি চ্যানেলে দেখলাম, গাবতলী বাস টার্মিনাল লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে। শুরু হয়ে গেছে গ্রামমুখী জনস্রোত। এর পেছনে অবশ্য রূঢ় বাস্তবতাও রয়েছে। একজন যাত্রী বলছিলেন, লকডাউনে কাজ বন্ধ হলে তাদের ঢাকা শহরে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। তাই বাড়িতে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

সরকারের কোনো কোনো সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষকে অনেকটা বিভ্রান্তিতে ফেলেছে। কোভিড সংক্রমণের ভয়ে সরকার এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। অনলাইনে ক্লাস নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যার যার সুবিধামতো পরীক্ষাও নিচ্ছিল। এরই মধ্যে হঠাৎ সরকার সব ধরনের পরীক্ষা নেওয়া বন্ধ করে দিল। বুঝলাম, জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে অমন সিদ্ধান্ত হয়তো নিতে হয়েছে। তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে অনার্স-মাস্টার্সের ফাইনাল পরীক্ষা প্রায় শেষ করে ফেলেছিল।

অনেক ক্ষেত্রে একটা-দুটো পরীক্ষা অথবা মৌখিক পরীক্ষা বাকি; তখনই এক ঘোষণায় সব পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হলো। অসংখ্য শিক্ষার্থী অল্পের জন্য ঝুলে গেল। বুঝতে হবে, এক বছর করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে। কিছুটা জোড়াতালিতে হলেও অনলাইন ক্লাসে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল শিক্ষা কার্যক্রম। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ যেভাবে চোখ রাঙাচ্ছে, তাতে এ শিক্ষাবর্ষটিতেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে কিনা আমরা জানি না।

সুতরাং ক্লাস ও পরীক্ষার জন্য অনলাইনের ওপরই হয়তো নির্ভর করতে হবে। অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় অ্যাপস ব্যবহার করে আশি থেকে নব্বই শতাংশ সাফল্যের সঙ্গে নির্ধারিত সেমিস্টারে ক্লাস-পরীক্ষা সম্পন্ন করে আসছিল। তাই সেখানে সেশনজট নেই। বাস্তবতা বিচার না করে ইউজিসি হঠাৎ জানিয়ে দিল কোনো পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। তাই বাধ্য হয়ে এসব বিশ্ববিদ্যালয় লুকোচুরি খেলার মতো করে পরীক্ষা শব্দ বাদ দিয়ে ভিন্ন শব্দে পরীক্ষা নিয়ে বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছে।

সরকারি নীতি যদি এতটাই কঠোর হয়, তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর কী বিবেচনায় বিসিএস পরীক্ষা নিতে হলো, তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন পরীক্ষার্থীর জবানি ছিল এমন-পরীক্ষার আগের দিন তার করোনা লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। করোনা পরীক্ষার নমুনা দিয়ে বিসিএস পরীক্ষায় বসে। পরীক্ষা শেষে রিপোর্ট নিয়ে দেখে তার করোনা পজিটিভ হয়েছে। আমাদের আশঙ্কা, এমন অনেক ঘটনাই হয়তো ছিল।

তাহলে শুধু সাধারণ মানুষের অসতর্কতার দোষ দিয়ে লাভ কী? করোনা সংক্রমণ ছড়াতে সরকারি নীতির ভূমিকা কি কম? ঠিক একইভাবে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা যখন লাফিয়ে বাড়ছিল এবং সব পাবলিক পরীক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত; তখন খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে ফেলল মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা। আর তাতে স্বাস্থ্যবিধি না মানার ভয়ংকর অবস্থা তো সংবাদমাধ্যমে আমরা প্রত্যক্ষই করেছি। এভাবে সরকার পক্ষই তাদের বিশেষজ্ঞ কমিটির ১৮ দফাকে অমান্য করেছে।

এসব দেখে সাধারণ মানুষ যারা ঘরবন্দি থাকতে চায় না এবং নিজের নাক-মুখকেও মাস্কে বন্দি করতে চায় না, তারা নিজেদের আচরণের পক্ষে যুক্তি খুঁজে পাবে। তবে এমন ভয়ংকর অবস্থায় সরকার আপাতত সাত দিনের বিশেষ ধরনের লকডাউন ঘোষণা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাকে সাধুবাদ জানাতেই হয়; যদিও এর কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। অবশ্য ইতোমধ্যে বেশকিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরকারপক্ষ ও বিশেষজ্ঞ কমিটি যে করোনা মোকাবিলায় যথেষ্ট চিন্তা করছে না, তেমন নয়। তবে এক বছরের দুঃসহ অভিজ্ঞতার পর এতটা বিভ্রান্ত অবস্থা কাম্য ছিল না।

