Logo
Logo
×

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি

আমাদের বাজেটের বড় দুর্বলতা আয় কম, ব্যয় বেশি

Advertisement

Icon

ড. আর এম দেবনাথ

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২২, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের বাজেটের বড় দুর্বলতা আয় কম, ব্যয় বেশি

Advertisement

এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখের কাগজের বড় শিরোনাম : ‘আগামী বাজেটের আকার ৬৭৭৮৬৪ কোটি টাকা : ভর্তুকি ও মূল্যস্ফীতিই চ্যালেঞ্জ’। খবরটি যুগান্তরের।

ভেতরের খবরে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। যেমন ২০২২-২৩ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রাক্কলিত অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, ভর্তুকি ৭২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা এবং মোট বিনিয়োগ ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকা। আর পরিচালন ব্যয় হবে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত যে তথ্য ও পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে তা হচ্ছে খরচ সংক্রান্ত এবং বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কিত। অথচ বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে রাজস্ব আয়।

কিন্তু আমাদের দেশে এক রীতি চালু হয়েছে, যার দ্বারা ব্যয়কেই প্রাধান্য দিয়ে খরচ করা হয়। ব্যয় বা খরচ আগে, আয় পরে। এ এক ভিন্ন রীতি! সাধারণত গৃহস্থের ক্ষেত্রে ‘আয় বুঝে ব্যয়’ করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার দেখা যাচ্ছে খরচকে প্রাধান্য দেয় বেশি। মিডিয়াও তা-ই। এর জন্যই খবরের শিরোনাম হয় খরচের টাকা দিয়ে, আয়ের দিক দিয়ে নয়। অথচ আয়ের দিক দিয়ে বললে পরিস্থিতিটা হয় ভিন্ন।

২০২২-২৩ অর্থবছরের যে প্রাক্কলন, তাতে দেখা যায় মোট আয় মাত্র ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংগ্রহ করবে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। ১৮ হাজার কোটি টাকা আসবে ‘নন-এনবিআর’ উৎস থেকে। অতএব কী দাঁড়াল? শেষ হিসাবে দাঁড়াল এই যে, আমাদের খরচ বেশি, আয় কম। কত কম? কম বা ঘাটতি ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা।

এই ঘাটতির ব্যাপারটি নতুন নয়। বহু পুরোনো। যদি ব্যক্তি হতো তাহলে ঘাটতি থেকে এক সময় দেউলিয়া হতে হতো। কিন্তু ঘাটতিটা রাষ্ট্রের, সরকারের। এটা সব দেশেই হয়। কেউ কিছু মনে করে না। তবে কথা আছে-ঘাটতির একটা সীমা থাকতে হবে। সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ৪-৫ শতাংশ ঘাটতিকে সহনশীল মনে করা হয়। এর বেশি হলেই প্রশ্ন ওঠে। যেমন আগামী বছরের জন্য ঘাটতি ধরা হয়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ। অর্থাৎ জিডিপির সাড়ে ৫ শতাংশ পরিমাণ হবে আমাদের ঘাটতি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ঘাটতি বাড়তেও পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

ঘাটতি মানে কী? রাজস্ব আয় কম, রাজস্ব ব্যয় ও অন্যান্য ব্যয় বেশি। যে খবরটি দিয়ে শুরু করেছি তাতে বলা হয়েছে, ভর্তুকি (সাবসিডি) ও মূল্যস্ফীতিই হবে ২০২২-২৩ অর্থবছরের চ্যালেঞ্জ। ভর্তুকি খাতে চলতি বছরে অর্থাৎ ২০২১-২২ অর্থবছরে শুধু সারেই যাবে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় চারগুণ। আগামী বছরের জন্য ধরা হয়েছে সার খাতে মাত্র ১৫ হাজার কোটি টাকা। ভর্তুকির অন্য খাতগুলো হচ্ছে : খাদ্য, বিদ্যুৎ, কৃষি প্রণোদনা, রপ্তানি প্রণোদনা, পাটজাত দ্রব্য, প্রবাসী আয় এবং তরলীকৃত গ্যাস।

এভাবে দেখলে বোঝা যাবে আমাদের অর্থনীতি ভর্তুকিতে ভর্তি। দিন দিন তা বাড়ছে। এটা বাড়তে নাও পারত। কীভাবে? যদি পণ্য ও সেবার মূল্য বাজার মূল্যের সমান হতো। সরকার যদি নির্ধারিত কিছু পণ্য বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি না করত। না, তা হওয়ার নয়। সার বাজার মূল্যে বিক্রি করলে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হতো না যদি আমরা চাল ১০০ টাকা কেজিতে কিনতে রাজি হতাম।

এটা সম্ভব নয়। বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে বাজার মূল্যের সমান করা সম্ভব নয়। কারণ এতে গৃহস্থরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিল্প ও কৃষি। তরলীকৃত গ্যাস ইত্যাদিতেও একই ব্যাপার। প্রবাসী আয়ে ভর্তুকি দিয়ে ডলারের প্রবাহ বৃদ্ধির একটা প্রয়াস আছে। তাতে প্রবাসী আয়ের উপকারভোগীরা লাভবান হবেন। দুর্দিনে সরকার গরিবদের মধ্যে বাজার দামের চেয়ে কম দামে খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করে। এতে উপকৃত হয় লাখ লাখ মানুষ। যারা বাজার দামে খাদ্যদ্রব্য কিনতে অপারগ, তারা বাজার অর্থনীতির নির্মম শিকার।

পাটজাত দ্রব্য উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে শুধু শিল্প জড়িত নয়, ব্যবসায়ীরা জড়িত নয়, পরোক্ষভাবে জড়িত পাট চাষিরাও। এভাবে বিচার করলে বোঝা যাবে যেসব খাতে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে তার থেকে ভর্তুকি তুলে নেওয়া কঠিন কাজ। তারপরও হয়তো সরকার টাকার টানাটানিতে আগামী বছর, এমনকি বর্তমান অর্থবছরে ভর্তুকি হ্রাসের চেষ্টা করবে। হতে পারে তা বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাত, হতে পারে তা তরলীকৃত গ্যাস খাত। সম্ভবত সারে, খাদ্যে তা সম্ভব নয়।

এ ক্ষেত্রে বোঝা যায় আমাদের বর্তমানে অনুসৃত বাজার অর্থনীতি খুবই ‘কস্টলি অর্থনীতি’ হয়ে পড়েছে, যার বোঝা সাধারণ ক্রেতারা বহন করতে অপারগ। সম্ভবত এ কারণেই সরকার ভর্তুকি দিয়ে জনতুষ্টি অর্জন করতে চায়। বাজার অর্থনীতিরও একটা মূল্য আছে। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে-ভর্তুকি, বেতন বৃদ্ধি, ঋণের ওপর সুদ ইত্যাদি খাতে যেভাবে খরচ বাড়ছে, তার বোঝা শেষ পর্যন্ত কে বহন করবে? আমরা ঘাটতি বাজেট করে যাচ্ছি, দেশি-বিদেশি ঋণ বাড়িয়ে চলেছি-এর বোঝা শেষ পর্যন্ত বহন করবে পরবর্তী প্রজন্ম।

তারা তাদের জীবন শুরু করবে বিশাল অঙ্কের ঋণের বোঝা নিয়ে। যদি সমপরিমাণ সম্পদ না থাকে, উৎপাদনশীল বা আয়বর্ধনকারী কোনো সম্পদ আমরা রেখে না যাই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের দায়ী করবে অমিতব্যয়ী বলে। এই হচ্ছে আমাদের বাজেট প্রণয়নের অন্যতম দুর্বলতা। আমাদের আয় কম, খরচ বেশি। খরচের মধ্যে অনাবশ্যক খরচ বেশি। এক টাকার কাজ দুই-তিন টাকায় করি। আমরা চলমান জলপ্রবাহের উপর দিয়ে রাস্তা করি সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য, এখন জল চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে বাধা। করণীয় কী, খুঁজতে হচ্ছে।

আমরা যে জায়গায় আটকা পড়েছি তা হচ্ছে রাজস্ব, রাজস্ব বৃদ্ধি। রাজস্ব জাতীয় আয়ের (জিডিপি) তুলনায় বাড়ছেই না। অথচ বিগত কয়েক বছরে ‘ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার’ধারী (টিআইএন) করদাতার সংখ্যা অনেক বেড়েছে। সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তা, এমনকি বেসরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও আজ করজালে আবদ্ধ। জিডিপির আকার বেড়েছে কয়েকগুণ।

দেশে কোটিপতির সংখ্যা কত কেউ জানে না। গাড়ির মালিক কত, মোটরসাইকেলের মালিকের সংখ্যা কত? বাড়ি-ঘর-ফ্ল্যাটের মালিক কত, তাও কেউ জানে না। আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে বহুগুণ। শিল্প উৎপাদন বেড়েছে বহুগুণ। অথচ সেই তুলনায় আমাদের আয়-কর বাড়ছে না। এটা কি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ব্যর্থতা, না সক্ষমতার অভাব? নাকি কর আদায়ে নানাবিধ নেতিবাচক পদক্ষেপ বাধা হিসাবে কাজ করছে? কর রেয়াত, করমুক্তি, করপোরেট কর হ্রাস, কর অবকাশ, ট্যাক্স হলিডে যে কত ধরনের, তার হিসাব রাখা কঠিন।

ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সবই করে যাচ্ছে। তারা দৃশ্যমান কোনো করই দিতে চায় না। তারা শুধু সরকারের কাছ থেকে সুবিধা আদায়ই করে যাচ্ছে। শ্রেষ্ঠ করদাতাদের তালিকায় প্রখ্যাত কোনো ব্যবসায়ীর স্থান বিরল। বড় বড় বাজারের বড় বড় দোকানদার, মাঝারি এন্টারপ্রাইজের মালিকরা অনেকেই কর দেন না। কারওয়ান বাজারের একটি বিল্ডিং হচ্ছে হাজার হাজার কোম্পানির প্রধান অফিস। তাদের সিংহভাগ কর দেয় না। ভ্যাট আদায়ে রয়েছে এক ধরনের স্থবিরতা।

বস্তুত বিগত কয়েক বছরের মধ্যে কর আদায় ব্যবস্থার কাঠামোতে কোনো বড় পরিবর্তন লক্ষণীয় নয়। স্পষ্টতই বোঝা যায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সক্ষমতা বাড়ছে না। তাদের ওপর বোঝা চাপানোই হচ্ছে। বোঝা বহন করার ক্ষমতা তাদের আছে কিনা, এর কোনো বিচার নেই। এ কারণে দিন দিন সরকার পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। অথচ দরকার প্রত্যক্ষ কর। এর জন্য দরকার দক্ষ জনবল, আদায়ের দক্ষ কাঠামো, প্রযুক্তি। তা আছে কি? এসব না বুঝে প্রতিবছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয় অযৌক্তিকভাবে।

তারপর আবার কমানো হয়, সংশোধিত করা হয়। এতে যে রাজস্ব শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়, সরকার তা বুঝতে চায় না। এ অবস্থায় দরকার কর রেয়াত, করমুক্তি, কর অবসান, করের হার হ্রাস ইত্যাদি ক্ষেত্রে আরও বিচক্ষণতা।

ব্যবসায়ীদের খুশি করতে গিয়ে অতিরিক্ত কর হার হ্রাসে কী সর্বনাশ হয়, তার উদাহরণ শ্রীলংকা। শ্রীলংকা ‘গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্সে’র হার প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনে, কমায় ভ্যাট হার। ফল রাজস্ব হ্রাস মারাত্মক পরিমাণে। এতে ঘাটতি বৃদ্ধি পায়। ফল নোট ছাপানো। এসব করতে করতে শেষ পর্যন্ত শ্রীলংকার অর্থনীতি আজ দেউলিয়া। এসব থেকে অর্থাৎ রাজস্ব আদায় ক্ষেত্রে শ্রীলংকার কাছ থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। যেখানে রেয়াত দেওয়া দরকার, সেখানে দিতে হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ব্যবসায়ীরা যা চাইবে তা-ই দিতে হবে।

বিশেষ করে যখন তাদের অনেকেই নিজস্ব শক্তি বলে বিদেশগামী হচ্ছেন। এটি একটি বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। দেশের বড় ব্যবসায়ীদের একটা অংশ দেশ ছেড়ে যাচ্ছে। তারা এখানে বিনিয়োগ করছে না। বিনিয়োগ করলে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হতো। কর আদায় বাড়ত। উৎপাদন বাড়ত। না, তা হচ্ছে না। এ সমস্যা সমাধানে আমরা মাননীয় অর্থমন্ত্রীর ওপর ভরসা রাখতে পারি। কীভাবে? তিনি বিদেশগামী ব্যবসায়ীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবেন, এ বিশ্বাস রাখি।

২০১৯ সালের জানুয়ারির ৯ তারিখে তিনি বলেছিলেন, ‘আপনারা বলেন, বেসরকারি খাত টাকা-পয়সা নিয়ে চলে গেছে। আমি বিশ্বাস করি তাদেরকে ফেরত পাব।... যারা চলে গেছেন তারা ফেরত আসবেন।’ এর দুদিন আগে তিনি অন্য একটি কাগজে বলেছিলেন, ‘পাচারকৃত টাকা দেশে ফেরত আনা হবে।’ ২০১৯-এর জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখে তিনি বলেছিলেন, ‘যারা এখন বিনিয়োগ করছেন না, আমরা তাদের ফিরিয়ে আনব।... যারা বিদেশে টাকা-পয়সা নিয়ে চলে গেছে, আমি আশা করি তাদের ফেরত পাব।... কারা ফেরত আসবে তা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা আসবেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশাবাদী মানুষ। স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি। মানুষকে বিশ্বাসের জায়গায় নিতেও স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্ন দেখানোর পর সেগুলো বাস্তবায়নে আমি সবসময়ই জোর দিয়ে থাকি। আমি কখনো ব্যর্থ হইনি।’

অর্থমন্ত্রীর এ কথাগুলো আজ আমার বারবার মনে পড়ছে। পড়ছে কারণ, এখনই সময় যারা বিদেশে চলে গেছে, তাদের ফেরত আনার। আমরা নিু-মধ্যআয়ের দেশ হয়েছি। অচিরেই মধ্যআয়ের দেশ হতে হবে। অথচ নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। করোনা মহামারিতে এসব লণ্ডভণ্ড হয়েছে। আশা করা গিয়েছিল পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করা যাবে। সরকার এর জন্য প্রচুর পদক্ষেপও নিয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে নতুন এক পরিস্থিতি জন্ম হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়েছে এক মাসেরও ওপর। এ দুই দেশ থেকে আমরা গম আনি।

আমাদের দেশে রয়েছে রাশিয়া কর্তৃক নির্মীয়মাণ পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। তেলের দামসহ নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে তো বাড়ছেই। আমেরিকা রাশিয়ার ওপর ‘স্যাংকশন’ দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে। সাপ্লাই-চেইন নষ্ট হয়েছে। জাহাজ পাওয়া যায় না পণ্য পরিবহণের জন্য। অন্যান্য কারণের সঙ্গে এসব কারণে শ্রীলংকা আজ দেউলিয়া। পাকিস্তান, নেপাল ও মালদ্বীপের অর্থনীতির অবস্থা টালমাটাল। বাংলাদেশ ও ভারত ভালো অবস্থায়। আরও ভালো করতে হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার।

দরকার রাজস্ব বাড়ানো। এ ক্ষেত্রে যারা বিদেশে টাকা-পয়সা নিয়ে চলে গেছেন, তাদের অর্থমন্ত্রী ফেরত আনতে পারলে সেটি হবে দারুণ উৎসাহব্যঞ্জক কাজ। এতে বিনিয়োগ বাড়বে, উৎপাদন বাড়বে, রাজস্ব বাড়বে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বিষয়টি খুবই জরুরি। মাননীয় অর্থমন্ত্রী তার আগামী বাজেটে এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি?

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Advertisement

আমাদের বাজেট বড় দুর্বলতা আয় কম ব্যয় বেশি

Advertisement

আরও পড়ুন

রাজনীতির ভাষা

রাজনীতির ভাষা

দিল্লিতে কী হচ্ছে

দিল্লিতে কী হচ্ছে

অর্থনীতির রক্তক্ষরণে ফুটো বন্ধ করবে কে?

অর্থনীতির রক্তক্ষরণে ফুটো বন্ধ করবে কে?

হালফিল বয়ান ধর্ষণ বৃদ্ধি কীসের আলামত

ধর্ষণ বৃদ্ধি কীসের আলামত

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম