Logo
Logo
×

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মোটামুটি সফল হয়েছে নির্বাচন কমিশন

Advertisement

Icon

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মোটামুটি সফল হয়েছে নির্বাচন কমিশন

Advertisement

৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বেশ চ্যালেঞ্জের ছিল। এর একটা বড় কারণ হলো, গত দুই নির্বাচনে বড় ধরনের দুটি সমালোচনা হয়েছিল। এবং ওই দুই সমালোচনা থাকার কারণে গ্রহণযোগ্যতার একটা প্রশ্ন চলে এসেছিল। ওই দুটি নির্বাচনের একটিতে ভোটের আগের দিন বা রাতে ‘ব্যালট স্টাফিং’ হয়েছিল বলে একটা বড় সমালোচনা ছিল। আরেকটি সমালোচনা ছিল যে, অনেকেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখেন যে তার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। এ দুটি সমালোচনা থাকার কারণে এবার নির্বাচন কমিশন, সরকার অর্থাৎ যারা এ নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা এই দুটি চ্যালেঞ্জকে মুখ্য চ্যালেঞ্জ হিসাবে ধরে নিয়েছিলেন। এখানে অনেকেই হয়তো বলবেন, নির্বাচনে বিরোধী দল, বিশেষ করে বিএনপির না আসাটাও একটি চ্যালেঞ্জ ছিল কিনা। কিন্তু আমি মনে করি না সেটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ একটা দল যদি না আসে, সেটা ওই দলের রাজনীতির ব্যাপার। যেটা নিয়ে হয়তো আলোচনা করা যেতে পারে যে, কেন তারা এই নির্বাচনে এলেন না। অনেকে ভোটার টার্নআউটের কথাও বলছেন, যে এটাও চ্যালেঞ্জ ছিল কিনা। তো আমি মনে করি না যে সেটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ অনেক গণতান্ত্রিক দেশেই দেখা গেছে, ভোটার টার্নআউট খুবই কম থাকে। এমনও হয়েছে যে, আমেরিকার প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে ৫০ শতাংশের নিচে তো বটেই, কোনো কোনো প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে আরও কম শতাংশ ভোট পড়েছিল। কাজেই ভোটার টার্নআউট ততটা বড় চ্যালেঞ্জ নয়, যতটা না প্রথম দুটি চ্যালেঞ্জ। অর্থাৎ নির্বাচনের প্রক্রিয়াটা ঠিক আছে কিনা।

আমি মনে করি, প্রথম দুটি চ্যালেঞ্জের বিষয়টি মোটামুটি সমাধান করতে পেরেছে নির্বাচন কমিশন। কিংবা বলা যায়, তারা সেই চেষ্টাটা করেছে। যেমন প্রথম যে চ্যালেঞ্জ অর্থাৎ ব্যালট স্টাফিং, সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন অধিকাংশ কেন্দ্রেই বা ৯৩ শতাংশ কেন্দ্রে ভোটের দিন ব্যালট বাক্স পাঠিয়েছে। দু-একটি বাদ দিলে সবকটিতেই নির্বাচন কমিশন ব্যালট বাক্স পাঠিয়েছে। আর প্রত্যন্ত এলাকায় দূরত্বের কারণে স্বাভাবিকভাবেই আগে পাঠাতে হয়েছে। কাজেই যে সমালোচনাটা ছিল যে, ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়েছে, এবার কিন্তু তা হতে পারেনি।

আর দ্বিতীয় যেটা, নির্বাচনের দিনে কোনো ভোটার নিজের ভোটটা দিতে পেরেছে কিনা। এবার সেই সমালোচনাটা আসেনি। সমালোচনা কিছু হয়তো হয়েছে। যেমন আমি শুনেছি, কেউ কেউ বলছেন, দুপুর ৩টায় ভোটার টার্নআউট ২৯ শতাংশ ছিল, তাহলে এক ঘণ্টার মধ্যে কেন ৪০ শতাংশ হয়ে গেল? এক্ষেত্রে মনে হয় তারা বিষয়টা ঠিকমতো বোঝেননি। কারণ ৩টার সময়ে যে ২৯ শতাংশের কথা বলা হয়েছে, তার মানে কিন্তু সেটা ৩টার সময়েই হয়নি। সেই পরিসংখ্যান নিতে হলে গণনার ব্যাপার আছে। সেটা করতে গেলে ঘণ্টাখানেক তো মিনিমাম সময় লাগেই, তার চেয়ে বেশিও লাগে। তার মানে আমি ধরে নিচ্ছি, দুপুর ১টা-২টার দিকে যে ভোটগুলো হয়েছে, সেটার ২৯ শতাংশ। এ বিষয়টা অনেকেই খেয়াল করছেন না। তারা ভাবছে, এক ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে এ সংখ্যা বেড়ে গেল। আসলে এক ঘণ্টার মধ্যে বাড়েনি, কারণ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় যেহেতু পোলিং বুথ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, সেহেতু সেসব জায়গা থেকে সব হিসাব একসঙ্গেই আসেনি। কাজেই ৩টার সময় যে শতাংশের কথা বলা হয়েছে, তখন সেটা কমপ্লিট হয়ে গেছে। আমি যেহেতু সার্ভে নিয়ে কাজ করি, তাই আমার ভালো করেই জানা আছে, এসব বিষয়ে যথেষ্ট সময় লাগে। অনেক হয়তো ফিগার এসেছে, যেটা ১২-সাড়ে ১২টার ফিগার। সেটা দিয়েই হয়তো ঘোষণা করা হয়েছে।

এ সমালোচনাটাও আমরা দেখলাম যে, বিদেশিরা অর্থাৎ যারা এখানে পর্যবেক্ষণ করতে এসেছিলেন, তারা এ বিষয়টাকে বড় আকারে নেননি; কারণ তারা নিশ্চয়ই বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন যে কী কারণে এমনটা হয়েছে। কাজেই সেই হিসাবে আমরা মোটামুটি দেখলাম, বিদেশি পর্যবেক্ষকরা ব্যালট বক্স স্টাফিং করা হয়েছে কিনা, সে ব্যাপারেই জোর দিয়েছিলেন। এ কারণে অনেকে ভোটগ্রহণের আগেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখেছেন ভোট বাক্সগুলো। এ বিষয়টাও খেয়াল রাখা দরকার।

যেহেতু প্রথম দুটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা গেছে, পর্যবেক্ষকরা টার্নআউটের ব্যাপারেও মনে করেন না যে সেখানে কোনো ঝামেলা ছিল। যেমন তারা নিজেরাও বলেছেন, তাদের দেশেও অনেক নির্বাচনে অনেক কম ভোটার টার্নআউট হয়। তবে যেটা খেয়াল রাখা দরকার, সেটা হলো নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়াটা ঠিক ছিল কিনা। পর্যবেক্ষকরা সে ব্যাপারে বড় আকারেই প্রশংসা করেছেন যে, এবারের নির্বাচনের প্রক্রিয়াটা ঠিক ছিল। তারা কোনো বাধা দেখেননি, এমনকি যে সংঘর্ষগুলো হয় বড় আকারে, এবার তেমনটাও হয়নি। এদিন সহিংসতায় দুজন মারা গেছেন, সেটা অবশ্যই দুঃখজনক। তবে বড় আকারে সংঘর্ষ কিংবা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা এবার ঘটেনি।

এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য যে বিষয়টা ছিল সেটা হলো, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এবার বড় আকারে জিতে আসা। এই যে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতে এলেন, এটাকে আমি মনে করি, ভবিষ্যতে কী ধরনের নির্বাচন হবে এবং কী ধরনের সংস্কার হতে পারে সেটার ইঙ্গিতবাহী। এবার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জিতে আসার মাধ্যমে হয়তো আমরা সেটা পাচ্ছি। কারণ এখানে মনে রাখতে হবে, বিএনপি না আসার পেছনে আমরা যেটা শুনতে পাচ্ছি সেটা হলো, তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না যে সরকারি দল একটা সঠিক নির্বাচন দেবে। বরং তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাই চাইছে। যদিও মনে রাখতে হবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বিতর্কিত কিন্তু বিএনপিই করেছিল, যখন তারা ক্ষমতায় ছিল। সে জায়গায় যদি দৃষ্টি দেই, সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ফেরত যাওয়ার কোনো কারণ আছে কিংবা সরকারি দল কখনো মানবে, তা আমার মনে হয় না।

এখানে দুটি বিষয় দেখা দরকার। একটা হলো, দেশে যে বড় দলগুলো আছে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্ল্যাটফর্মগুলো। তারা মেগা আইডেন্টিটির রাজনীতির মধ্যে পড়ে গেছে। এখন মেগা আইডেন্টিটির যে রাজনীতি, এটা বিদেশিরাও মাঝে মাঝে বুঝতে পারে না যে তারা কেন সংলাপে বসতে পারে না। আমাদের দেশেও অনেকে বুঝতে পারেন না বা বলতে থাকেন যে, কেন সংলাপ হচ্ছে না, বড় দল দুটি কেন আলোচনায় বসছে না। রাজনীতি যখন মেগা আইডেন্টিটির মধ্যে পড়ে যায় এবং দুটি একেবারে বিরোধী আইডেন্টিটি, তখন দেখা দরকার আসলে কেন এই মেগা আইডেন্টিটি রাজনীতির মধ্যে পড়ে গেছে। আমরা দেখতে পাই, দুটি প্ল্যাটফর্ম একাধিক বিষয়ে একেবারে ভিন্নমত পোষণ করে। একাত্তরের ব্যাপারে যদি আমি বলি, এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন। গণহত্যার ব্যাপারে তাদের একেবারেই ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান। তারপরে মর্মান্তিক যে ঘটনা ঘটেছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, সে ব্যাপারেও তাদের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। তারপর জাতির পিতাকে নিয়েও রয়েছে ভিন্নতা। এরপর ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট যে ঘটনা ঘটল, যখন তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ওপর গ্রেনেড হামলা হলো, সেটা যদি আমরা দেখি, তবে বোঝাই যাচ্ছে, যে আস্থা থাকা দরকার এ ধরনের নির্বাচনে, সেটা আমি তো মনে করি শূন্যও নয়, মাইনাসে চলে গেছে।

এখন সমস্যাটা হলো, যে সিস্টেমে আমরা নির্বাচন করি, যাকে ওয়েস্ট মিনস্টার সিস্টেম বলা হয়, সেই ওয়েস্ট মিনস্টার সিস্টেমের ন্যূনতম শর্ত হলো, বড় বড় দলের মধ্যে যেন আস্থা থাকে। তার মানে হচ্ছে, যে জিতবে সে এমন কিছু করতে পারছে না বিরোধী দলের সঙ্গে। আবার যে হারবে, সেও পুরোপুরি হেরে যাচ্ছে না। এমনটাই কাঠামো ওয়েস্ট মিনস্টার সিস্টেমে। কিন্তু আমরা আমাদের যে নির্বাচন প্রক্রিয়া পশ্চিমাদের কাছ থেকে নিয়েছি, সেটা কার্যকর করা আমি মনে করি একেবারেই অসম্ভব। কারণ বড় দলগুলোর দুটো বিরোধী প্ল্যাটফর্ম যে আছে, সেটা দুটো মেগা বিরোধী অস্তিত্বের মধ্যে পড়ে গেছে। এটা হলো একটা দিক। তবে অনেকেই মনে করেন, বিএনপির নির্বাচনে না যাওয়ার আরেকটি বড় কারণ হলো তাদের নেতৃত্ব। কারণ তাদের নেতৃত্বের প্রথম যে দুজন, তারা একই পরিবারের। মনে রাখতে হবে, দুজনেই কিন্তু আইন দ্বারা কখনো নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করতে পারবেন না; কারণ তারা দুজনই কনভিক্টেড। সে জায়গায় আমি মনে করি, তাদের একটা বড় ঝামেলা হয়েছে। এটা বোঝা খুবই সহজ। কারণ, বিএনপি গত ৪-৫ বছর যে রাজনীতি করছে-মূলত ওই দুজনের সাজা যেন মওকুফ হয় কিংবা তারা যেন মুক্তি পান। এ ব্যাপারেই কিন্তু তাদের রাজনীতিটা ছিল। এক্ষেত্রে সরকারি দল স্বাভাবিকভাবেই বলবে যে, এটা আইনের বা আদালতের ব্যাপার। অর্থাৎ সেখানে তাদের কোনো হাত নেই।

এখন সমস্যাটা হলো, যেহেতু দলটির নেতৃত্বে প্রথম দুজনই একই পরিবারের, কাজেই তৃতীয় কাউকে নেতৃত্বে উঠিয়ে আনা। এখানে হয়তো ঝামেলা আছে। কারণ তৃতীয় কেউ যদি নেতা হয়ে আসেন, তাহলে হয়তো পুরো দলটি পরিবার থেকে অন্য জায়গায় চলে যেতে পারে। যেটা আমরা ভারতে কংগ্রেসের ক্ষেত্রে দেখছি। দলে সোনিয়া গান্ধী বা রাহুল গান্ধীর যে কাঠামো, সেখানেও আমরা একই বিষয় দেখলাম যে, প্রণব মুখার্জিকে রাষ্ট্রপতি বানিয়ে সরিয়ে দেওয়া হলো। এমনকি শশী থারুর যখন দাঁড়ালেন নির্বাচনে জেনারেল সেক্রেটারি হিসাবে, তিনিও হেরে গেলেন। কারণ সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী চাইছেন না, এমন কেউ নেতৃত্ব দিক কংগ্রেসে, যেখানে তাদের পরিবার সরে যাবে। ওই ভয়ের কারণে কিনা, তা নিয়ে অনেকেই আলোচনা করেছেন। আমিও মনে করি, এটা দেখা দরকার যে, নেতৃত্বের কারণেই তারা এবার এই নির্বাচনে আসেননি কিনা।

এটা ঠিক, সরকারি দলের অধীনে নির্বাচন হলে অনেকে অনেক সুযোগ নেয়। তবে এটাও খেয়াল রাখতে হবে যে, নির্বাচন যখন হয় তখন কিন্তু একটা সুযোগ তৈরি হয় জনগণের সঙ্গে একেবারে সম্পৃক্ত হওয়ার। তারা নির্বাচন বর্জনের মাধ্যমে সেই সম্পৃক্ততাটা অর্জন করতে পারলেন না। তারা যদি নির্বাচনের আসার পরে দেখতেন জাল ভোট হয়েছে বা নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, তবে তো তারা সেটা হাইলাইট করতে পারতেন। কিন্তু অংশগ্রহণ না করার কারণে সেটাও তারা করতে পারলেন না।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক যারা পর্যবেক্ষক ছিলেন, তারা বলছেন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন হয়ে গেছে। এর ফলে বিএনপির যে যুক্তিটা ছিল, তা আর বড় যুক্তি হয়ে থাকল না। নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তারা বরং জনগণের কাছ থেকে আরও বেশি দূরে চলে গেল।

এখন নির্বাচনের পর ভবিষ্যতে কী হবে তা বলা মুশকিল। এটা সরকারি দলের ওপর অনেকটা নির্ভর করবে। তাদের ওপর জনগণের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, যে স্মার্ট বাংলাদেশের কথা বলা হচ্ছে, উন্নয়নের কথা হচ্ছে, সেটা কতখানি জনগণকে বড় আকারে উন্নতির মাপকাঠিতে নিয়ে আসবে সেটা দেখার বিষয়। মনে রাখতে হবে, যতই অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা বলি না কেন, জনগণ দেখবে তার নিজের অবস্থা ভালো হলো কিনা। সেই জায়গায় সরকারি দল কতখানি মনোযোগী হবে সেটা দেখা দরকার।

এখানে বলা দরকার, বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যাকে বলা হয়, তা কখনোই ছিল না। স্বাধীনতার পর থেকে বা স্বাধীনতার আগে তো ছিলই না। স্বাধীনতার পর থেকে আমরা দেখেছি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কখনোই ছিল না, পঁচাত্তরের ঘটনাই সেটা প্রমাণ করে। যেটা প্রথমবার হয়েছে ২০০৮-এর নির্বাচনের পর বা ২০০৯ থেকে, সেটাও হলো রেজিম স্ট্যাবিলিটি।

এখন এই নির্বাচনে যেহেতু চতুর্থবার জয়ী হলেন প্রধানমন্ত্রী বা একই দল, তাতে বোঝা গেল যে রেজিম স্ট্যাবিলিটি থাকবে। আমরা অনেক দেশেই দেখেছি, রেজিম স্ট্যাবিলিটি আছে; কিন্তু পলিটিক্যাল স্ট্যাবিলিটি নেই। এমন দেশে রেজিম স্ট্যাবিলিটি (সরকারের স্থিতিশীলতা) আছে বলেই তারা বিভিন্ন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারছে। বিভিন্ন বাণিজ্য, লেনদেন ইত্যাদি তারা স্বাভাবিকভাবেই আকর্ষণ করতে পারে। কারণ যারা বিনিয়োগ করে, তারাও দেখে যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলেও যেহেতু রেজিম স্ট্যাবিলিটি আছে, তাতে তাদের বিনিয়োগে কোনো ঝামেলা হবে না। এখন সেটা দেখা দরকার। আমরা হয়তো পরবর্তী তিন মাসের মধ্যেই বুঝতে পারব যে বিদেশিরা কতখানি এই রেজিম স্ট্যাবিলিটির ওপর গুরুত্ব দেবে। সেই হিসাবে কত বড় আকারে বিনিয়োগ আসবে, যা আগে থেকে শোনা যাচ্ছে, তা কতখানি বাস্তবায়িত হবে।

স্বাভাবিকভাবেই সরকারি দলের যে ইশতেহার, বিশেষ করে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে একটা স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরি করা, সেটা করতে হলে পেশাদারত্ব বাড়ানো দরকার। সেক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধুর একটি উক্তি ছিল ‘চাটার দল’ থেকে সাবধান হওয়া বা ‘চাটার দল’ থেকে দূরে থাকা। সেই কাজটা সরকার কতখানি করতে পারবে, তা দেখতে হবে। কারণ পেশাদারত্বটা একটা বড় ব্যাপার। বাংলাদেশকে একটা আসলেই উন্নত দেশ হিসাবে যদি গড়তে হয়, তবে পেশাদারত্ব বাড়াতে হবে এবং এই চাটার দলকে যাতে দূরে রাখা যায়, সেই কাঠামো তৈরি করতে হবে। (অনুলিখন)

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ : অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Advertisement

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ইসি

Advertisement

আরও পড়ুন

রাজনীতির ভাষা

রাজনীতির ভাষা

দিল্লিতে কী হচ্ছে

দিল্লিতে কী হচ্ছে

অর্থনীতির রক্তক্ষরণে ফুটো বন্ধ করবে কে?

অর্থনীতির রক্তক্ষরণে ফুটো বন্ধ করবে কে?

হালফিল বয়ান ধর্ষণ বৃদ্ধি কীসের আলামত

ধর্ষণ বৃদ্ধি কীসের আলামত

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম