একজন তালেবানও ঢুকতে পারেনি পঞ্জশিরে
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এখন পর্যন্ত একজন তালেবানও ঢুকতে পারেনি পঞ্জশিরে। শনিবার স্থানীয় দৈনিক তোলো নিউজকে দেওয়া এক সক্ষাৎকারে একথা বললেন উপত্যকার ন্যাশনাল রেজিস্টান্স ফোর্স-এনআরএফ (সাবেক নাম নর্দার্ন অ্যালায়েন্স) প্রতিনিধি দলের প্রধান মহম্মদ আলমাস জাহিদ। তিনি বলেন, ‘তালেবানদের সঙ্গে লড়াইয়ের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। পঞ্জশির উপত্যকায় ওদের ঢুকে পড়া তো দূরের কথা, তালেবানরা এখনো উপত্যকার কাছেই ঘেঁষতে পারেনি।’ এর আগে অবশ্য তালেবানরা দাবি করেছিল তারা ঢুকে পড়েছে পঞ্জশির উপত্যকায়। দফায় দফায় কয়েকটি যুদ্ধও হয়েছে দুপক্ষের। তবে কোনো রক্তপাত হয়নি। অন্য এক বিবৃতিতে তালেবানের সাংস্কৃতিক কমিশনের সদস্য আনামুল্লা সামাঙ্গানি বলেছিলেন, ‘কোনো যুদ্ধ হয়নি। হয়নি কোনো রক্তপাত। তালেবানের নেতৃত্বে ইসলামি আমির শাহির (তালেবানদের দেওয়া আফগানিস্তানের নতুন নাম) সেনারা বিভিন্ন দিক থেকে এগিয়ে গিয়েছিল পঞ্জশির উপত্যকার দিকে। তারা দলে দলে ঢুকেও পড়েছে পঞ্জশির উপত্যকায়। কোনো প্রতিরোধের মুখেই তাদের পড়তে হয়নি। ফলে কোনো রক্তপাতের প্রশ্নই ওঠে না।’ পঞ্জশির নিয়ে এমন দোলাচলের মাঝেই শুক্রবার আরেক খবর দেয় আফগানিস্তানের আওয়া নিউজ। সেখানে বলা হয়, এনআরএফ নেতা আহমদ মাসুদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসে তালেবানের ১২ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল। বৈঠকে সমঝোত হয়, পঞ্জশির মাসুদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। প্রসঙ্গত মহাবীর আলেকজান্ডারের আমল থেকেই কারও কাছেই মাথা নোয়ায়নি পঞ্জশির উপত্যকার তাজিক জনগোষ্ঠী।
আমেরিকার ফেলে যাওয়া বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা দিয়ে ‘শিকার’ ধরছে তালেবান : আফগান সেনাবাহিনীকে দেওয়া আমেরিকার বায়োমেট্রিক হাতিয়ার ব্যবহার করেই এবার আফগানিস্তানের নাগরিকদের ওপর কড়া নজরদারি চালানো শুরু করল তালেবান। ১২ বছর ধরে আমেরিকার দেওয়া অত্যাধুনিক বায়োমেট্রিক যন্ত্রগুলোতে যে লাখ লাখ আফগান নাগরিকের হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল বা তর্জনীর ছাপ ও ‘আইরিস’র (চোখের মণির চার দিকের অংশ) ছবি রাখা রয়েছে, সেই সূত্র ধরেই তালেবানরা এবার জেনে ফেলবে আফগান নাগরিকদের নামধাম, পরিচিতি। দুই দশক ধরে কারা আমেরিকা ও ন্যাটো জোট, আফগান সেনাবাহিনী ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইংয়-এর (র) হয়ে কাজ করতেন, খবরাখবর দিতেন বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে থাকা তালেবানদের সম্পর্কে, তালেবানের আল ইশা ইউনিট এবার সেই সব তথ্য খুঁজে বের করবে। এ ব্যাপারে তাদের সাহায্য করবে পাকিস্তান। আফগান সংবাদমাধ্যম ‘জেঙ্গের নিউজ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন তালেবানের আল ইশা ইউনিটের অন্যতম ব্রিগেড কমান্ডার নওয়াজউদ্দিন হক্কানি। তিনি স্পষ্টই বলেছেন, “কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। সেই বায়োমেট্রিক ডেটাবেসের পুরোটাই আমাদের হস্তগত হয়েছে। তাই আফগানদের মধ্যে কারা আফগান ও আমেরিকার সেনাবাহিনী ও ভারতের ‘র’-এর হাতের পুতুল হয়ে উঠেছিল তা জানতে অসুবিধা হবে না।
তাদের সবার উপরেই কড়া নজর রাখা হবে।” আফগান নাগরিকদের যাবতীয় বায়োমেট্রিক তথ্যাদির রেকর্ড রাখার জন্য আমেরিকার সেনাবাহিনী সাত হাজারেরও বেশি স্ক্যানার পাঠিয়েছিল আফগানিস্তানে। এগুলোর মধ্যে কতগুলো আমেরিকা ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তানে ফেলে রেখে গিয়েছে তার কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। তালেবানের আল ইশা ইউনিট এবার সেসব স্ক্যানার আর গত ১২ বছর ধরে রাখা আফগান নাগরিকদের যাবতীয় বায়োমেট্রিক তথ্যাদি ব্যবহার করবে নজরদারির জন্য। নওয়াজউদ্দিন বলেছেন, ‘কাবুল দখল হয়ে গিয়েছে। এখনই নজরদারি শুরুর সেরা সময়। এক হাজার সদস্যের ব্রিগেডের বেশির ভাগ জঙ্গিই এখন বিভিন্ন মাদ্রাসায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তাই আল ইশা ইউনিটেরই দায়িত্ব এখন ওই বায়োমেট্রিক তথ্যাদি খতিয়ে দেখা। খোঁজখবর নেওয়া।’
