এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বাংলা প্রথমপত্র
jugantor
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বাংলা প্রথমপত্র

  ড. সনজিত পাল  

২৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বাংলা প্রথমপত্র

সিনিয়র শিক্ষক, সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা

মানব-কল্যাণ

-আবুল ফজল

আবুল ফজল (১৯০৩-১৯৮৩) সমাজ ও সমকাল-সচেতন সাহিত্যিক এবং প্রগতিবাদী বুদ্ধিজীবী হিসাবে সমধিক খ্যাত। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবনেই যুক্ত হন বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনে; অন্যদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম সাহিত্য সমাজ। কথাশিল্পী হিসাবে পরিচিতি অর্জন করলেও তিনি ছিলেন মূলত চিন্তাশীল প্রাবন্ধিক। তার প্রবন্ধে সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে গভীর ও স্বচ্ছ দৃষ্টির পরিচয় বিধৃত। আধুনিক অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, স্বদেশ ও ঐতিহ্যপ্রীতি, মানবতা ও শুভবোধ তার সাহিত্যকর্মের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। আবুল ফজলের ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধটি ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে রচিত। এটি প্রথম ‘মানবতন্ত্র’ গ্রন্থে সংকলিত হয়। এই রচনায় লেখক মানব-কল্যাণ ধারণাটির তাৎপর্য বিচারে সচেষ্ট হয়েছেন। সাধারণভাবে অনেকে দুস্থ মানুষের করুণবশত দান-খয়রাত করাকে মানব-কল্যাণ মনে করেন। কিন্তু লেখকের মতে, এমন ধারণা খুবই সংকীর্ণ মনোভাবের পরিচায়ক। তার মতে, মানব-কল্যাণ হলো মানুষের সার্বিক মঙ্গলের প্রয়াস। এ কল্যাণের লক্ষ্য সব অবমাননাকর অবস্থা থেকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থায় মানুষের উত্তরণ ঘটানো। লেখকের বিশ্বাস, মুক্তবুদ্ধির সহায়তায় পরিকল্পনামাফিক পথেই কল্যাণময় পৃথিবী রচনা করা সম্ভব।

‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের যে দিকগুলো ভালো করে পড়তে হবে

‘মানব-কল্যাণ’ আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত কল্যাণমূলক কাজের একটি নাম। এ শব্দটির সঙ্গে অনেক মানুষের আবেগ, ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানবিক দিক জুড়ে রয়েছে। কিন্তু ‘মানব-কল্যাণ’ বলতে আমাদের সমাজে প্রচলিত ধারণার সঙ্গে প্রাবন্ধিক সহমত পোষণ করেননি। প্রাবন্ধিকের মতে মানব-কল্যাণ হলো সেই কাজ, যা মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী কল্যাণকর এবং চিন্তা ও মননের ক্ষেত্রে উন্নত করে। প্রাবন্ধিকের মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আর্থিক সহযোগিতা করে কিংবা ক্ষুধা মিটিয়ে মানব-কল্যাণের ঠেকুর তোলা প্রকৃত মানব-কল্যাণ নয়। যে কল্যাণে মানুষের চিন্তা ও মননের উন্নয়ন হয়, ব্যক্তির চেতনাগত উন্নয়ন হয়, মর্যাদাগত সমৃদ্ধি হয় এবং তা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে তা-ই প্রকৃত মানব-কল্যাণ। তিনি মনে করেন, মানুষের অধিকার আর মর্যাদার প্রতিষ্ঠা ছাড়া মানব-কল্যাণ মূলত মানব অপমান ছাড়া আর কিছু নয়। এ প্রবন্ধটি পড়ার সময় যে বিষয়গুলো ভালো করে পড়তে হবে তা নিচে দেওয়া হলো। মানব-কল্যাণ বলতে আমাদের সমাজে প্রচলিত ধারণা, মানব-কল্যাণ সম্পর্কে প্রাবন্ধিকের ধারণা, প্রকৃত মানব-কল্যাণ যেভাবে হয়ে থাকে, তথাকথিত মানব-কল্যাণ যে কারণে ফলপ্রসূ হয় না। মানব-কল্যাণকে দীর্ঘস্থায়ী ও জনমুখী করার জন্য যেসব করণীয় রয়েছে বলে প্রাবন্ধিক মনে করেন, মানব-কল্যাণকর্মের সঙ্গে ধর্মীয় আবেগের সম্পর্ক, প্রচলিত মানব-কল্যাণমূলক কাজে যেভাবে সংকীর্ণ মনোভাবে পরিচয় প্রকাশ পায়। প্রকৃত মানব-কল্যাণ করার জন্য মানুষকে যে কারণে মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত করা প্রয়োজন ইত্যাদি।

অনুধাবন প্রশ্নগুলো

১. মানব-কল্যাণ কথাটি অনেকখানি সস্তা আর মামুলি অর্থেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে-কেন?

২. একমুষ্টি ভিক্ষা দেওয়ায় মনুষ্যত্ববোধ আর মানব-মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা হয় কীভাবে? বুঝিয়ে লেখ।

৩. ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ-বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৪. দান বা ভিক্ষা গ্রহণকারীর দীনতার প্রতিফলনকে প্রাবন্ধিক বীভৎস বলেছেন কেন?

৫. মনুষ্যত্ব আর মানব-মর্যাদার দিক থেকে অনুগ্রহকারী আর অনুগৃহীতের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত-কেন বলা হয়েছে?

৬. রাষ্ট্র জাতির যৌথ জীবন আর যৌথ চেতনারই প্রতীক-বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৭. জাতিকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন করে তোলাও রাষ্ট্রের এক বৃহত্তম দায়িত্ব-ব্যাখ্যা কর।

৮. কোনো রাষ্ট্র কিছুতেই আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি করতে পারে না এবং কেন? বুঝিয়ে লিখ।

৯. মনুষ্যত্বের অবমাননা যে ক্রিয়াকর্মের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি তাকে কিছুতেই মানব-কল্যাণ নামে অভিহিত করা যায় না-ব্যাখ্যা কর।

১০. মানব-কল্যাণের উৎস মানুষের মর্যাদাবোধ বৃদ্ধি আর মানবিক চেতনা বিকাশের মধ্যেই নিহিত-বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

১১. মানব-কল্যাণের প্রাথমিক সোপান বলতে কী বোঝানো হয়েছে? অথবা,

মানব-কল্যাণের প্রাথমিক সোপান রচনাই সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব-ব্যাখ্যা কর।

১২. মানব-কল্যাণ স্বয়ম্ভূ, বিছিন্ন, সম্পর্ক-রহিত হতে পারে না- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বাংলা প্রথমপত্র

 ড. সনজিত পাল 
২৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বাংলা প্রথমপত্র
ছবি: সংগৃহীত

সিনিয়র শিক্ষক, সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা

মানব-কল্যাণ

-আবুল ফজল

আবুল ফজল (১৯০৩-১৯৮৩) সমাজ ও সমকাল-সচেতন সাহিত্যিক এবং প্রগতিবাদী বুদ্ধিজীবী হিসাবে সমধিক খ্যাত। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবনেই যুক্ত হন বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনে; অন্যদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম সাহিত্য সমাজ। কথাশিল্পী হিসাবে পরিচিতি অর্জন করলেও তিনি ছিলেন মূলত চিন্তাশীল প্রাবন্ধিক। তার প্রবন্ধে সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে গভীর ও স্বচ্ছ দৃষ্টির পরিচয় বিধৃত। আধুনিক অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, স্বদেশ ও ঐতিহ্যপ্রীতি, মানবতা ও শুভবোধ তার সাহিত্যকর্মের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। আবুল ফজলের ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধটি ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে রচিত। এটি প্রথম ‘মানবতন্ত্র’ গ্রন্থে সংকলিত হয়। এই রচনায় লেখক মানব-কল্যাণ ধারণাটির তাৎপর্য বিচারে সচেষ্ট হয়েছেন। সাধারণভাবে অনেকে দুস্থ মানুষের করুণবশত দান-খয়রাত করাকে মানব-কল্যাণ মনে করেন। কিন্তু লেখকের মতে, এমন ধারণা খুবই সংকীর্ণ মনোভাবের পরিচায়ক। তার মতে, মানব-কল্যাণ হলো মানুষের সার্বিক মঙ্গলের প্রয়াস। এ কল্যাণের লক্ষ্য সব অবমাননাকর অবস্থা থেকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থায় মানুষের উত্তরণ ঘটানো। লেখকের বিশ্বাস, মুক্তবুদ্ধির সহায়তায় পরিকল্পনামাফিক পথেই কল্যাণময় পৃথিবী রচনা করা সম্ভব।

‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের যে দিকগুলো ভালো করে পড়তে হবে

‘মানব-কল্যাণ’ আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত কল্যাণমূলক কাজের একটি নাম। এ শব্দটির সঙ্গে অনেক মানুষের আবেগ, ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানবিক দিক জুড়ে রয়েছে। কিন্তু ‘মানব-কল্যাণ’ বলতে আমাদের সমাজে প্রচলিত ধারণার সঙ্গে প্রাবন্ধিক সহমত পোষণ করেননি। প্রাবন্ধিকের মতে মানব-কল্যাণ হলো সেই কাজ, যা মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী কল্যাণকর এবং চিন্তা ও মননের ক্ষেত্রে উন্নত করে। প্রাবন্ধিকের মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আর্থিক সহযোগিতা করে কিংবা ক্ষুধা মিটিয়ে মানব-কল্যাণের ঠেকুর তোলা প্রকৃত মানব-কল্যাণ নয়। যে কল্যাণে মানুষের চিন্তা ও মননের উন্নয়ন হয়, ব্যক্তির চেতনাগত উন্নয়ন হয়, মর্যাদাগত সমৃদ্ধি হয় এবং তা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে তা-ই প্রকৃত মানব-কল্যাণ। তিনি মনে করেন, মানুষের অধিকার আর মর্যাদার প্রতিষ্ঠা ছাড়া মানব-কল্যাণ মূলত মানব অপমান ছাড়া আর কিছু নয়। এ প্রবন্ধটি পড়ার সময় যে বিষয়গুলো ভালো করে পড়তে হবে তা নিচে দেওয়া হলো। মানব-কল্যাণ বলতে আমাদের সমাজে প্রচলিত ধারণা, মানব-কল্যাণ সম্পর্কে প্রাবন্ধিকের ধারণা, প্রকৃত মানব-কল্যাণ যেভাবে হয়ে থাকে, তথাকথিত মানব-কল্যাণ যে কারণে ফলপ্রসূ হয় না। মানব-কল্যাণকে দীর্ঘস্থায়ী ও জনমুখী করার জন্য যেসব করণীয় রয়েছে বলে প্রাবন্ধিক মনে করেন, মানব-কল্যাণকর্মের সঙ্গে ধর্মীয় আবেগের সম্পর্ক, প্রচলিত মানব-কল্যাণমূলক কাজে যেভাবে সংকীর্ণ মনোভাবে পরিচয় প্রকাশ পায়। প্রকৃত মানব-কল্যাণ করার জন্য মানুষকে যে কারণে মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত করা প্রয়োজন ইত্যাদি।

অনুধাবন প্রশ্নগুলো

১. মানব-কল্যাণ কথাটি অনেকখানি সস্তা আর মামুলি অর্থেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে-কেন?

২. একমুষ্টি ভিক্ষা দেওয়ায় মনুষ্যত্ববোধ আর মানব-মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা হয় কীভাবে? বুঝিয়ে লেখ।

৩. ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ-বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৪. দান বা ভিক্ষা গ্রহণকারীর দীনতার প্রতিফলনকে প্রাবন্ধিক বীভৎস বলেছেন কেন?

৫. মনুষ্যত্ব আর মানব-মর্যাদার দিক থেকে অনুগ্রহকারী আর অনুগৃহীতের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত-কেন বলা হয়েছে?

৬. রাষ্ট্র জাতির যৌথ জীবন আর যৌথ চেতনারই প্রতীক-বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৭. জাতিকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন করে তোলাও রাষ্ট্রের এক বৃহত্তম দায়িত্ব-ব্যাখ্যা কর।

৮. কোনো রাষ্ট্র কিছুতেই আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি করতে পারে না এবং কেন? বুঝিয়ে লিখ।

৯. মনুষ্যত্বের অবমাননা যে ক্রিয়াকর্মের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি তাকে কিছুতেই মানব-কল্যাণ নামে অভিহিত করা যায় না-ব্যাখ্যা কর।

১০. মানব-কল্যাণের উৎস মানুষের মর্যাদাবোধ বৃদ্ধি আর মানবিক চেতনা বিকাশের মধ্যেই নিহিত-বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

১১. মানব-কল্যাণের প্রাথমিক সোপান বলতে কী বোঝানো হয়েছে? অথবা,

মানব-কল্যাণের প্রাথমিক সোপান রচনাই সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব-ব্যাখ্যা কর।

১২. মানব-কল্যাণ স্বয়ম্ভূ, বিছিন্ন, সম্পর্ক-রহিত হতে পারে না- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন