Logo
Logo
×

Advertisement

দশ দিগন্ত

চীনে করোনার চেয়েও বড় আতঙ্ক কোয়ারেন্টিন

নাবিকদের ৭ সপ্তাহ, বিদেশিদের ৫৬ দিন, সর্বনিম্ন ২৮ দিন

Advertisement

Icon

জামির হোসেন

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চীনে করোনার চেয়েও বড় আতঙ্ক কোয়ারেন্টিন

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

চীনে এখন করোনার চেয়েও বড় আতঙ্ক হয়ে উঠেছে কোয়ারেন্টিন। নাগরিকদের বিশেষ করে বিদেশ ফেরত ও পর্যটকদের ওপর কঠোর নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। সীমান্ত পার হয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেই বাধ্যতামূলক একটানা প্রায় দুই মাস ঘরবন্দি থাকতে হচ্ছে। খাবার সরবরাহের সময়টুকু ছাড়া ঘরের দরজা-জানালাও খুলতে দেওয়া হচ্ছে না। কোয়ারেন্টিনকালে অন্তত ২০ বার করাতে হচ্ছে করোনা পরীক্ষা। চলমান এই ‘বিড়ম্বনা’র মধ্যেই করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রন’ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে লকডাউন ও কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনছে ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়াসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশই।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হয় নতুন করোনা ওমিক্রন। এরপর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বতসোয়ানা, বেলজিয়াম, ইসরাইল, হংকং, জার্মানি ও ইতালিসহ বিশ্বের অন্তত ১৭টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এর বিস্তার রোধে ইতোমধ্যে নতুন করে কোয়ারেন্টিনসহ নানা বিধিনিষেধ জোরদার করেছে ব্রিটেন, ইসরাইল, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, হংকংসহ আরও কয়েকটি দেশ।

দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়েসহ আফ্রিকার ৯টি দেশের নাগরিকদের দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। পাশাপাশি এই দেশগুলো থেকে ফিরে আসা নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের সরকার। একইভাবে ওই দেশগুলোকে ‘লাল তালিকা’য় রেখেছে ব্রিটেনও। ওই দেশগুলো থেকে দেশে ফিরলে অবশ্যই সরকার অনুমোদিত হোটেলে অন্তত ১০ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ব্রিটেনের বাসিন্দা নয়, এমন ব্যক্তিদের প্রবেশের অনুমতিই দেওয়া হবে না। ওমিক্রন আতঙ্কে বিশ্বের সব দেশের নাগরিকদেরই প্রবেশে ১৪ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে ইসরাইল। অমিক্রণের ঝুঁকি এড়াতে ১৪টি দেশের নাগরিকদের ওপর কঠোর কোয়ারেন্টিন নীতিমালা চালু করছে জাপানও। দেশগুলোর মধ্যে ব্রিটেন ও জার্মানিও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, সম্ভাব্য খারাপ পরিস্থিতি এড়াতে সরকার দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই অংশ হিসাবে কাল থেকে আপাতত এক মাসের জন্য নতুন ভ্রমণ নীতিমালা কার্যকর করা হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে।

এ ছাড়া আফ্রিকার সঙ্গে ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ব্রাজিল, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইরান, থাইল্যান্ড, হংকং, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও নিউজিল্যান্ডও।

করোনার সংক্রমণ মোকাবিলায় চীন সরকার প্রথম থেকেই কড়াকড়ি আরোপ করে আসছে। শত্রু-মিত্র সব দেশের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেশের ভেতরে দিয়েছিল কঠোর লকডাউন। এতে করে অনেকাংশেই সফল হয় বেইজিং। কিন্তু ১১ অক্টোবর থেকে চীনের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে করোনা সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পায়। এর পরই করোনার ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। তারই অংশ হিসাবে মধ্য অক্টোবর থেকে নতুন করে কোয়ারেন্টিনের মতো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তবে প্রদেশ ও শহর ভেদে কোয়ারেন্টিন সময়ে ভিন্ন রয়েছে। বিজনেস ইনসাইডার জানায়, উত্তর-পূর্বের প্রদেশ লিয়াওনিংয়ে বিদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে সীমান্ত পার হয়ে চীনে প্রবেশ করলেই একটানা ৫৬ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এর মধ্যে প্রথম ২৮ দিন কোনো হোটেলে থাকতে হবে। আর পরের ২৮ দিন চাইলে বাড়ি থাকতে পারবে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ, এই সময়কালে দরজা-জানালাও খোলা যাবে না। কোয়ারেন্টিনকালে নিয়মিত করোনা পরীক্ষা করাতে হবে এবং সেটা প্রতি চারদিন পরপর অন্তত একবার।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, জাহাজের নাবিকদের ক্ষেত্রে এই কোয়ারেন্টিনকাল করা হয়েছে সাত সপ্তাহ তথা টানা ৪৯ দিন। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শহর ভেদে কোয়ারেন্টিনকাল কম-বেশি করা হচ্ছে। রাজধানী বেইজিংয়ে এই সময় মোট ২৮ দিন। এর মধ্যে প্রথম ১৪ দিন হোটেলে। এরপর ৭ দিন বাড়িতে এবং আরও ৭ দিন চিকিৎসকের নজরদারিতে থাকতে হচ্ছে।

Advertisement

চীন করোনা আতঙ্ক কোয়ারেন্টিন

Advertisement

আরও পড়ুন

নারীরা ছাড়ছেন ট্রাম্প প্রশাসন

নারীরা ছাড়ছেন ট্রাম্প প্রশাসন

দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদন দিল্লির সড়কে গলছে মোদির প্রতিশ্রুতির রাজনীতি

দিল্লির সড়কে গলছে মোদির প্রতিশ্রুতির রাজনীতি

কাশ্মীরে খুতবা প্রস্তাবে ক্ষোভ

কাশ্মীরে খুতবা প্রস্তাবে ক্ষোভ

রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবার হামলা

রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবার হামলা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম