নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি
সবার আগে খাদ্যনিরাপত্তা
Advertisement
ড. আর এম দেবনাথ
প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এ মুহূর্তে সরকারের সামনে অবশ্যকরণীয় কাজ কী, বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে-এ প্রশ্নের জবাব অনেক। তেল-গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখা, ডলারের সরবরাহ নিয়মিত রাখা, ভর্তুকিতে খাদ্য প্রদান, মূল্যস্ফীতি স্থিতিশীল রাখা, শিল্প উৎপাদন অব্যাহত রাখা, কর-রাজস্ব বৃদ্ধি করা, আমদানি সংকুচিত রাখা, রপ্তানি বাড়ানো, প্রবাসী আয় বাড়ানো, ঋণ সরবরাহ সীমিত রাখা, ব্যাংক আমানত প্রবাহ বাড়ানো ইত্যাদি।
কোনটা সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাবে, কোনটা পরে-নিশ্চিতভাবেই এটা এক বড় সমস্যা। একটা করলে আরেকটা পেছনে পড়ে যায়, যা সম্ভব নয়। আবার অনেকগুলো কাজ একযোগে করণীয়। আরও রয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেশ অনুযায়ী মিতব্যয়ী হওয়া, সঞ্চয়ী হওয়া, বাজে খরচ হ্রাস করা। আমার কাছে সবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
তবুও আমার মনে হয় সরকারের সামনে অবশ্যকরণীয় কাজ তিনটি-এক. খাদ্যনিরাপত্তা, দুই. খাদ্যনিরাপত্তা এবং তিন. খাদ্যনিরাপত্তা। অর্থাৎ খাদ্যনিরাপত্তাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। শত হোক পেট ভরা থাকতে হবে। অভুক্ত থাকা যাবে না। উপস থাকা যাবে না। এটা শুধু এ মুহূর্তের কাজ নয়, বরাবরের কাজ। অত্যন্ত জরুরি কাজ। চাল আমাদের লাগবেই। ভাত আমাদের লাগবেই। সব উন্নয়ন ও কর্মকাণ্ডের সর্বাগ্রের কথা ‘পেটে ভাত’। যদি মরিচ-লবণ দিয়ে খেতে হয়, হবে-খাদ্য দরকার।
এ কথাটা সরকারের আর কেউ বুঝুক বা না বুঝুক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বুঝেছেন সবার আগে। তাই তিনি বারবার আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে আমাদের সাবধান করছেন। তিনি বলছেন আসন্ন দুর্ভিক্ষের কথা, খাদ্যাভাবের কথা-শুধু আমাদের নয়, সারা বিশ্বের। তিনি এটা উপলব্ধি করে বলছেন, এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি রাখা যাবে না। গ্রামেগঞ্জে যেখানে যত জমি আছে, তা আবাদ করতে হবে। খাদ্যশস্য উৎপাদন ঠিক রাখতে হবে, বাড়াতে হবে। গ্রামের ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র, কুটিরশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
বলাই বাহুল্য, খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দরকার সার, বীজ, সেচের জল, কীটনাশক এবং ব্যাংক ঋণ। কৃষিকাজ এখন ব্যয়বহুল। কৃষকরা অল্প খরচে কিছু করতে পারে না। অথচ খরচ করার, বিনিয়োগ করার মতো অর্থ তাদের সিংহভাগের নেই। আমরা জানি, আর কেউ না হোক, আমাদের কৃষকরা তাদের দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে বরাবর পালন করে আসছেন; কিন্তু বিনিময়ে তারা পান শুধু অবহেলা। এবার যেন এটা না হয়। সামনে বিপদ।
২০২৩ সাল সংকটে পূর্ণ হবে সারা বিশ্ব। বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। এ কারণে খাদ্যশস্য উৎপাদনে কোনো গাফিলতি করা যাবে না। সার, সেচের পানি, বীজ, কীটনাশক সরবরাহের ব্যবস্থা আগেভাগে ঠিক রাখতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় যে বিদ্যুতের দরকার হবে, তা জরুরিভিত্তিতে সরবরাহ করতে হবে। দরকার হবে প্রচুর ঋণের। বাজেটে দেখলাম, কৃষিঋণের ব্যবস্থা ২০২২-২৩ সালের জন্য রাখা হয়েছে মাত্র সাড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা। এটা আগের হিসাব।
বর্তমান মূল্যস্ফীতির কথা মাথায় রেখে ঋণের পরিমাণ কম করে হলেও ৩০ হাজার কোটি টাকা করতে হবে। আর সুদ? বর্তমানে আমার জানামতে কৃষিঋণে ৪ শতাংশ হারে সুদ ধার্য করা হয়। আমি মনে করি, এই হার অত্যধিক। আরও ভর্তুকি দিয়ে এই হারকে দুই শতাংশ করা উচিত। সবচেয়ে বড় কথা, ঋণের শুধু টার্গেট করলেই হবে না, তার বণ্টন শতভাগ নিশ্চিত করা দরকার। এক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি সহ্য করা ঠিক হবে না।
খবরে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের হিসাবমতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমাদের চাল উৎপাদন হতে পারে ৩ কোটি ৫৬ লাখ টন, যা গত বছরের তুলনায় ২ লাখ টন কম। এটা খবর হিসাবে ভালো নয়। কারণ, দেখা যাচ্ছে প্রতিবছর আমাদের কিছু না কিছু চাল আমদানি করতে হয়। গম আমদানি তো অবশ্যই করতে হয় এবং তা ভালো পরিমাণের। এমতাবস্থায় চালের উৎপাদন হ্রাসের তথ্য ভালো ঠেকছে না।
অবশ্য কৃষিমন্ত্রী বলছেন, এবারের আমন ফসল হয়েছে বাম্পার-ফলন খুবই ভালো। আসন্ন বোরোর প্রস্তুতিও ভালো। তার কথা আমরা বিশ্বাস করতে চাই। এখানে তথ্যের কোনো লুকোচুরি কাম্য হবে না। কথা হচ্ছে, চালের উৎপাদন স্বাভাবিক হলেও আমাদের প্রচুর খাদ্যশস্য আমদানি করতে হয়। ২০১৮-১৯ সাল থেকে শুরু করে প্রতিবছরই আমরা বেশ ভালো পরিমাণের গম এবং কিছু চাল আমদানি করছি।
অতএব বলার কথা হচ্ছে, খাদ্যনিরাপত্তা শুধু দেশীয় সরবরাহ দিয়ে নিশ্চিত করা যাবে না। আমদানি লাগবেই। আমদানি থেকে রক্ষা নেই। গম ও চাল আমদানি নয় শুধু, অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের মাধ্যমে মানুষকে দুই বেলা খাবার দেওয়া সম্ভব নয়। খোলাবাজারে বিতরণ, এক কোটি পরিবারকে স্বল্পমূল্যে চাল বিতরণ এবং অভ্যন্তরীণ বাজার ঠিক রাখার জন্য চালের সরবরাহ অব্যাহত রাখার উদ্দেশ্যে আমদানি আমাদের করতেই হবে। একটি কাগজের রিপোর্টে দেখতে পেলাম বেশকিছু উদ্বেগের খবর।
গত ৮ নভেম্বরে প্রকাশিত ওই খবরে বলা হচ্ছে, চলতি অর্থবছরে (২০২২-২৩) ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সরকারিভাবে ১৪ লাখ ৩০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ টন আমদানির চুক্তি হয়েছে। আর বেসরকারি খাতে ১৫ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে খবরটিতে বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি খাতে গত জুলাই-অক্টোবর মাসের মধ্যে মাত্র ৩ লাখ ৩ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে।
এর অর্থ, মোট প্রায় ৩০ লাখ টন চাল আমদানি করতে হবে। অথচ ৪ মাসে আমদানি হয়েছে মাত্র ৩ লাখ টন। এটা কি ক্রয়সংক্রান্ত পদ্ধতিগত জটিলতার জন্য, না ডলারের অভাবের জন্য, না খাদ্যশস্যের প্রাপ্যতার অভাবের জন্য, তা বোঝা যাচ্ছে না। তবে কথা হচ্ছে-এত চাল আমদানি কেন? তাহলে গম আমদানি কম হবে? এসব বিষয় আমাদের জানা নেই। তবে এটুকু বুঝি, চাল-গম মিলে আমাদের প্রচুর আমদানি করতে হবে। এখানে ডলার যেমন দরকার, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারে চাল-গমের উৎসেরও দরকার। রাশিয়ার গম কি আমদানি করা সম্ভব? ভিয়েতনাম ও ভারত ইত্যাদি দেশের খাদ্যশস্য রপ্তানির অবস্থা কী, তাও জানা দরকার।
সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের কত চাল ও গম দরকার-এ তথ্য কে দেবে? কার কাছে সঠিক হিসাবটি আছে? খাদ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, বিবিএস একেকবার একেক তথ্য দেয়। খাদ্যশস্যের প্রাপ্যতা নিয়ে, উৎপাদনের পরিমাণ নিয়ে মন্ত্রীদের মধ্যে পর্যন্ত বাহাস হয়। এমতাবস্থায় আমাদের মাথাপিছু কত খাদ্যশস্য প্রয়োজন তা জানা দরকার, জানা দরকার দেশে উৎপাদন হবে কী পরিমাণ চাল-গম। সবশেষে আমদানির পরিমাণ কত হবে। এসব নিয়ে অন্য সময় যাই হোক, এবার ‘হেলাফেলা’ করা যাবে না। আন্তর্জাতিক বাজার অনিশ্চিত। ক্রমেই তা আরও জটিল হতে পারে।
এমতাবস্থায় চাল-গম আমদানির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অতিসত্বর করতে হবে। গুদাম প্রস্তুত রাখতে হবে। ‘ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম’ নিখুঁত রাখতে হবে। আমি মনে করি, গত চার মাসের আমদানির তথ্য/পরিসংখ্যানের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে জরুরিভিত্তিতে বসা দরকার। মনে রাখতে হবে, চাল-গমের উৎপাদন এবং আমদানি দুটির ওপরই নির্ভর করে খাদ্যনিরাপত্তা। আমাদের এখন চাল যেমন দরকার, তেমনি গমও দরকার।
গম এখন বহুল ব্যবহৃত খাদ্যশস্য। গমের/আটার রুটি খায় না এমন বাঙালি এখন খুবই কম। অবশ্য খাদ্যনিরাপত্তার মধ্যে আরও কিছু খাদ্যদ্রব্য পড়ে। ফল-মূল, তরিতরকারি, মাছ-মাংস, দুধ ইত্যাদিও এর মধ্যে যোগ করা যায়। বর্তমানে দেশে এসবের উৎপাদন সন্তোষজনক; যদিও মাছ-মাংসের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ফিডের’ দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে এই খাতেও প্রচুর ঋণ সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে এসবের উৎপাদনে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
বিগত কয়েক বছরে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে বেশ পরিবর্তন এসেছে। চালের ওপর নির্ভরশীলতা হিসাবে কমার কথা। যদি তা হয় তাহলে এত চাল লাগে কোথায়? উৎপাদন, ভোগ ও আমদানির তথ্যে মিল পাওয়া যায় না। এ সমস্যাটা আমাদের প্রচুর ক্ষতি করছে। শুধু এক্ষেত্রেই নয়, আরও কিছু ক্ষেত্রে তথ্যের অভাব, লুকোচুরি আমাদের জন্য নানা জটিলতা তৈরি করছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের তথ্য-পরিসংখ্যান।
আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কত? এক সময়ে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন (শত কোটিতে এক বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়িয়েছিল আমাদের রিজার্ভের পরিমাণ। অর্থমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, শিগ্গির আমাদের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০ বিলিয়ন ডলারে। প্রায় প্রতিদিন রিজার্ভ বাড়ার খবর দিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমরা এসব খবরে আশাতীতভাবে আশ্বস্ত হতাম।
ভাবতাম, শূন্য থেকে শুরু করে আজ আমাদের রিজার্ভের পরিমাণ ৪৮ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে, যে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, তাদের রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারও নয়। এমনকি ভারতের তুলনায়ও আমাদের রিজার্ভ বাড়ছিল শতকরা হারে। রিজার্ভের গতিপ্রকৃতি দেখে অনেকেই তখন পরামর্শ দেন এই রিজার্ভ থেকে ডলার নিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য খরচ করতে। এ নিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে একটা তর্ক-বিতর্কও জমে উঠেছিল। কেউ ছিলেন এর বিরুদ্ধে, কেউ ছিলেন পক্ষে। যারা বিরুদ্ধে ছিলেন, তারা বললেন রিজার্ভে হাত দেওয়া ঠিক নয়।
রিজার্ভ দুর্দিনের জন্য। রিজার্ভের ওপর ডলারের বিনিময়মূল্য নির্ভর করে। রিজার্ভ হ্রাস পেলে ডলার কিনতে বেশি টাকা লাগবে। এতে আমরা যেহেতু আমদানিনির্ভর দেশ, তাই আমদানিকৃত পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। আবার যারা রিজার্ভের টাকা অবকাঠামো উন্নয়নে খরচ করতে পরামর্শ দিচ্ছিলেন, তারা বলছিলেন অলস রিজার্ভ কোনো কাজের কথা নয়। রিজার্ভ খরচ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই তর্ক-বিতর্কে বেশ কিছুদিন গেছে। যা হওয়ার তা-ই হয়েছে।
এখন দেখা যাচ্ছে রিজার্ভ হ্রাস পেয়ে ২৬-২৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। তাও অল্প কিছুদিনের মধ্যে এটা ঘটেছে। হঠাৎ করে এত রিজার্ভ কমায় হিসাব, পুনঃহিসাব শুরু হয়। এতে এসে যোগ দিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তারা বলল, তোমাদের হিসাব ঠিক নেই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড তোমরা অনুসরণ করছ না। বহুদিন আমরা আইএমএফের কথায় কর্ণপাত করিনি। যখন তাদের কাছে ঋণের জন্য আমরা গিয়েছি, তখন তারা ধরে বেসেছে।
বলেছে, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের হিসাব/ পরিসংখ্যান ঠিক কর। স্ফীতি করে ‘রিজার্ভ’ দেখানো যাবে না। আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি মানতে হবে। এর মানে কী? আমরা কী করলাম যে আমাদের রিজার্ভের পরিমাণ বেশি দেখায়? আসলে হয়েছে কী, আমরা ‘রিজার্ভ’ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছি বেসরকারি খাতের রপ্তানিকারকদের। এটা দেওয়া হয়েছে একটা ‘ফান্ড’ গঠন করে, যার নাম ‘রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল’ (ইডিএফ)।
এছাড়া আরও কিছু ক্ষেত্রেও রিজার্ভ থেকে ডলার নিয়ে খরচ করা হয়। এর মাজেজা হচ্ছে, এই টাকা রিজার্ভে যোগ করে দেখানো যাবে না। রিজার্ভ যা আছে তার থেকে ইডিএফ এবং নানা খাতে প্রদত্ত ডলার বাদ দিতে হবে। এই হচ্ছে মূল কথা। এর ফলে রিজার্ভ যা কমার, তা তো কমেছেই আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবং কমেছে কম রপ্তানি, কম প্রবাসী আয়, কম বৈদেশিক ঋণ প্রবাহের কারণে। অধিকন্তু ৮ বিলিয়ন ডলার বাদ এখন ‘ইডিএফ’ লোনের কারণে।
প্রশ্ন হলো, আমরা কি জানতাম না আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুনের কথা? বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কি জানতেন না কীভাবে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের হিসাবায়ন করতে হয়? নিশ্চিত তারা তা জানতেন। কিন্তু স্ফীত রিজার্ভের পরিমাণ দেখাতে গিয়ে এই বিপত্তি। কে স্ফীত দেখাতে বলল-এটি এক বিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। যাই হোক, দুর্ঘটনা যা ঘটার ঘটে গেছে। ‘ইডিএফ’ করতে গিয়ে আজ হঠাৎ ৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ কমে গেছে।
ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