দু-তিন মাস আগে থেকে যখন করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসছিল, তখনই তো আমরা দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার কথা শুনছিলাম। তাহলে সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষ কতটা অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করল? এক বছর আগে করোনা শুরুর পর না হয় থলের বেড়াল বের হয়েছিল; করোনার চেয়েও ভয়ংকর স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্নীতির চিত্র উন্মোচিত হয়েছিল। এ এক বছরেও কি এর সংশোধন করা যায়নি? প্রায় ১৮ কোটি মানুষকে রক্ষা করার প্রস্তুতি কোথায়? আজ কেন শুনতে হচ্ছে হাসপাতালগুলোতে জায়গা নেই! আইসিইউ ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছে না! অনেক দুর্ভাগা মানুষ সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে ছটফট করে মারা যাচ্ছে! এর জবাব কি আছে সরকারপক্ষের কাছে?

মৃত্যুহার দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় অনন্যোপায় হয়ে সরকার গণপরিবহণে পঞ্চাশ ভাগ সিট ফাঁকা রাখার নির্দেশ জারি করে। এর পরবর্তী বাস্তবতা সরকারের না জানার কথা নয়। কারণ এ অভিজ্ঞতা গত বছরও হয়েছিল। সরকার পক্ষের জানার কথা, চারপাশে লকডাউন পরিস্থিতি নেই। যদি তা থাকত, তাহলে অফিস-আদালত, শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু নিশ্চয়ই খোলা থাকত না। রাজধানীর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের ভরসা গণপরিবহণ। জনশ্রুতি আছে, দেশের বেশিরভাগ গণপরিবহণের মালিক রাজনীতিক ও রাজনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

এরা পঞ্চাশ শতাংশ সিট ফাঁকা রাখার বিনিময়ে ষাট শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর আবদার জানালেন। আমরা ভেবেছিলাম, তারা বোধহয় দরকষাকষির অবকাশ রেখেছেন; কিন্তু বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম, সরকার রাতারাতি ষাট শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির দাবি মেনে নিল। বাস্তব ক্ষেত্রে গণমাধ্যম দেখাচ্ছে-কোনো কোনো পরিবহণ শুরু থেকেই নিজ উদ্যোগে ষাটের বদলে শতভাগ ভাড়া বাড়িয়ে ফেলেছে। পঞ্চাশ শতাংশ আসন ফাঁকা রাখার কড়াকড়িও মানা হচ্ছে না।

এ ঘোষণার আগে সরকার পক্ষের অবশ্যই উচিত ছিল-পঞ্চাশ ভাগ বাড়তি বাসের ব্যবস্থা রাখা। তা না করে মালিকপক্ষের আবদার পূরণ করেই নিশ্চিন্ত রইল সরকারপক্ষ। এদিকে হাজার হাজার পেশাজীবী যানবাহন না পেয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মুখোমুখি হলো। বাসস্টপে একটি বাস আসার পর যেভাবে হুড়োহুড়ি করে উঠতে দেখছি, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি উপেক্ষিত। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বাসে যারা যাতায়াত করেন, তাদের অধিকাংশেরই বাজেট সীমিত। তারা প্রতিদিন এ বিশাল বাড়তি ভাড়া জোগাবেন কেমন করে! জনবান্ধব সরকার হলে নিশ্চয়ই এ ভর্তুকি সরকার বহন করত।

তাহলে গরিবকে শায়েস্তা করাই কি সরকারপক্ষের টার্গেট? নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী জানালেন, লঞ্চে ষাট ভাগ ভাড়া বৃদ্ধি পাবে। তবে কেবিনের ভাড়া বৃদ্ধি পাবে না। অর্থাৎ ডেকের গরিব যাত্রীরাই বাড়তি ভাড়া গুনবে। গণমাধ্যম তো দেখাল-বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে; যদিও লঞ্চের ডেকগুলোয় ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। মানুষ বসছে গাদাগাদি করেই।

কয়েকজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মন্তব্য প্রায় প্রতিদিনই নানা টিভি চ্যানেলে শুনে আসছি। গণপরিবহণে আসন সীমিত রাখার পাশাপাশি তারা কিন্তু পরবর্তী সংকটগুলোর কথা বলেননি। উপরে উল্লিখিত সংকটে কোভিড ছড়ানোর আশঙ্কার কথাও তারা বলেননি। তাতে অনেকে মনে করেন, এ সম্মানিত বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই হয়তো গণপরিবহণে চড়ার অভিজ্ঞতা নেই।

ঢাকা শহরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে সংসার চালান। এক ঘোষণায় রাইড শেয়ারিং বন্ধ হলো। মানলাম, কোভিড ছড়ানো বন্ধ করার জন্য এমন সিদ্ধান্ত জরুরি ছিল। কিন্তু এসব অসহায় মানুষের সংসার নির্বাহের বিকল্প কোনো পথ সরকার দেখাতে পারেনি। অনুদানের ঘোষণাও আসেনি। এতে নানারকম সংকট তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

কোভিড সংকটকালে যখন কাঁচাবাজারগুলোতে, লঞ্চ টার্মিনালে, বাস ও রেলস্টেশনে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মানুষ গিজগিজ করছে, তখন বইমেলা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা প্রকাশ করতে লাগলেন বিশেষজ্ঞরা। গণস্বাস্থ্যের জন্য হুমকির আশঙ্কা থাকলে শুরুতেই বইমেলা বন্ধ রাখা যেত। করোনার কশাঘাতে জর্জরিত প্রকাশকদের মেলা আয়োজনের বাড়তি খরচ করতে হতো না। আমি মেলায় গিয়ে দেখেছি, যেরকম ব্যবস্থাপনা রয়েছে, তাতে বাইরের চেয়ে এখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুকূল পরিবেশ রয়েছে এবং তা মানাও হচ্ছে।

বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক পরেছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সুযোগ যথেষ্ট রয়েছে। যে তরুণ-তরুণীরা মাস্ক পরছে না, কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিলে তাদের বাধ্য করতে পারত। প্রতিদিন বিশেষজ্ঞদের বইমেলা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ দেখে আমার মনে হয়েছে, তারা নিশ্চয়ই বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেননি। তারপরও আমরা মনে করি, বৃহত্তর কল্যাণে যে কোনো শক্ত সিদ্ধান্তই নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রশ্ন জাগে, বইমেলা বন্ধ না করে দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত এলো কেন?

এ সময়কালে ১০ ভাগ বইপ্রেমী ও ক্রেতাও তো আসবে না মেলায়। এত ‘রাতভীতি’ কেন, তাও বুঝতে পারি না। আমি জানি না, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন কিনা করোনা দিনে নয়; রাতে ছড়ায়! বস্তুত কোথাও কোনো সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত দেখতে পাচ্ছি না।

এ বাস্তবতার আলোকে আমি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানাতে চাই-ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এটি আপনার, আপনার পরিবার ও দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখবে। নিদানকালে আপনি ও আপনার পরিবারকে রক্ষা করার জন্য অনেককেই পাশে পাবেন না। তাই নিজের সুরক্ষার দায়িত্ব নিজেকেই দিতে হবে। আসুন, সবাই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন করে নিজেদের সুরক্ষিত রাখি। এ ছাড়া এ সংকটকালে নিজেদের রক্ষা করার আর কোনো পথ বোধহয় খোলা নেই।

ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

shahnawaz7b@gmail.com

নিজের সুরক্ষার চিন্তা নিজেকেই করতে হবে

 এ কে এম শাহনাওয়াজ 
০৬ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মারাত্মক আকারে দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে ঠাঁই নেই। খালি নেই অধিকাংশ আইসিইউ বেড। শ্বাসকষ্ট নিয়ে অনেকে প্রায় বিনা চিকিৎসায় ছটফট করে মারা যাচ্ছে।

সেদিন এক টিভি চ্যানেলে একজন ডাক্তার বলছিলেন, কোভিডের লক্ষণ নিয়ে অনেকে হাসপাতালে আসছেন; কিন্তু হাসপাতালগুলোর সেবাদানের সীমাবদ্ধতার কারণে তারা মারা গেলে কোভিড আক্রান্তের তালিকায় আসছেন না। এ মৃত ব্যক্তিরা যদি কোভিড আক্রান্ত হয়েই মারা গিয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে মৃত্যুর তালিকা আরও বড় হতে পারে।

তবে কোভিড পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন সচেতনতা দেখা যাচ্ছে না। কোভিড ছড়িয়ে যাওয়ার পেছনে এটি অন্যতম কারণ হতে পারে। সরকারের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে নীতিনির্ধারণে কেমন যেন দোদুল্যমান অবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির ১৮ দফা প্রতিপালনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। একটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় যেন সবাই। এর মধ্যে এখন বিশেষ ধরনের লকডাউন পরিস্থিতিতে আছে দেশবাসী।

এমন এক অবস্থায় এক সপ্তাহের ‘হাফ লকডাউনে’ কী উপকার হবে, কেউ জানে না। হয়তো সময়ের প্রেক্ষাপটে লকডাউনের পরিধি আরও বাড়বে। গত বছরের অভিজ্ঞতা হলো, লকডাউনের প্রতিক্রিয়ায় লাখ লাখ মানুষ গ্রামে চলে গিয়েছিল। সম্ভবত সেই আশঙ্কায় সরকার লকডাউন ঘোষণা নিয়ে দ্বিধায় ছিল; কিন্তু বাঙালি অত বোকা নয়!

৩ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এক সপ্তাহের লকডাউনের আভাস দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক টিভি চ্যানেলে দেখলাম, গাবতলী বাস টার্মিনাল লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে। শুরু হয়ে গেছে গ্রামমুখী জনস্রোত। এর পেছনে অবশ্য রূঢ় বাস্তবতাও রয়েছে। একজন যাত্রী বলছিলেন, লকডাউনে কাজ বন্ধ হলে তাদের ঢাকা শহরে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। তাই বাড়িতে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

সরকারের কোনো কোনো সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষকে অনেকটা বিভ্রান্তিতে ফেলেছে। কোভিড সংক্রমণের ভয়ে সরকার এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। অনলাইনে ক্লাস নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যার যার সুবিধামতো পরীক্ষাও নিচ্ছিল। এরই মধ্যে হঠাৎ সরকার সব ধরনের পরীক্ষা নেওয়া বন্ধ করে দিল। বুঝলাম, জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে অমন সিদ্ধান্ত হয়তো নিতে হয়েছে। তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে অনার্স-মাস্টার্সের ফাইনাল পরীক্ষা প্রায় শেষ করে ফেলেছিল।

অনেক ক্ষেত্রে একটা-দুটো পরীক্ষা অথবা মৌখিক পরীক্ষা বাকি; তখনই এক ঘোষণায় সব পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হলো। অসংখ্য শিক্ষার্থী অল্পের জন্য ঝুলে গেল। বুঝতে হবে, এক বছর করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে। কিছুটা জোড়াতালিতে হলেও অনলাইন ক্লাসে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল শিক্ষা কার্যক্রম। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ যেভাবে চোখ রাঙাচ্ছে, তাতে এ শিক্ষাবর্ষটিতেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে কিনা আমরা জানি না।

সুতরাং ক্লাস ও পরীক্ষার জন্য অনলাইনের ওপরই হয়তো নির্ভর করতে হবে। অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় অ্যাপস ব্যবহার করে আশি থেকে নব্বই শতাংশ সাফল্যের সঙ্গে নির্ধারিত সেমিস্টারে ক্লাস-পরীক্ষা সম্পন্ন করে আসছিল। তাই সেখানে সেশনজট নেই। বাস্তবতা বিচার না করে ইউজিসি হঠাৎ জানিয়ে দিল কোনো পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। তাই বাধ্য হয়ে এসব বিশ্ববিদ্যালয় লুকোচুরি খেলার মতো করে পরীক্ষা শব্দ বাদ দিয়ে ভিন্ন শব্দে পরীক্ষা নিয়ে বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছে।

সরকারি নীতি যদি এতটাই কঠোর হয়, তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর কী বিবেচনায় বিসিএস পরীক্ষা নিতে হলো, তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন পরীক্ষার্থীর জবানি ছিল এমন-পরীক্ষার আগের দিন তার করোনা লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। করোনা পরীক্ষার নমুনা দিয়ে বিসিএস পরীক্ষায় বসে। পরীক্ষা শেষে রিপোর্ট নিয়ে দেখে তার করোনা পজিটিভ হয়েছে। আমাদের আশঙ্কা, এমন অনেক ঘটনাই হয়তো ছিল।

তাহলে শুধু সাধারণ মানুষের অসতর্কতার দোষ দিয়ে লাভ কী? করোনা সংক্রমণ ছড়াতে সরকারি নীতির ভূমিকা কি কম? ঠিক একইভাবে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা যখন লাফিয়ে বাড়ছিল এবং সব পাবলিক পরীক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত; তখন খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে ফেলল মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা। আর তাতে স্বাস্থ্যবিধি না মানার ভয়ংকর অবস্থা তো সংবাদমাধ্যমে আমরা প্রত্যক্ষই করেছি। এভাবে সরকার পক্ষই তাদের বিশেষজ্ঞ কমিটির ১৮ দফাকে অমান্য করেছে।

এসব দেখে সাধারণ মানুষ যারা ঘরবন্দি থাকতে চায় না এবং নিজের নাক-মুখকেও মাস্কে বন্দি করতে চায় না, তারা নিজেদের আচরণের পক্ষে যুক্তি খুঁজে পাবে। তবে এমন ভয়ংকর অবস্থায় সরকার আপাতত সাত দিনের বিশেষ ধরনের লকডাউন ঘোষণা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাকে সাধুবাদ জানাতেই হয়; যদিও এর কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। অবশ্য ইতোমধ্যে বেশকিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরকারপক্ষ ও বিশেষজ্ঞ কমিটি যে করোনা মোকাবিলায় যথেষ্ট চিন্তা করছে না, তেমন নয়। তবে এক বছরের দুঃসহ অভিজ্ঞতার পর এতটা বিভ্রান্ত অবস্থা কাম্য ছিল না।

দু-তিন মাস আগে থেকে যখন করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসছিল, তখনই তো আমরা দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার কথা শুনছিলাম। তাহলে সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষ কতটা অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করল? এক বছর আগে করোনা শুরুর পর না হয় থলের বেড়াল বের হয়েছিল; করোনার চেয়েও ভয়ংকর স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্নীতির চিত্র উন্মোচিত হয়েছিল। এ এক বছরেও কি এর সংশোধন করা যায়নি? প্রায় ১৮ কোটি মানুষকে রক্ষা করার প্রস্তুতি কোথায়? আজ কেন শুনতে হচ্ছে হাসপাতালগুলোতে জায়গা নেই! আইসিইউ ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছে না! অনেক দুর্ভাগা মানুষ সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে ছটফট করে মারা যাচ্ছে! এর জবাব কি আছে সরকারপক্ষের কাছে?

মৃত্যুহার দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় অনন্যোপায় হয়ে সরকার গণপরিবহণে পঞ্চাশ ভাগ সিট ফাঁকা রাখার নির্দেশ জারি করে। এর পরবর্তী বাস্তবতা সরকারের না জানার কথা নয়। কারণ এ অভিজ্ঞতা গত বছরও হয়েছিল। সরকার পক্ষের জানার কথা, চারপাশে লকডাউন পরিস্থিতি নেই। যদি তা থাকত, তাহলে অফিস-আদালত, শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু নিশ্চয়ই খোলা থাকত না। রাজধানীর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের ভরসা গণপরিবহণ। জনশ্রুতি আছে, দেশের বেশিরভাগ গণপরিবহণের মালিক রাজনীতিক ও রাজনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

এরা পঞ্চাশ শতাংশ সিট ফাঁকা রাখার বিনিময়ে ষাট শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর আবদার জানালেন। আমরা ভেবেছিলাম, তারা বোধহয় দরকষাকষির অবকাশ রেখেছেন; কিন্তু বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম, সরকার রাতারাতি ষাট শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির দাবি মেনে নিল। বাস্তব ক্ষেত্রে গণমাধ্যম দেখাচ্ছে-কোনো কোনো পরিবহণ শুরু থেকেই নিজ উদ্যোগে ষাটের বদলে শতভাগ ভাড়া বাড়িয়ে ফেলেছে। পঞ্চাশ শতাংশ আসন ফাঁকা রাখার কড়াকড়িও মানা হচ্ছে না।

এ ঘোষণার আগে সরকার পক্ষের অবশ্যই উচিত ছিল-পঞ্চাশ ভাগ বাড়তি বাসের ব্যবস্থা রাখা। তা না করে মালিকপক্ষের আবদার পূরণ করেই নিশ্চিন্ত রইল সরকারপক্ষ। এদিকে হাজার হাজার পেশাজীবী যানবাহন না পেয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মুখোমুখি হলো। বাসস্টপে একটি বাস আসার পর যেভাবে হুড়োহুড়ি করে উঠতে দেখছি, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি উপেক্ষিত। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বাসে যারা যাতায়াত করেন, তাদের অধিকাংশেরই বাজেট সীমিত। তারা প্রতিদিন এ বিশাল বাড়তি ভাড়া জোগাবেন কেমন করে! জনবান্ধব সরকার হলে নিশ্চয়ই এ ভর্তুকি সরকার বহন করত।

