প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
প্রতিষ্ঠার চৌদ্দ বছরে আলোর প্রত্যাশা
Advertisement
মোহাম্মদ আলী
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রংপুর একটি ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জনপদ। এ জনপদে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের। অবশেষে ২০০১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে আনন্দ দেখা দিয়েছিল, তা নিমিষেই ফুরিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে রংপুরের কারমাইকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার দাবি করা হয়। এটিও মতানৈক্যের কারণে বাস্তবায়িত হয়নি।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে আবারও গণআন্দোলন শুরু হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা রংপুরে আসেন। রংপুরের সাংবাদিকরা তার কাছে এ দাবিটি জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন। ওই বছরেরই ১২ অক্টোবর ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এক্ষেত্রে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণ না করে ২০০১ সালে ‘রংপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে’র নামে অধিগ্রহণকৃত জমিতেই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে একটি কালো আইন জুড়ে দেওয়া হয়। আইনটি হলো, বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিচালিত হবে নিজস্ব অর্থায়নে। ২০০৯ সালে তৎকালীন মহাজোট সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার নামানুসারে ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর’ নামকরণ করে। নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশে নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হওয়ার আইনটিও বিলুপ্ত করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান। কোনো শিক্ষক ছাড়াই একজন কর্মকর্তা আর কয়েকজন কর্মচারী নিয়ে ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষে তিনটি অনুষদের অধীনে ছয়টি বিভাগে ৩০০ ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হয় এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে মাত্র ১২ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে নগরীর টিচার্স ট্রেনিং কলেজে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। ২০১২ সালের মধ্যে ছয়টি অনুষদের অধীনে ২১টি বিভাগ চালু করা হয়।
রংপুর শহরের প্রবেশদ্বার মর্ডান মোড়ের নিকটবর্তী ৭৫ একর জায়গার ওপর ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর’ ক্যাম্পাস অবস্থিত। ২০১১ সালের ৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থায়ী ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করেন। ছয়টি অনুষদ, ২১টি বিভাগ, একটি ইনস্টিটিউট, তিনটি আবাসিক হল, চারটি ডরমিটরি, মসজিদ, লাইব্রেরি, প্রশাসনিক ভবনসহ (নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা ছাত্রী হল এবং ড. ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ভবন ছাড়া) যা কিছু দৃশ্যমান তার সবই ২০১২ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই হয়েছে।
এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে- ‘মানসম্পন্ন শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে মানবতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বর্তমান ও ভবিষ্যতে, নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষম মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে, প্রধান বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জ্ঞান আহরণ; লিখিত, মৌখিক ও ইলেকট্রনিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে উৎকর্ষ অর্জন এবং সর্বাধুনিক প্রায়োগিক কলাকৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে যুগোপযোগী জ্ঞান বিতরণ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য।’
উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে- ‘উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় হবে জ্ঞান আহরণ ও বিতরণের উৎকৃষ্ট কেন্দ্র। সমাজের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘনিষ্ঠ সংযোগের মাধ্যমে ও সর্বাধুনিক কলাকৌশল ব্যবহার করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এই বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
প্রতিষ্ঠার ১৪তম বছরে এসে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আলো ছড়িয়ে পড়ুক দিক দিগন্তে- এটিই প্রত্যাশা।
মোহাম্মদ আলী : সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ), বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর
