Logo
Logo
×

Advertisement

বাতায়ন

‘জয় বাংলা’র প্রত্যাবর্তন হোক বিজয়ের মাসেই

Advertisement

Icon

এ কে এম শাহনাওয়াজ

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

‘জয় বাংলা’র প্রত্যাবর্তন হোক বিজয়ের মাসেই

Advertisement

১৯৭৫-এর পর থেকেই সচেতন বাঙালির আক্ষেপ ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিপর্ব এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান কার্যত নির্বাসিত হওয়ায়।

দীর্ঘ রাজপথের আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি দেশের যখন জন্ম হয় তখন অত্যন্ত তাৎপর্যময় হয়ে ওঠে তার বিভিন্ন পর্যায়ের স্লোগান। স্লোগান শুধু স্লোগান থাকে না- হয়ে যায় ইতিহাসের আকর সূত্র। কোনো কোনো স্লোগান খণ্ডিত সময় আর বিষয়বস্তুকে ধারণ করে আবার কোনোটির ভেতর সামগ্রিকতা খুঁজে পাওয়া যায়। এ স্লোগান থেকেই প্রজন্ম চলে যেতে পারে ইতিহাসের নির্দিষ্ট সময়কালে।

ধারণ করতে পারে তাৎপর্য। জয় বাংলা স্লোগান মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিপর্ব থেকেই উচ্চারিত হচ্ছিল। ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু জয় বাংলা বলেই তার বিস্ময়কর ভাষণ শেষ করেছিলেন। আর পুরো মুক্তিযুদ্ধে জয় বাংলা ছিল বাঙালির অগ্নিমন্ত্র। তাই আমরা মনে করি, যুগের পর যুগ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জীবন্ত রাখতে জয় বাংলা হতে পারে প্রতীকী স্লোগান।

এ শক্তির খোঁজ পাকিস্তানি পরাজিত গোষ্ঠীর অজানা ছিল না। পাকিস্তানি দুষ্টচক্র এবং তাদের এদেশি দোসরদের কাছে জয়বাংলা ছিল ভীতিকর। তারা বুঝেছিল জয় বাংলা স্লোগানের তরঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দেশপ্রেমিক মানুষ দ্রুতই ঐক্যবদ্ধ হবে। প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাস্নাত করবে। তাই জয় বাংলাকে নির্বাসন দিতে হবে কৌশলে। ১৯৭৫-এর রক্তক্ষয়ী পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর যে ক’টি পাকিস্তানপন্থী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন, এর অন্যতম ছিল প্রজন্মের সামনে থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটিকে আড়াল করা। এর বদলে পাকিস্তানের জাতীয় স্লোগান ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদে’র আলোকে আমাদের জাতীয় স্লোগান করা হল ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’। একই সঙ্গে দ্রুত যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয় দেয়া, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানানো, গোলাম আজমকে নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার মতো পাকিস্তানি শাসকদের ইচ্ছের প্রতিফলন ঘটাতে থাকলেন।

আমাদের কাছে এটিও বিস্ময় যে, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনকালেও সরকারিভাবে জয় বাংলা ফিরিয়ে আনা; বিশেষ করে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদের’ স্থলে ‘জয় বাংলা’ পুনঃস্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টের একজন আইনজীবী জয় বাংলা ফিরিয়ে এনে জাতীয় স্লোগানের মর্যাদা দেয়ার জন্য রিট আবেদন করেন। দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি রায় হিসেবে আদালতের পর্যবেক্ষণ আমাদের আশাবাদী করে তুলেছে। জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগানের মর্যাদায় ফিরিয়ে আনার পক্ষে মতপ্রকাশ করেছেন আদালত। আদালত রায়ে বিচারপতিগণ জানিয়েছেন, ‘রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সর্বস্তরের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এ স্লোগান বলতেও দিতে হবে। জাতীয় স্লোগান হিসেবে ‘জয় বাংলা’কে ব্যবহার করতে দ্বিধা কোথায়? আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে এ স্লোগান ওতপ্রোতভাবে জড়িত।’ বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের ডিভিশন বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। আমরা আশা করব, এ বিজয়ের মাসেই যেন রায়টি কার্যকর হয়।

আইয়ুববিরোধী আন্দোলনকালে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে নানা স্লোগান আন্দোলনের মঞ্চ ও মিছিল মুখরিত করেছিল। প্রত্যেকটি স্লোগানই ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে প্রজন্মকে ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত করে। ভাষা আন্দোলনের সময় থেকে বাঙালিদের সঙ্গে পাকিস্তানি শাসকদের মধ্য দূরত্ব তৈরি হয়। কিন্তু এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। ১৯০৫-এ বঙ্গভঙ্গের মধ্য দিয়ে বাংলার দীর্ঘদিনের হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যকার বন্ধুত্বে প্রথমে ফাটল ধরে। সে সময়ে বেশিরভাগ মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল ছিল পূর্ববাংলা। ইংরেজ শাসন আমলে অনুন্নত অঞ্চলগুলোর একটি। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, অনুন্নত অঞ্চলগুলোর উন্নতির স্বার্থে বৃহৎ বাংলা ভেঙে দুটো প্রদেশে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হলে নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ ও আসামের রাজধানী হয় ঢাকা। এখানকার দায়িত্ব গ্রহণ করেন একজন লেফটেনেন্ট গভর্নর। দৃশ্যমান হতে থাকে পূর্ববাংলার উন্নয়ন। কিন্তু বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করতে থাকেন কলকাতাকেন্দ্রিক শিক্ষিত হিন্দু নেতারা। তাদের বিচারে বঙ্গভঙ্গ ছিল ইংরেজ শাসকদের ষড়যন্ত্রের অংশ। যেভাবেই ব্যাখ্যা হোক না কেন, বঙ্গভঙ্গের প্রতিক্রিয়ায় প্রায় ছয়শ’ বছরের হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কে ফাটল ধরে। বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষিত হলে হতাশ হয়ে পড়ে মুসলিম সম্প্রদায়। ততক্ষণে ইংরেজরাও প্রস্তুতি নিচ্ছিল ভারত ত্যাগ করার। তাই মুসলমান নেতারা নিজেদের জন্য আলাদা স্বাধীন রাজ্য পেতে ইংরেজ শাসকদের সঙ্গে দরবার করতে থাকে। এক সময় পাকিস্তান নামে নতুন দেশ পাওয়ার জন্য আন্দোলনে নামতে হয় মুসলমানদের। আর এ আন্দোলনে বাঙালি মুসলমান ছাত্রদের ভূমিকাই ছিল মুখ্য। এভাবে শুরু হয় ‘পাকিস্তান আন্দোলন’ নামে পরিচিত রাজপথের আন্দোলন। পাকিস্তান আন্দোলন দেশভাগের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল। এত আরাধ্য পাকিস্তান অর্জিত হলেও যাত্রার শুরুতেই স্বাধীনতার কটুস্বাদ অনুভব করল পূর্ববাংলা; অতঃপর পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা। ভাষা আন্দোলনের সূত্রেই পাকিস্তানি শাসকদের প্রতি মোহ কাটতে থাকে বাঙালির।

জিয়াউর রহমান জয় বাংলা বিসর্জন দেয়ার সময় মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়েছিলেন। সঙ্গোপনে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল যে ‘জয়ধ্বনি’ হিন্দু সংস্কৃত থেকে এসেছে। তাই ‘জয় বাংলা’ পরিত্যাজ্য। এর বদলে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ অনেকটা ধর্মগ্রাহ্য। এভাবে ধর্মীয় ধোয়া তোলা পাকিস্তানি শাসকদের পুরনো অভ্যাস। ভাষা আন্দোলনের সময়ে তারা বলেছিল, ‘বাংলা’ হিন্দুর ভাষা আর ‘উর্দু’ কোরআনের (!) ভাষা। রক্তের বিনিময়ে ভাষার অধিকার অর্জিত হলেও পাকিস্তানি শাসকদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। তাই আইয়ুব খান নানাভাবে সংকট তৈরি করতে থাকেন। অতঃপর আইয়ুববিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে। এ সময় শাসকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয় শিক্ষা আন্দোলন। বাঙালির অধিকারের প্রতি সম্মান না জানানোয় এক পর্যায়ে স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলতে হয়। এ সময় থেকে ইতিহাস ধারণ করা কতগুলো স্লোগান কালোত্তীর্ণ হয়ে আছে। যেমন, ঢাকা না পিণ্ডি; ঢাকা ঢাকা- এ স্লোগান বলে দেয় মানসিকভাবে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পাকিস্তান থেকে।

ছয় দফার স্লোগান গগনবিদারী হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে। আন্দোলনকারী বাঙালি অবদমিত হবে ভেবে শেখ মুজিবকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় আটক করা হয়। কিন্তু ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বাঙালি। স্লোগান তোলে ‘জেলের তালা ভাঙবো; শেখ মুজিবকে আনবো।’ এ স্লোগানের তেজ এত দৃঢ় ছিল যে, শেষ পর্যন্ত নিঃশর্তে মামলা উঠিয়ে শেখ মুজিবকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় শাসকগোষ্ঠী। এর মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল গণঅভ্যুত্থান। ১৯৭০-এ নির্বাচন দিয়ে শেষ রক্ষা করতে চেয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করতে থাকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। এ পর্যায়ে বাঙালি স্বায়ত্তশাসন নয়- স্বাধীনতার জন্যই যেন প্রস্তুত হয়ে পড়ে। সে সত্য ধারণ করে আছে স্লোগান। এ সময়ের চেতনা কাঁপানো স্লোগান হচ্ছে, ‘তোমার আমার ঠিকানা; পদ্মা মেঘনা যমুনা।’ লক্ষ করলে দেখব, প্রত্যেকটি স্লোগান ধারাবাহিকভাবে সমকালীন ইতিহাস ধারণ করে আছে।

এরপর স্বাধীনতার আকাক্সক্ষায় উদ্বেল বাঙালি আর বাঙালির নেতা বঙ্গবন্ধু স্লোগান তোলেন ‘জয় বাংলা।’ ক্রমে জয় বাংলা বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের প্রতীক হয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস জয় বাংলা স্লোগানটি বাঙালিকে মানসিকভাবে দৃঢ় করেছে, শক্তি জুগিয়েছে। জয় বাংলা মুক্তিযুদ্ধের সময় এতটা প্রতীকী স্লোগান ছিল যে, সে সময় ভারতের মানুষ বিপ্লবী বাঙালিকে ‘জয় বাংলার লোক’ নামেই চিনত। মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন দুই পক্ষের গুলিবিনিময়ের শব্দ শুনতাম; বুঝতে পারতাম, পাকহানাদারদের ক্যাম্পে মুক্তিসেনারা আক্রমণ করেছে। কান পেতে থাকতাম। গুলির শব্দ বন্ধ হয়ে গেলে এবং পাকবাহিনী পরাজিত হলে দূর থেকে ভেসে আসত জয় বাংলা স্লোগান। সাধারণত যুদ্ধ জয়ের পর মুক্তিবাহিনী জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে পাকবাহিনীর ক্যাম্পে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে চলে যেত।

এভাবে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৫-এর আগস্ট পর্যন্ত জয় বাংলা প্রধান স্লোগান হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছে। এরপরেই ছন্দপতন ঘটে। বিএনপি নামে দল গঠনের আগেই জিয়াউর রহমান নিজে মুক্তিযোদ্ধা হয়েও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা জয় বাংলা স্লোগানটিকে বিসর্জন দিয়ে পাকিস্তানের অনুকরণে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগানকে রাষ্ট্রীয় স্লোগানে পরিণত করেন। পাকিস্তানি ভাবধারা বজায় থাকায় বিএনপির উত্তরসূরিরা জয় বাংলাকে সতর্কভাবে বর্জন করে। এর পেছনে সম্ভবত বড় কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে প্রজন্মকে দূরে সরিয়ে রাখা। পাকিস্তান-ফেরত সেনা এরশাদও একই ধারা বজায় রাখেন। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। তবে সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকেও জয় বাংলা জাতীয় স্লোগান হিসেবে ফিরিয়ে আনার কোনো চেষ্টা করেনি। শুধু বাংলাদেশ জিন্দাবাদকে এড়িয়ে ‘বাংলাদেশ চিরজীবী হোক’ স্লোগান কেউ কেউ উচ্চারণ করে দায় মেটানোর চেষ্টা করেন।

বন্ধ অর্গলের কড়া কাউকে না কাউকে নাড়তেই হয়। অ্যাডভোকেট বশির আহমদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। তিনি কড়া নেড়েছেন। জয় বাংলা স্লোগান রাষ্ট্রীয় স্লোগানে ফিরিয়ে আনার জন্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। মহামান্য আদালতকে ধন্যবাদ আবেদনটি আমলে নেয়ার জন্য। ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরিয়ে আনার জন্য জয় বাংলা স্লোগান পুনর্বহালের পক্ষে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। আমরা এর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। ইতিহাসের সত্য ধারণ করা এ অমোঘ স্লোগান এ বিজয়ের মাসে আবার দেশকে মুখরিত করুক, এটি আমাদের একান্ত প্রত্যাশা।

ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

Advertisement

প্রত্যাবর্তন

Advertisement

আরও পড়ুন

সাক্ষাৎকার সমৃদ্ধি ভাগাভাগির বিশ্ব হোক আমাদের এই গ্রহ: টমাস পিকেটি

সমৃদ্ধি ভাগাভাগির বিশ্ব হোক আমাদের এই গ্রহ: টমাস পিকেটি

গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

ভারতে গণতন্ত্রের অপমৃত্যু রুখতে তরুণদের অদম্য প্রতিরোধ

ভারতে গণতন্ত্রের অপমৃত্যু রুখতে তরুণদের অদম্য প্রতিরোধ

জেরুজালেম : ইতিহাসের এক মহাকাব্য

জেরুজালেম : ইতিহাসের এক মহাকাব্য

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম