Logo
Logo
×

Advertisement

বাতায়ন

মিঠে কড়া সংলাপ

শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন চাই

Advertisement

Icon

ড. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন চাই

Advertisement

আমাদের মতো দেশে সরকার পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। তাই এ কাজটি করতে অত্যন্ত কৌশল এবং সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। এদেশে সরকারি দলের যেসব লোকজন দ্বারা সরকার পরিচালিত হয়, তাদের অনেকেই সরকারি আমলা-কর্মচারী পরিবেষ্টিত হয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

এমপি, মন্ত্রী, চেয়ারম্যান ইত্যাদি বিভিন্ন নাম ও পদ-পদবিধারী সরকারি দলের এসব লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক শ্রেণির আমলা তাদের অনেককেই কব্জা করে ফেলেন এবং বস্তুত তখন ওইসব আমলাই দেশ পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। এ অবস্থায় আমলানির্ভর ওই শ্রেণির নেতাদের পক্ষে পরপর দুই বা তিনবার নির্বাচন করতে হলে নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তারা আমলানির্ভর হয়ে পড়েন।

তবে গত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকারকে যেভাবে দোষারোপ করা হয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে তা সঠিক নয় বলে মনে করি। কারণ, গতবারের সাধারণ নির্বাচনে সরকারি দলের জন্য ভোট কারচুপির কোনো প্রয়োজন ছিল না।

বস্তুত বিরোধী দলের পক্ষে উপযুক্ত প্রার্থী দাঁড় করিয়ে সেসব প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করা, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দেওয়াসহ নির্বাচন সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক অনেক কাজের জন্য যেখানে উপযুক্ত রাজনৈতিক নেতাকর্মীর অভাব ছিল; সেক্ষেত্রে সরকারি দলকে আগের রাতে সিলমারা বা এ ধরনের ভোট কারচুপির মতো অপবাদ নিতে হলো কেন, তা বুঝে ওঠা মুশকিল।

যদি বলি সরকারি দলের একশ্রেণির ব্যক্তির এ বিষয়ে অতি স্পর্শকাতরতা বা ভীতি এজন্য দায়ী, তাহলে তা ভুল বলা হবে কিনা জানি না। তবে সরকারি দলের এই শ্রেণির ব্যক্তিদের তাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে চলা অন্য আর একশ্রেণির আমলাচক্রই যে ভুল বুঝিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, তা বলাই বাহুল্য। ফলস্বরূপ সারা দেশে যে কথাটি চাউর হয়েছে তা হলো, ২০১৮ সালের নির্বাচনে সরকারি আমলাচক্রই সরকারি দলকে জিততে সাহায্য করেছে।

যদিও নির্বাচনি কাজকর্মে নির্বাচন কমিশনের লোকজন জড়িত থাকেন এবং নির্বাচনসংক্রান্ত দোষগুণ তাদের ওপরই বর্তায়; কিন্তু গত নির্বাচনে প্রায় সব শ্রেণির সরকারি প্রশাসনকেই ঢালাওভাবে সরকারি দলের পক্ষাবলম্বনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়ে থাকে। আর তার প্রধান কারণ হলো, নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা। বতর্মান নির্বাচন কমিশন অতীতের যে কোনো নির্বাচন কমিশন অপেক্ষা বেশি অযোগ্যতার প্রমাণ দেওয়ায় দেশের মানুষের মনে নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে।

জনগণ বলতে শুরু করেছে, নির্বাচন এখন প্রহসনে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় মানুষ ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছেন। যদিও বতর্মানে সারা দেশে ইউপি নির্বাচনে গ্রামগঞ্জে মানুষকে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা যাচ্ছে; কিন্তু সে ক্ষেত্রে অন্য একটি হিসাবও কাজ করে থাকে আর তা হলো, সাধারণ নির্বাচন অপেক্ষা গ্রামগঞ্জের ইউপি নির্বাচনে স্টেকহোল্ডারদের সংখ্যাধিক্যসহ এক শ্রেণির মানুষের রাজনীতি করে খাওয়ার মানসিকতা। গ্রামের ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা পর্যন্ত এখন রাজনীতি করে খাওয়া শিখে গিয়েছেন।

গ্রামগঞ্জের নদীর খেয়াঘাট, বালুমহাল ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন কাজে কোটি কোটি টাকা এখন গ্রামের রাজনীতিতেও উড়ে বেড়াচ্ছে। সুতরাং, সেসব টাকা ধরার জন্য প্রতিযোগিতা এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে, এসব নির্বাচনে মানুষের আগ্রহ বেড়ে গেছে। তাছাড়া শীতকালে বা নবান্নের সময় গ্রামের মানুষ এমনিতে একটু খোশ মেজাজে বা আনন্দ উৎসবের আবহে থাকেন। আর সে সময় যদি ইউপি নির্বাচনের মতো একটি সর্বজনীন ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আনন্দ উৎসবের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

অতএব, ইউপি নির্বাচনের বিষয়টি সাধারণ নির্বাচন অপেক্ষা একটু আলাদাই বটে। তবে এবারের ইউপি নির্বাচনেও অন্যান্য বার অপেক্ষা মারামারি খুনোখুনি অনেক বেশি। দেশের প্রতিটি জেলা থেকেই যেসব খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ইউপি নির্বাচনেও নির্বাচন কমিশন মুনশিয়ানার পরিচয় দিতে পারছেন না; বরং এসব মারামারি খুনোখুনি নিয়ে তারা যা বলছেন, তাও সেই ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র মতো।

নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে অন্যতম একজন হচ্ছেন মাহবুব তালুকদার, যিনি একসময় পত্রিকায় লেখালেখি করতেন। অনেক কবিতাও তিনি লিখেছেন। সেই মাহবুব তালুকদার মাঝেমধ্যেই নির্বাচন কমিশন নিয়ে যা বলেন, তাতে বর্তমান নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে আর কীই বা বলা চলে। আমার এসব বলার উদ্দেশ্য বর্তমান নির্বাচন কমিশন বা অন্য কাউকে ছোট করা বা কাউকে বড় করা নয়।

দেশ ও জাতির জন্য একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচনে স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসাবে দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট প্রদান করবেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত কমিশনাররা একজন অন্যজনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে বা মন্তব্য করে দেশের মানুষকে হাসাবেন না-ভবিষ্যতে যাতে তেমন নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়, সেজন্যই এসব বলা। তাই আশা করি, আমার এসব কথায় কেউ ভুল বুঝবেন না।

পরিশেষে বলতে চাই, নির্বাচন কমিশনের দুর্বলতার কারণেই ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, সে কথাটি জোরালোভাবে উপস্থাপন করাই আমার মূল উদ্দেশ্য। অতঃপর যিনি বা যারা নির্বাচন কমিশনে আসবেন; অর্থাৎ প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনার ইত্যাদি পদগুলো যিনি বা যারা অলঙ্কৃত করবেন, তাদের প্রতি আগাম অনুরোধ রইল-এসব সাংবিধানিক পদে বসে তারা যেন দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেন।

সরকারি এসব পদে বসে জনগণের টাকায় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে তারা যেন এমন কিছু করে বা এমন কিছু বলে দেশের মানুষকে অধিকার বঞ্চিত না করেন। তাদের কাজ ও কথায় জনগণের আস্থা যেন ফিরে আসে, দেশের মানুষ যাতে তাদের বিশ্বাস করেন, আগামী নির্বাচন কমিশনের কাছে তেমনটিই প্রত্যাশা রইল। আর সেই সঙ্গে সরকারের প্রতিও সর্নিবন্ধ অনুরোধ রইল-দেশ ও জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সঠিক, সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্যকে সামনে রেখে একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন যেন গঠন করা হয়। কারণ, বিষয়টি এখন সময়ের দাবি।

ড. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন : কবি, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট

Advertisement

সরকার পরিচালনা নির্বাচন কমিশন

Advertisement

আরও পড়ুন

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কেমন প্রতিরক্ষানীতি চাই

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কেমন প্রতিরক্ষানীতি চাই

বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের ভূমিকা

বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের ভূমিকা

চল্লিশের পরে মানসিক স্বাস্থ্য এবং এর যত্ন

চল্লিশের পরে মানসিক স্বাস্থ্য এবং এর যত্ন

সাক্ষাৎকার উচ্চ মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ বিশৃঙ্খল পরিবহণব্যবস্থা: ড. মোস্তফা কে. মুজেরী

উচ্চ মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ বিশৃঙ্খল পরিবহণব্যবস্থা: ড. মোস্তফা কে. মুজেরী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম