Logo
Logo
×

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

রাজস্ব আদায় ও গুণগত ব্যয়ই প্রধান চ্যালেঞ্জ

Advertisement

Icon

মামুন রশীদ

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রাজস্ব আদায় ও গুণগত ব্যয়ই প্রধান চ্যালেঞ্জ

Advertisement

মাননীয় অর্থমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সংসদে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার ব্যয়, ৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকার আয়, ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকার উন্নয়ন ও ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা ঘাটতি (যা জিডিপির ৬.২ শতাংশ) এবং সেই ঘাটতি মোকাবিলার পরিকল্পনাসহ বাজেট পেশ করেছেন।

বাজেটে করোনার দ্বিতীয় অভিঘাত বিবেচনায় ২০২১ সালের প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধি ৮.২ শতাশ থেকে সশোধন করে ধরা হয়েছে ৬.১ শতাংশ আর ২০২২ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলিত হয়েছে ৭.২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৫.৩ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার কথাও বলা হয়েছে।

এবার করোনার কারণে যদিও সংশ্লিষ্টজনদের সঙ্গে মার্চের মাঝামাঝির পর অনলাইনে সীমিত বার্তা লেনদেন ছাড়া প্রত্যক্ষ কোনো আলোচনা হয়নি, তথাপি বাজেটে মূল লক্ষ্য হিসাবে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, করোনার টিকার ব্যবস্থা ও দুর্নীতি হ্রাসসহ সামগ্রিক সামাজিক খাতে ব্যয় বরাদ্দের ওপরই বেশি মনোযোগের কথা বলা হয়। অবশ্য গত কয়েক বছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় আমরা রাজস্ব ভিত্তি বাড়ানো, বরাবরের মতো সামাজিক খাতে অধিক বরাদ্দ, প্রবৃদ্ধি চাঙাকারী প্রকল্প নির্বাচন ও যথাসময়ে তা বাস্তবায়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, বিতর্কের ঊর্ধ্বে ক্রয় প্রক্রিয়া, বাজেট প্রণয়ন ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং বাজেটারি বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলে আসছি। সেই সঙ্গে কিছু কিছু আলাপচারিতা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার গুণগত উন্নয়নের জন্য জাতীয় অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল গঠন, জেলা বাজেট সম্প্রসারণ, গ্রামাঞ্চলে হেলথ কার্ড প্রবর্তন, কৃষি ফসলের ইন্স্যুরেন্স, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য মাইক্রো ইন্স্যুরেন্স প্রবর্তন এবং জাতীয় পেনশন ফান্ড চালু, এমনকি প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়েও। বিপরীতে, অন্য দেশ কী করছে বা প্রত্যাশিত সুফল অর্জনে কার্যকর বাজেট বরাদ্দ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া নিশ্চিতে কী করা যায়, তাতে খুব কমই মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। খুবই কম আলোচনা হয়েছে সত্যিকারের রাজস্ব সংস্কার নিয়েও।

আগেই বলেছি, এবারের বাজেট নিয়ে অনেকটা সংগত কারণেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং ছিল- স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রান্তিক, অবহেলিত ও সাময়িক কর্মহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, আকাক্সিক্ষত রাজস্ব আদায় ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ এবং কালো টাকা সাদা করার উদ্যোগের নৈতিক গ্লানি ও চূড়ান্ত সাফল্য। সেই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে বেশ কিছুদিন কিছুটা অপ্রয়োজনীয় ও একরোখা মনোভাব প্রতীয়মান হলেও শেষের দিকে এটি ম্রিয়মাণ হয়েছে।

করোনার আগেই আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতির বেশকিছু খাতে আমরা কিছুটা ঋণাত্মক বা স্বল্প প্রবৃদ্ধি লক্ষ করছিলাম। করোনাকালে বৈশ্বিক এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ায় বহিঃবাণিজ্য এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়ও বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আমাদের আমদানি ও রপ্তানি বেশ কমে যায়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত ও দৈনিক শ্রমজীবীরা। সেইসঙ্গে কিছু জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগও বেশ ক্ষতি করে।

করোনাজনিত ক্ষতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিবেচনায় এবারের বাজেটের দর্শন নির্বাচন, তাই সঠিক বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধি, এমনকি চার কিংবা পাঁচ শতাংশ হলেও আগামী অর্থবছরে করোনা, সম্ভাব্য বৈশ্বিক মন্দা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও জাতীয় পুঁজি সংবর্ধন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ন্যূনতম কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলে সাত থেকে আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন মোটেই কঠিন নয়। তবে প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাস ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা উন্নত না করতে পারলে তা আবার খুব চ্যালেঞ্জিংও হয়ে যেতে পারে। কিছু কিছু মহলে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক সংস্কারের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। আলোচনা রয়েছে নগর-দারিদ্র্য হ্রাসে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও। সেইসঙ্গে রয়েছে রাজস্ব আদায় কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, বিশেষ করে কর ফাঁকি রোধ ও করখাত সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ মনোযোগ। সরকারের পরিচালন ও সরকারি অর্থায়নের প্রকল্প ব্যয় যে বেড়ে চলেছে, সেক্ষেত্রে কিছুটা লাগাম টেনে ধরার কথাও উঠে আসছে।

বাংলাদেশের বাজেটের আকার বাড়ছে। ফলে আলোচ্য বাজেট সামলানো ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানোর চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের অবশ্যই বাজেট বরাদ্দে দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, বাজেট বাস্তবায়নে যথাযথ পরিবীক্ষণ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যোগাযোগ ও লক্ষ্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সমন্বয় ও সমঝোতা বৃদ্ধি, ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অন্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষাগ্রহণ ও উন্নয়ন-সহযোগীদের সঙ্গে একজোট হয়ে কাজ করতে পারলে করোনাকালেও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বৈকি। শত সমস্যা থাকলেও একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রে এর বিকল্পও নেই।

মামুন রশীদ : অর্থনীতি বিশ্লেষক

 

Advertisement

রাজস্ব আদায়

Advertisement

আরও পড়ুন

ধূসর রাষ্ট্রের কাছে এক বিষণ্ন শালিকের গান

ধূসর রাষ্ট্রের কাছে এক বিষণ্ন শালিকের গান

প্রাণহানির দায় কি শুধুই চালকের

প্রাণহানির দায় কি শুধুই চালকের

মৃত গাদ্দাফি আজও বিভক্ত লিবিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে

মৃত গাদ্দাফি আজও বিভক্ত লিবিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে

হালফিল বয়ান পাহাড়ের ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগ

পাহাড়ের ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম