নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি
কার স্বার্থে মূল্যস্ফীতি উসকে দেওয়া হলো?
Advertisement
ড. আর এম দেবনাথ
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অর্থ মন্ত্রণালয় বলে কী, আর জ্বালানি মন্ত্রণালয় করে কী! অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, এ মুহূর্তে সরকারের এক নম্বর কাজ হচ্ছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। আর জ্বালানি মন্ত্রণালয় করল কী-নজিরবিহীনভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিল।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ‘পণ্ডিতরা’ কি জানেন না তেলের দাম বাড়ালে মূল্যস্ফীতিতে এর কী প্রভাব পড়বে? এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে তারা এটা জানেন না। এটা জেনেও তারা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালেন মাত্রাতিরিক্ত হারে। তাও আবার কী? অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কিছুই জানে না।
যুগান্তরের রিপোর্টার লিখেছেন, ‘বিপিসি অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত না নিয়েই জ্বালানি তেলের রেকর্ড পরিমাণ দাম বাড়িয়েছে।’ এটা কী করে হয়? মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত এত বড় একটি সিদ্ধান্ত-তা অর্থ মন্ত্রণালয় জানবে না? সব সম্ভবের দেশে এটাও হলো! হলো মানে নজিরবিহীনভাবে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ানো হলো। ‘
মন্ত্রী বললেন, তাছাড়া নাকি উপায় ছিল না। কিন্তু প্রশ্ন, মন্ত্রী মহোদয় কি জানেন না সরকারের লক্ষ্য কী? তিনি কি জানেন না বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সংবাদ সম্মেলন করে কী বলেছেন? বলেছেন, তার প্রথম কাজই হলো মূল্যস্ফীতি রোধ করা। এখন এ ‘বেচারা’ যাবেন কোথায়?
কী জবাব দেবেন তিনি দেশবাসীকে? জবাব তো তাকে দিতেই হবে, কারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা তার আইনি দায়িত্ব, বাংলাদেশ ব্যাংককে এই দায়িত্ব দিয়েছে সংসদ আইনের মাধ্যমে। অথচ দেখা যাচ্ছে, অর্থ মন্ত্রণালয় কিছুই জানে না। তার মানে বাংলাদেশ ব্যাংকও কিছু জানে না।
কেউ কেউ বলছেন, তারা জানলে হয়তো এত বড় মূল্যবৃদ্ধি ঘটত না। কত বড় বৃদ্ধি? স্বাধীনতার ৫০-৫১ বছরের মধ্যে এত বড় মূল্যবৃদ্ধি আর কখনো ঘটেনি। ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৮০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১১৪ টাকা। কেরোসিন তেলও ৮০ টাকা থেকে হয়েছে ১১৪ টাকা। পেট্রোল ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে লিটারপ্রতি ১৩০ টাকা।
অকটেনের দাম বেড়ে হয়েছে লিটারপ্রতি ১৩৫ টাকা, যা আগে ছিল ৮৯ টাকা। ভাবা যায়-কতটা কাণ্ডজ্ঞানহীন হলে এমন ঘটনা ঘটানো যায়! তাও এমন এক সময়ে যখন নির্বাচন সামনে। অর্থ মন্ত্রণালয়ও না, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ও না, নির্বাচন সামলাতে হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তাকে কি কেউ অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ঠেলে দিচ্ছে? জানি না, তবে বলাই চলে, এই মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিয়েছে।
জ্বালানি তেলের এমন মূল্যবৃদ্ধিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সরকারসমর্থক বলে পরিচিত ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন পর্যন্ত সমর্থন করতে পারেননি। তিনি ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধিকে অযৌক্তিক আখ্যায়িত করেছেন বলে কাগজে দেখলাম।
এর কারণ, এ দুটি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি জনসাধারণের জীবনকে, গরিব মানুষের জীবনকে বিষাক্ত করে তোলে। আমাদের পরিবহণ খাতের বৃহদংশ নির্ভর করে ডিজেলের ওপর। আর গ্রামের গরিবরা এখনো ব্যবহার করে কেরোসিন। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই কাঁচাবাজার গরম হয়ে যায়।
ইতোমধ্যেই বাজারে প্রতিটি শাকসবজির দাম বেড়ে গেছে। এটা স্বাভাবিক। কারণ এসব পণ্য পরিবহণের খরচ বেড়ে গেছে। শুধু শাকসবজির কথা বলছি কেন, যাতায়াত ভাড়া বেড়েছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেড়গুণ-দ্বিগুণ। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসতে আগে যেখানে ৪৫ টাকা লাগত, এখন লাগে ৬৫ টাকা-একথা জানালেন এক ঘড়ি মেরামতকারী। যাত্রী ভাড়া নিয়ে নিয়মিত ঝগড়াঝাঁটি হচ্ছে।
জিনিসপত্রের দাম শেষ পর্যন্ত আমাদের ‘দেশপ্রেমিক’ ব্যবসায়ী ভাইয়েরা কত টাকা পর্যন্ত বাড়াবেন, তা দেখতে হবে। তবে এ মুহূর্তে কীভাবে তা বেড়েছে, এর একটা হিসাব যুগান্তরের রিপোর্টে দেওয়া হয়েছে (০৯-০৮-২২)। এতে দেখা যাচ্ছে, মিনিকেট চালের দাম ৬৬-৬৮ টাকা কেজি থেকে এখন ৭০-৭২ টাকা।
আটার দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৪ টাকা। ময়দার দাম বেড়েছে ৪ টাকা। চিনির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৩ টাকা। বেগুনের দাম ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, শসা ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৩৫ টাকা থেকে ৫০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। মাছের দাম কেমন বেড়েছে? পাঙ্গাশ বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ টাকা, রুই কেজিপ্রতি ৪০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৫ টাকা এবং ফার্মের ডিম হালিতে ৪ টাকা।
এবার প্রশ্ন দুটো। এক নম্বর প্রশ্ন হলো, এই মূল্যস্ফীতি/মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি কি মানুষের আয়-রোজগার বৃদ্ধি পেয়েছে বা পাবে? দুই নম্বর প্রশ্ন, খুবই জরুরি ও প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন, মূল্যবৃদ্ধির কি কোনো বিকল্প ছিল না? প্রথম প্রশ্নের উত্তর সোজাসুজি, না। একটি ইংরেজি কাগজের এক রিপোর্ট দেখলাম (০৫-০৮-২২), ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ‘ওয়েজ রেইট ইনডেক্স’ ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে।
২০২০ সালে ইনডেক্সে বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ, পরের বছরে তা হ্রাস পেয়ে হয় ৬ দশমিক ১২ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে হয় ৬ দশমিক ০৬ শতাংশ। রিপোর্টটির উৎস বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। বোঝা গেল, মানুষের মজুরি তো বাড়েইনি, বরং কমেছে। অথচ মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছেই। সর্বশেষে তা প্রায় ৮ শতাংশ। বস্তুত মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষ সবসময়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মূল্যস্ফীতির হারের তুলনায় মজুরি বৃদ্ধি সাধারণত বেশি হয় না। এ কারণেই মূল্যস্ফীতিকে ‘জাতীয় শত্রু’ মনে করা হয়। বিশ্বের সব দেশের সরকার, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ইত্যাদি আন্তর্জাতিক সংস্থাও মূল্যস্ফীতিকে উন্নয়নের শত্রু বলে গণ্য করে। এই শত্রুকেই মদদ দিল জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও তার মন্ত্রী মহোদয়। কোথায় যাব আমরা? কোথায় যাবেন নবনিযুক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। তার কোনো ‘মনিটারি পলিসি’ই মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে পারবে না এ পরিস্থিতিতে।
এবারে প্রশ্ন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি কি ঠেকানো যেত? কোনো বিকল্প কি ছিল সরকারের হাতে? এ পর্যন্ত খবরের কাগজে যত বিশেষজ্ঞের কথা পড়লাম, তাতে দেখেছি, কেউ বলেননি যে মূল্যবৃদ্ধির কোনো বিকল্প ছিল না। যারা কিছুটা নরম হয়ে বলেছেন, তারাও বলেছেন, একসঙ্গে এত বৃদ্ধি করা সংগত হয়নি। এমনকি সরকারসমর্থক রাজনৈতিক দলের নেতারা পর্যন্ত এই বৃদ্ধিকে হজম করতে পারেননি।
তাদের অনেকেই মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সরকারসমর্থক দুয়েকটি দল জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার কথাও বলেছে। কতটুকু চাপে পড়ে, আর কতটুকু আন্তরিকতার সঙ্গে বলছে, তা বোঝা যাবে আগামী নির্বাচনের সময়। যারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন, তাদের একটা যুক্তি হচ্ছে এই যে, এ মুহূর্তে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস পেয়েছে/পাচ্ছে। শুধু জ্বালানি তেল নয়; গম, চাল, সয়াবিন তেল ইত্যাদির দামও নিম্নমুখী। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রথম ধাক্কা কিছুটা সামলানো গেছে। ইউক্রেন থেকে গম রপ্তানি শুরু হয়েছে।
অন্যান্য দেশও যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাপার ধরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কীভাবে করা যায় তার চিন্তাভাবনা করছে, পথ বের করেছে/করছে। বিকল্প ‘পেমেন্ট মেকানিজম’ আবিষ্কার করছে। এ অবস্থায় এই মুহূর্তে তেলের মূল্যবৃদ্ধি কোনো জরুরি কাজ ছিল না। তাদের যুক্তি আরও আছে। বিশেষ করে এ মুহূর্তের সমস্যা সমাধানের জন্য। অর্থাভাব দূর করার জন্য। দৃশ্যত সরকারের হাতে টাকা নেই। রাজস্ব আদায় কম।
এ কারণে গ্রামের বাজারগুলোতেও ছোট ছোট দোকানদারদের করের আওতায় আনা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে এই শ্রেণির মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বলে কেউ কেউ বলছেন। অথচ বড় বড় করদাতা ধরার কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না। উলটো তাদের কর রেয়াত, সুদ ভর্তুকি, কর অবকাশ, কর অব্যাহতি, কর হ্রাস, খেলাপি ঋণ তফশিলিকরণে সময় বৃদ্ধি ইত্যাদি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। শ্রীলংকার মতো বড় বড় ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের করভার হ্রাস করা হচ্ছে।
এই বৈপরীত্যের মধ্যেও বিকল্প ছিল। কারণ দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কোনো দেউলিয়া প্রতিষ্ঠান নয়। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বিপিসি এই কিছু দিন আগ পর্যন্ত লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল না। বরং লাভ/মুনাফা করেছে ‘দেদারসে’। বিদেশ থেকে তারা তেল কিনেছে সস্তায়। দেশে বিক্রি করেছে বেশি দামে। গ্রাহকদের দুই পয়সা সুবিধা তারা দেয়নি। মনে করা হয়েছিল, এতে একটা উদ্বৃত্ত ‘ফাণ্ড’ তৈরি হবে, যা দিয়ে ভবিষ্যতে বিপদ-আপদ সামলানো যাবে। না, তা হচ্ছে না। এখন যখন তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা বেড়েছে, বিপিসি তড়িঘড়ি করে অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
বলা হচ্ছে, এর কোনো বিকল্প ছিল না। ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব নয়। আবার বলা হচ্ছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রে তেলের দাম বেশি হওয়ায় তেল পাচার হচ্ছে (আগের সরকারগুলোও এসব কথা বলত)। প্রশ্ন হলো, তেল কি চিড়া-মুড়ি-গুড় যে পাচারকারীরা বস্তা ভরে তা প্রতিবেশী রাষ্ট্রে পাচার করবে? এছাড়া এর যে কোনো নজির নেই, সে সম্পর্কে যুগান্তরের রিপোর্টে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে। আমি তাই ওদিকে না গিয়ে বিপিসি সম্পর্কে দুটি কথা বলতে চাই। বিপিসি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসাবে পরিচিত। বিগত ৮ বছরে এ সরকারি প্রতিষ্ঠানটি মোট লাভ করেছে ৪৮ হাজার কোটি টাকা। সরকারকে বিপিসি ৩০-৩২ শতাংশ কর/ভ্যাট দেয়।
এর পরিমাণ বিশাল। ২০১৮ থেকে ২০২২ আর্থিক বছরগুলোতে সব মিলে বিপিসি ৫৬ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা ট্যাক্স/ভ্যাট দিয়েছে। আবার দেখা যাচ্ছে, এর সঙ্গে ব্যাংকগুলোর সম্পর্ক গভীর। একটি অর্থনীতিবিষয়ক দৈনিকের শিরোনাম : ‘দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যাংক-গ্রাহক প্রতিষ্ঠান বিপিসি’। ভাবা যায়! সরকারি কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এত টাকা কি ব্যাংকে আছে? না, নেই। ওই কাগজটিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংকে এর মেয়াদি আমানতের পরিমাণ ১৩ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা।
২১টি ব্যাংকে স্বল্পমেয়াদি আমানত হিসাবে জমা আছে ২ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা। এ ছাড়াও জ্বালানি তেল বিক্রি বাবদ ১৫ হাজার ৮২২ কোটি ছিল। সব মিলে কত হয়? মোট ৩২ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা। প্রশ্ন, এই টাকা দিয়ে কি অন্তত ২-৩ মাস চলা যেত না? মানুষের ঘাড়ে না চেপে কি উপায় ছিল না? এ প্রশ্ন অত্যন্ত যৌক্তিকভাবেই উঠবে। রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব। গ্যাস উত্তোলনে নতুন কোনো বিনিয়োগ নেই। বেসরকারি খাতকে এলএনজি এনে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ার জন্যই কি এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত? আইএমএফের শর্ত তো আছেই।
অনেক প্রশ্ন উঠছে, যেগুলোর বিচারের ভার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপর।
ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