তাহলে গরিবকে শায়েস্তা করাই কি সরকারপক্ষের টার্গেট? নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী জানালেন, লঞ্চে ষাট ভাগ ভাড়া বৃদ্ধি পাবে। তবে কেবিনের ভাড়া বৃদ্ধি পাবে না। অর্থাৎ ডেকের গরিব যাত্রীরাই বাড়তি ভাড়া গুনবে। গণমাধ্যম তো দেখাল-বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে; যদিও লঞ্চের ডেকগুলোয় ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। মানুষ বসছে গাদাগাদি করেই।

কয়েকজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মন্তব্য প্রায় প্রতিদিনই নানা টিভি চ্যানেলে শুনে আসছি। গণপরিবহণে আসন সীমিত রাখার পাশাপাশি তারা কিন্তু পরবর্তী সংকটগুলোর কথা বলেননি। উপরে উল্লিখিত সংকটে কোভিড ছড়ানোর আশঙ্কার কথাও তারা বলেননি। তাতে অনেকে মনে করেন, এ সম্মানিত বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই হয়তো গণপরিবহণে চড়ার অভিজ্ঞতা নেই।

ঢাকা শহরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে সংসার চালান। এক ঘোষণায় রাইড শেয়ারিং বন্ধ হলো। মানলাম, কোভিড ছড়ানো বন্ধ করার জন্য এমন সিদ্ধান্ত জরুরি ছিল। কিন্তু এসব অসহায় মানুষের সংসার নির্বাহের বিকল্প কোনো পথ সরকার দেখাতে পারেনি। অনুদানের ঘোষণাও আসেনি। এতে নানারকম সংকট তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

কোভিড সংকটকালে যখন কাঁচাবাজারগুলোতে, লঞ্চ টার্মিনালে, বাস ও রেলস্টেশনে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মানুষ গিজগিজ করছে, তখন বইমেলা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা প্রকাশ করতে লাগলেন বিশেষজ্ঞরা। গণস্বাস্থ্যের জন্য হুমকির আশঙ্কা থাকলে শুরুতেই বইমেলা বন্ধ রাখা যেত। করোনার কশাঘাতে জর্জরিত প্রকাশকদের মেলা আয়োজনের বাড়তি খরচ করতে হতো না। আমি মেলায় গিয়ে দেখেছি, যেরকম ব্যবস্থাপনা রয়েছে, তাতে বাইরের চেয়ে এখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুকূল পরিবেশ রয়েছে এবং তা মানাও হচ্ছে।

বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক পরেছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সুযোগ যথেষ্ট রয়েছে। যে তরুণ-তরুণীরা মাস্ক পরছে না, কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিলে তাদের বাধ্য করতে পারত। প্রতিদিন বিশেষজ্ঞদের বইমেলা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ দেখে আমার মনে হয়েছে, তারা নিশ্চয়ই বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেননি। তারপরও আমরা মনে করি, বৃহত্তর কল্যাণে যে কোনো শক্ত সিদ্ধান্তই নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রশ্ন জাগে, বইমেলা বন্ধ না করে দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত এলো কেন?

এ সময়কালে ১০ ভাগ বইপ্রেমী ও ক্রেতাও তো আসবে না মেলায়। এত ‘রাতভীতি’ কেন, তাও বুঝতে পারি না। আমি জানি না, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন কিনা করোনা দিনে নয়; রাতে ছড়ায়! বস্তুত কোথাও কোনো সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত দেখতে পাচ্ছি না।

এ বাস্তবতার আলোকে আমি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানাতে চাই-ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এটি আপনার, আপনার পরিবার ও দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখবে। নিদানকালে আপনি ও আপনার পরিবারকে রক্ষা করার জন্য অনেককেই পাশে পাবেন না। তাই নিজের সুরক্ষার দায়িত্ব নিজেকেই দিতে হবে। আসুন, সবাই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন করে নিজেদের সুরক্ষিত রাখি। এ ছাড়া এ সংকটকালে নিজেদের রক্ষা করার আর কোনো পথ বোধহয় খোলা নেই।

ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

shahnawaz7b@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন