নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি
কঠিন এ সময়ে সবাইকে সুবিবেচনার প্রমাণ দিতে হবে
Advertisement
ড. আর এম দেবনাথ
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী পড়েছেন ‘মাইনকার’ প্যাঁচে। ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ তার অবস্থা। অবশ্যই জ্বালানি গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে। ব্যবসায়ীরা তার সামনে হাজির করেছেন নানা বিকল্প। কিসের জন্য কী বিকল্প? তারা বলছেন, তাদের গ্যাস দরকার। গ্যাসের অভাবে তাদের মিল-কারখানা দিনের অর্ধেক সময় বন্ধ থাকছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে জয়দেবপুর, গাজীপুর, চট্টগ্রাম সর্বত্রই শিল্পের একই অবস্থা।
গ্যাস কখন আসবে, কখন থাকবে, কতক্ষণ থাকবে তা কেউ জানে না। ফলে তারা বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন। উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, রপ্তানির আদেশ বাতিল হচ্ছে। ব্যাংকের দেনা বাড়ছে, ব্যবসায়ীরা কিস্তি দিতে পারছেন না-ফলে ‘ডিফল্টার’ হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। অথচ একমাত্র বস্ত্র খাতেই ১ লাখ ৭০-৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োজিত। এর সিংহভাগ ব্যাংক ঋণ। তারা বিনিদ্র রজনী কাটাচ্ছেন। চোখেমুখে অন্ধকার।
এভাবে চললে শ্রমিক ছাঁটাই করা ছাড়া তাদের উপায় নেই। এসব সমস্যার কথা জানানোর জন্য তারা বসেছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে। উপদেষ্টা জানতে চেয়েছেন সমাধানের কথা। ব্যবসায়ীরা তাদের অনেক সুপারিশ উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরেছেন। অসহায় উপদেষ্টা নানা কথা শুনে শেষ পর্যন্ত বলেই ফেলেছেন, প্রয়োজনে আমরা দিনের বেলা কোনো বিদ্যুৎ ব্যবহার করব না। কী সাংঘাতিক কথা! এর ‘মাজেজা’ বুঝে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মামুদ এক বিবৃতিতে বলেছেন-না, এমন কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। সরকার এসব নিয়ে ভাবছে না।
এতদসত্ত্বেও জ্বালানি উপদেষ্টার কথা মানুষের মুখে মুখে। তবে কি সত্যি সত্যি দিনের বেলায় বিদ্যুৎ দেওয়া হবে না? এমনিতেই শহর-গ্রামের মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। দিনে এক-দুই ঘণ্টা পরিকল্পিত ‘লোডশেডিং’ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ঘরের রেফ্রিজারেটর, আইপিএস ইত্যাদি নষ্ট হতে বসেছে। সবজি-মাছ-মাংস রেফ্রিজারেটরে রাখার উপায় নেই। আইপিএসের ব্যাটারি সংকট দেখা দিয়েছে, মেরামতি সংকট দেখা দিয়েছে। মোমবাতি, হারিকেন ও হাতপাখার ব্যবহার চলছে। রাতেও বিদ্যুৎ যায়। এমন এক দুঃসময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা বলে বসলেন-দরকার বোধে আমরা দিনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করব না। ‘এসি’ না চালালে প্রচুর বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। এমনতর উপদেশের কথা শুনে মানুষ আতঙ্কিত।
সম্ভবত এ প্রেক্ষাপটেই তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আশার বাণী শুনিয়েছেন যে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকারের নেই। এমন আশ্বাস দেওয়ারই কথা, আবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টারও এমন কথাই বলার কথা। কারণ ব্যবসায়ীরা তাদের শিল্পের কথা, শিল্পের দুর্দশার কথা এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যে, উপদেষ্টার এর বাইরে আর বলার কিছুই ছিল না। শত হোক শিল্প বাঁচাতে হবে, উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে, রপ্তানি ঠিক রাখতে হবে, মানুষের চাকরি ঠিক রাখতে হবে, সরকারের রাজস্ব আয় ঠিক রাখতে হবে। শত হোক লক্ষকোটি টাকার বিনিয়োগ বিসর্জন দেওয়া যায় না। ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া বানানো যায় না। অতএব, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টার উপরোক্ত বেপরোয়া সমাধান।
কেন, তার সামনে কি আর কোনো বিকল্প ছিল না? সেটাই দেখা যাক। দিশাহীন ব্যবসায়ীরা মাননীয় উপদেষ্টার সামনে কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রথম প্রস্তাবটি হচ্ছে, এলএনজি আমদানি করে তাদের সরবরাহ করা হোক। প্রয়োজনে তারা অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করবেন। দ্বিতীয় প্রস্তাবটি হচ্ছে, বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ সংকুচিত করা হোক। সেখান থেকে বাঁচিয়ে তাদের গ্যাস দেওয়া হোক। তৃতীয়ত, সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে ব্যবসায়ীদের শিল্পে গ্যাস দেওয়া হোক। চতুর্থত, বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে গ্যাস ব্যবহার হয়, তা হ্রাস করে ব্যবসায়ীদের গ্যাস দেওয়া হোক।
এবার বলুন এ চারটি বিকল্পের মধ্যে কোনটি গ্রহণীয়? বলাই বাহুল্য, এসব বিকল্পের মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়াও কঠিন বিষয়। প্রতিটি প্রস্তাবের বিপক্ষে যুক্তি আছে। যেমন এলএনজি আমদানির বিষয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা এ সম্পর্কে বলেছেন, এলএনজি আমদানি করার মতো যথেষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা নেই। রিজার্ভের স্বল্পতা রয়েছে। আগামী ৬ মাসেও রিজার্ভের উন্নতির কোনো আশা নেই।
উপদেষ্টা যা বলেছেন, এর চেয়ে সত্য কথা আর হয় না। আমাদের রিজার্ভের পরিমাণ এক সময়ে ৪৮ বিলিয়ন (এক বিলিয়ন সমান শত কোটি) ডলারে উন্নীত হয়েছিল। এটা এখন নামতে নামতে ৩৬ বিলিয়নে ঠেকেছে। তাও আইএমএফের হিসাবে মেলে না। তারা বলছে, ৩৬ বিলিয়ন ডলার হচ্ছে ‘গ্রস’ হিসাব। ‘নিট’ হিসাবে তা আরও ৬-৭ বিলিয়ন কম। তাই সরকারকে আইএমএফ এবং অন্যান্য সূত্র থেকে ৫-৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ডলার খরচ করে এলএনজি আমদানির কথা ভাবা যায় কি? শত হোক এলএনজি আনতে হলে ডলার লাগবে, টাকা দিয়ে হবে না। এরপর আসে বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ হ্রাস করার প্রস্তাব। ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ প্রস্তাব। এমনিতেই সামান্য গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হলে মানুষ রাস্তায় নামে।
আবার কাগজে দেখলাম আমাদের স্বনামধন্য একজন কবি বলেছেন তার বাসায় নতুন করে গ্যাস সংযোগ দিতে। না দিলে তিনি তার স্বাধীনতা ও একুশে পদক বিক্রি করে দেবেন। কত বড় সাবধানবাণী, ভাবা যায়! বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাহিদা যখন এই, তখন সরকার কী করে ওই খাত থেকে গ্যাস এনে শিল্পে দেবে? তাছাড়া বাসাবাড়িতে গ্যাস ব্যবহার হয় কতটুকু? হিসাবে দেখা যাচ্ছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় মোট গ্যাসের ৪২ শতাংশ, শিল্পে ১৮ শতাংশ, ক্যাপটিভে ১৬ শতাংশ এবং সার উৎপাদনে ৬ শতাংশ। বাকিটা সম্ভবত গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত হয়। এটুকু গ্যাস ব্যবহার করেন শহরবাসী, যারা খুবই সোচ্চার জনগোষ্ঠী। তাদের বঞ্চিত করে সরকার শিল্পে গ্যাস দেবে বেশি বেশি-এটা কল্পনা করাও কঠিন। রইল এখন তৃতীয় সমাধান। এটি হচ্ছে, সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে ব্যবসায়ীদের দেওয়ার প্রস্তাব। এটা হবে এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত-তাই নয় কি?
প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন, খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করা দরকার, যাতে আমরা দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি না হই। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো তীব্র খাদ্য সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করছে। আমরাও বুঝতে পারছি, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা ছাড়া উপায় নেই। বিগত ‘কেয়ারটেকার’ সরকারের সময় ডলার দিয়েও চাল-গম আন্তর্জাতিক বাজারে পাওয়া যায়নি। এবারও তা-ই হতে পারে। অতএব, নিজের ওপর ভরসা করতে হবে। তা করতে হলে সার, বীজ, কীটনাশক, ব্যাংক ঋণ লাগবে বেশি বেশি করে। সেই জায়গায় যদি সার উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এমন সিদ্ধান্ত সরকার নেয়, তাহলে এটা কি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে না? বলাই বাহুল্য, এ মুহূর্তে সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে ব্যবসায়ীদের দেওয়ার চিন্তা হবে আত্মঘাতী।
সবশেষ যে প্রস্তাবটি ব্যবসায়ীরা দিয়েছেন তা হচ্ছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কমানো এবং সেখান থেকে তাদের গ্যাস দেওয়া হোক। বিদ্যুৎ না পেয়ে এমনিতেই সবাই নাকাল। এমনকি কৃষি খাতে পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ অপ্রতুল। এ অবস্থায় এই প্রস্তাবটিরও গ্রহণযোগ্যতা কম। এ প্রেক্ষাপটেই নিবন্ধের শুরুতে বলেছি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা পড়েছেন ‘মাইনকার’ প্যাঁচে। কোন্ বিকল্প সুপারিশ করবেন তিনি সরকারের কাছে? জীবনের পরীক্ষা-তা নয়তো আর কী? এ অবস্থায় পড়েই তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে আমরা দিনের বেলা বিদ্যুৎ ব্যবহার করব না।
এ প্রেক্ষাপটে তাহলে করণীয় কী? একটা সমাধান সূত্র বের করতে হবে। এখানে বেশ কয়েকটি বিবেচ্য বিষয় আছে। ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন, বাড়িঘরে প্রয়োজন, সার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন-এ কয়েকটি প্রয়োজনের নিরিখে একটা ‘উইন-উইন’ সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। এটা পারবে সরকারের বিভাগগুলো। তারা তথ্যসমৃদ্ধ। সর্বশেষ তথ্য তাদের কাছে আছে। সেই মোতাবেক একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হয়তো সবাইকেই এ দুঃসময়ে ছাড় দিতে হবে এবং বাস্তবে দিচ্ছেও। এসবে কোনো আপত্তি নেই। তবে কয়েকটি কথা বলা দরকার। শিল্পের উৎপাদন ঠিক রাখার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে, অনেককেই ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। সবই ঠিক আছে। এখানে অবশ্যই ব্যবসায়ীদের দেশের মানুষ ও সরকারের স্বার্থের কথা বিবেচনা করতে হবে। সব ব্যবসায়ী নন, ব্যবসায়ীদের একাংশ নানা অনিয়মে জড়িত। সরকারের অনেক বাধা-নিষেধাজ্ঞা তারা মানেন না।
যেমন, অভিযোগ আছে, অনেক কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ আছে। যাদের ক্ষেত্রে এ কথা সত্য, তাদের স্বেচ্ছায় সেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। অনেকের কাছে প্রচুর টাকা বকেয়া। সেসব বকেয়াও তাদের পরিশোধ করে দিতে হবে। অভিযোগ আছে, অনেক ব্যবসায়ী সরকারকে নিয়মিত ‘ট্যাক্স’ দেন না। অনেকের ইনকাম ট্যাক্স ফাইলও নাকি নেই। এটা সত্য কিনা তা দেখবে এনবিআর। তবে দেশের এ দুঃসময়ে ব্যবসায়ীদের আরও অবদান রাখতে হবে। আমাদের দেশে কর ও জিডিপি হার খুবই কম।
অনেক ব্যবসায়ী কোনো করই দিতে চান না। কর অব্যাহতি, কর হ্রাস, কর মওকুফ ইত্যাদির সুযোগ তারা হরহামেশাই নিচ্ছেন। এর ফলে ট্যাক্স খাতে তাদের অবদান খুব বেশি নয়। জনসাধারণের ওপর বোঝা বেশি। কর আয়ে ব্যবসায়ীরা আরও বেশি অবদান রাখতে পারেন। যেমন ভ্যাট। এক্ষেত্রে প্রচুর ফাঁকি রয়েছে। কর কর্মকর্তারা বলেন, ভ্যাট ঠিকমতো ব্যবসায়ীরা দিলে প্রচুর রাজস্ব বৃদ্ধি পায়। ‘বন্ডেড ওয়্যার হাউজ’ নিয়ে অনেক কথা। এখানে পণ্য আসবে। পণ্য উৎপাদনের কাজে ব্যবহার হবে। তা রপ্তানি হবে। না, তা হচ্ছে না অনেক ক্ষেত্রে। ‘বন্ডেড’ গুদামের পণ্য বাজারে বিক্রি হয়। এটা চলছে বছরের পর বছর ধরে। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের অনেক অবদান রাখার সুযোগ আছে।
ব্যবসায়ীদের, কোম্পানির কর হ্রাস করতে করতে এমন এক জায়গায় আমরা উপনীত হয়েছি, যেখানে জনগণকে আয়করও দিতে হচ্ছে, ভোগ করও দিতে হচ্ছে। এখন সময় হয়েছে ব্যবসায়ীদের বৃহত্তর কর বোঝা বহন করার। আমরা জানি বিশ্বব্যাংকও তা-ই চায়। ঋণখেলাপ তাদের একটা বড় সমস্যা। হরেদরে ঋণখেলাপি-ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। অভিযোগ আছে, প্রণোদনার টাকা নিয়ে তাও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বিচার করা উচিত। বর্তমান অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকারদের উদ্দেশে বলেছিলেন একটা ব্যাপারে সাবধান হতে। অনেক ব্যবসায়ীর ছেলেমেয়ে-পরিবার বিদেশে। তাদের দেশে আসার সম্ভাবনা কম। অথচ তারা ব্যাংক থেকে সমানে ঋণ নিচ্ছেন।
অভিযোগ, এসব ঋণের অর্থও অনেকে বিদেশে পাচার করছে। এমন ব্যবসায়ীদের তিনি ঋণ দিতে বারণ করেছিলেন। এ উপদেশ ব্যাংকারদের মানা উচিত। ব্যবসায়ীদের উচিত হবে এ দুঃসময়ে ব্যাংকের টাকা নিয়মিত পরিশোধ করা। নানা অজুহাতে তারা বকেয়া বাড়াবেন, টাকা পরিশোধ করবেন না-এটা হয় না। প্রকৃত ভুক্তভোগীদের কথা আলাদা। এদের কথা ব্যাংকাররা জানেন। তারা সুযোগ পেতে পারেন।
তবে বাকিদের গ্যাস পেতে হলে ঋণখেলাপি হলে চলবে না, নিয়মিত ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করতে হবে। বিশেষ বিবেচনায় গ্যাস পেতে হলে শ্রমিক ছাঁটাই করা যাবে না-এটাও একটা শর্ত হতে হবে। শ্রমিকদের পাওনা টাকা নিয়মিত পরিশোধ করা তাদের কর্তব্য। এসব বিবেচনা সাপেক্ষে সরকার বর্তমান গ্যাস সংকটে একটা ‘গোল্ডেন মিন’ খুঁজে বের করতে পারবে বলে আশা করি। মানুষও কষ্ট করতে রাজি হবে, যদি দেখা যায় ব্যবসায়ীরা দায়িত্বশীল আচরণ করছেন। নতুবা শুধু একপক্ষের লোকসান আর ব্যবসায়ীদের লাভ-এটা মানা কঠিন হবে।
পরিশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটা আহ্বানের কথা দিয়ে উপসংহার টানতে চাই। একটি টিভি চ্যানেলের খবরে দেখলাম, দেশের এ কঠিন সময়ে তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জনগণের পাশে দাঁড়াতে। সত্যিই এটা কঠিন সময়। জ্বালানি তেলের অভাব, মূল্যস্ফীতি, কম বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স ব্যবসায় মন্দা, যুদ্ধ প্রলম্বিত হওয়া-এর চেয়ে খারাপ সময় আর কী হতে পারে?
ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
