দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদন
দিল্লির সড়কে গলছে মোদির প্রতিশ্রুতির রাজনীতি
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রধান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, ভোটাধিকার রক্ষা ও সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে ভারতের রাজপথে নেমেছে হাজারো মানুষ। পুলিশের ব্যারিকেড, ধরপাকড়, লাঠিপেটা ও আহত হওয়ার ঘটনার মধ্যেও এ বিক্ষোভ চলছে। থামানো যাচ্ছে না সাহসী তরুণদের। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী সংগঠন, অধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ পরিণত হয়েছে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক অধিকারের আন্দোলনে।
ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জমে থাকা অসন্তোষও প্রকাশ পাচ্ছে এ বিক্ষোভে। এমন পরিস্থিতিতে দিল্লির রাজপথে ওঠা স্লোগান শুধু নির্বাচনি স্বচ্ছতার প্রশ্নই তুলছে না, বরং নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রতিশ্রুতি, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং জবাবদিহি নিয়েও নতুন করে বিতর্ক সামনে আনছে।
বুধবার দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, ১০ অক্টোবর থেকে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোয় শুরু হয় বিক্ষোভ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলোও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এতে একই মঞ্চে এসেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ। সেই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপ, আটকের ঘটনা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিয়ে উদ্বেগও সামনে এসেছে। দিল্লির রাজপথের এ পরিস্থিতি মোদি সরকারের প্রতিশ্রুতি, গণতান্ত্রিক অধিকার ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
দিল্লির রাজপথে এসব আন্দোলনে যে স্লোগানগুলো উঠছে, তা হিন্দুত্ববাদীদের বাইরে দোদুল্যমান ভারতীয়দের মধ্যে নরেন্দ্র মোদির যে ন্যূনতম ভাবমূর্তি ছিল, সেটাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা সরাসরি মোদিকে টার্গেট করে নানা তিরস্কারধর্মী স্লোগান দিচ্ছেন। সেখানে সিইসির প্রসঙ্গ আছে ঠিকই; কিন্তু লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন মোদিই। দিল্লির বাংলা সাহিব গুরুদুয়ারার তৃতীয় ফটকে এক মিছিলে স্লোগান ওঠে-‘ভোট চোর, গদি ছোড়’ (ভোট চোর, ক্ষমতা ছাড়), ‘যব যব মোদি ডরতা হে, পুলিশ কো আগে করতা হে’ (যখনই মোদি ভয় পায়, তখনই পুলিশকে সামনে বাড়ায়)।
তবে দিল্লির বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষের ক্ষোভ শুধু ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে সীমাবদ্ধ, এমনটা নয়। দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদক তারুশি জানান, চিকিৎসা পরীক্ষার অনিয়ম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিভাজনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তোষ জানাতেও বিক্ষোভে যোগ দেন অনেকে। উত্তরপ্রদেশের কন্নৌজ থেকে রাতভর বাসে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে দিল্লি পৌঁছান এমবিবিএস ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. ভিকি। ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ না পড়লেও সরকারের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ জানাতে এসেছিলেন তিনি। তার অভিযোগ, চিকিৎসা পরীক্ষার আয়োজন ও ফলাফলের তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকারের অব্যবস্থাপনা রয়েছে। তার মতে, তালিকা প্রকাশ করে আবার বাতিল করে দেওয়ার মতো ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়।
দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় এক দশকের বেশি ট্যুর গাইড হিসাবে কাজ করছেন প্রকাশ চন্দ্র শর্মা। প্রায় ৩০ বছর
আগে নেপাল থেকে ভারতে আসা শর্মা জানান, ২০১২ সালের দিকে কয়লাখনি বরাদ্দ ও টুজি স্পেকট্রাম কেলেঙ্কারি নিয়ে হতাশ হয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে (আরএসএস) যোগ দেন। তবে বর্তমানে হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের রাজনীতি তাকে লজ্জায় ফেলেছে। এ কারণে এখন তিনি আরএসএস ঘেঁষা এ সরকারেরই বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন।
