সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কেমন প্রতিরক্ষানীতি চাই
Advertisement
মেজর জেনারেল (অব.) এইচ আর এম রোকন উদ্দিন
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষানীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, আকাশসীমা, সমুদ্রসম্পদ এবং স্বাধীনভাবে জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার রক্ষা করা। এ নীতির ভিত্তি হবে বিশ্বাসযোগ্য সামরিক প্রস্তুতি, স্বাধীন কূটনীতি, অর্থনৈতিক সামর্থ্য, জনগণের আস্থা ও সাংবিধানিক শাসন। বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং বিরোধের কূটনৈতিক সমাধান চাইবে। পাশাপাশি এমন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জন করবে, যাতে কোনো রাষ্ট্র সামরিক চাপ প্রয়োগ করে বাংলাদেশের নীতি ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার সাহস না পায়। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে এর প্রয়োজন আরও বেড়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, ইন্দো-প্যাসিফিকে শক্তির প্রতিযোগিতা এবং মিয়ানমারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিচ্ছে, যার ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। সিপরির (Stockholm International Peace Research Institute) হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্ব সামরিক ব্যয় প্রায় ২ দশমিক ৮৮৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা টানা একাদশ বছরের বৃদ্ধি। বাংলাদেশকে নির্বিচারে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নামতে হবে না; তবে পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তুতি নিতে হবে। সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো থেকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, সংকটের সময় বাইরের সহযোগিতা অনিশ্চিত হতে পারে, অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হতে পারে, খুচরা যন্ত্রাংশ পাওয়া কঠিন হতে পারে এবং সহযোগী রাষ্ট্র নিজেদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে পারে। তাই প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় বিবেচনা করতে হবে-বাইরের সহায়তা বিলম্বিত হলে বাংলাদেশ নিজস্ব সম্পদ দিয়ে কতদিন বাহিনী সচল রাখতে পারবে। অস্ত্র সংগ্রহের পাশাপাশি সেগুলোর ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনঃসরবরাহের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রথম প্রয়োজন সরকারের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা পর্যালোচনা। এতে জাতীয় স্বার্থ, সম্ভাব্য হুমকি, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হবে। প্রতিরক্ষানীতি এই বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা স্পষ্ট করবে। সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষিত রেখে একটি প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্র প্রকাশ করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে জনগণ নীতির উদ্দেশ্য, ব্যয়ের অগ্রাধিকার ও জবাবদিহির ব্যবস্থা জানতে পারবে। পরিবর্তিত পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়মিত পর্যালোচনাও প্রয়োজন। বাংলাদেশের সামরিক কৌশল হওয়া উচিত সম্ভাব্য আক্রমণকারীকে তার উদ্দেশ্য অর্জনে বাধা দেওয়ার বিশ্বাসযোগ্য সক্ষমতা গড়ে তোলা। বৃহৎ শক্তির সঙ্গে অস্ত্র ও সৈন্যসংখ্যায় সমতা অর্জনের চেষ্টা অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো ভূখণ্ড, নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও অবকাঠামো রক্ষা এবং দীর্ঘ সময় প্রতিরোধ বজায় রাখার সামর্থ্য। প্রশিক্ষিত জনবল, পর্যাপ্ত গোলাবারুদ, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য ও রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া আধুনিক অস্ত্রও প্রত্যাশিত ফল দেয় না।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনায় সহযোগিতা, পারস্পরিক সম্মান ও সার্বভৌম স্বার্থ রক্ষার সমন্বয় প্রয়োজন। বাণিজ্য, পানি, যোগাযোগ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা হবে সম্ভাব্য পরিস্থিতি ও সামরিক সক্ষমতার বাস্তব মূল্যায়নভিত্তিক। নিয়মিত যোগাযোগ এবং সীমান্তে উত্তেজনা মোকাবিলার কার্যকর ব্যবস্থা ভুল বোঝাবুঝি কমাতে পারে। কোনো সম্পর্কই যেন বাংলাদেশের স্বাধীন নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ সীমিত না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। মিয়ানমারের অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশের জন্য তাৎক্ষণিক উদ্বেগের বিষয়। সীমান্তসংলগ্ন সংঘাত, অনিয়ন্ত্রিত অস্ত্র চলাচল ও নতুন বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যবেক্ষণ এবং তথ্য বিনিময় জোরদার করতে হবে। সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের মধ্যে দায়িত্ব স্পষ্ট থাকা জরুরি। সীমান্ত লঙ্ঘন বা উসকানির ঘটনায় সুসংহত প্রতিক্রিয়ার নির্দেশনা প্রয়োজন। কূটনৈতিকভাবে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চলবে, পাশাপাশি বাংলাদেশের সংযমকে দুর্বলতা ভাবার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত দিক একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। ইউএনএইচসিআর ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ শরণার্থীর উপস্থিতির কথা জানিয়েছে। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা প্রয়োজন। শিবিরে অপরাধ, মানব পাচার ও অস্ত্র চোরাচালানের বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরাধী চক্রকে শনাক্ত করতে হবে; পুরো শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে নিরাপত্তার শত্রু হিসাবে দেখা অনুচিত। রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা, অধিকার ও বিশ্বাসযোগ্য প্রত্যাবাসন ব্যবস্থা প্রয়োজন। বাংলাদেশের সামরিক প্রস্তুতি নিজ ভূখণ্ড রক্ষা এবং কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে। তবে তা রাজনৈতিক সমাধানের বিকল্প নয়। সীমান্ত অতিক্রম করে কোনো উদ্যোগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন, বাস্তবায়নযোগ্যতা, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং দীর্ঘ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার বিষয় বিবেচনা করতে হবে।
বঙ্গোপসাগরকে প্রতিরক্ষানীতিতে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সমুদ্রবন্দর, বাণিজ্যিক জাহাজ, মৎস্যসম্পদ, জ্বালানি স্থাপনা ও সমুদ্রতলের যোগাযোগ অবকাঠামো জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন। নতুন জাহাজ কেনার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়, জনবল, প্রশিক্ষণ, মেরামত ও যন্ত্রাংশের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অনুসন্ধান, উদ্ধার এবং সামুদ্রিক আইন প্রয়োগের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। দূরবর্তী সমুদ্রপথের সংকটও বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা হরমুজ প্রণালির অনিরাপত্তার কারণে জ্বালানি, সারসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহে বিঘ্নের বিষয়ে সতর্ক করেছে। তাই আমদানির বিকল্প উৎস, জরুরি মজুত, জাহাজ চলাচলের তথ্য এবং বিদেশে নাগরিকদের সহায়তার পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, জ্বালানি ও বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
আকাশ প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে হবে সমন্বিত ব্যবস্থা হিসাবে। যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সঙ্গে রাডার, নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ, ভূমিভিত্তিক প্রতিরক্ষা, অস্ত্র, বৈমানিকের প্রশিক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ যুক্ত থাকবে। প্রয়োজনীয় উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ ও সহায়ক অবকাঠামো ছাড়া উন্নত বিমান কার্যকর সক্ষমতা দিতে পারবে না। বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বন্দর ও যোগাযোগ স্থাপনায় ড্রোনের ঝুঁকিও মূল্যায়ন করতে হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিচ্ছিন্ন কেনাকাটার পরিবর্তে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা প্রয়োজন। সেনাবাহিনীর প্রধান পেশাগত দায়িত্ব হবে জাতীয় প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি। বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী চলাচল, প্রকৌশল, যোগাযোগ, রসদ, চিকিৎসাসেবা এবং যৌথ কার্যক্রমে গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর থাকা উচিত। জরুরি সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে আইনগত ভিত্তি, দায়িত্ব, তত্ত্বাবধান, মেয়াদ ও প্রত্যাহারের পরিকল্পনা স্পষ্ট থাকতে হবে। দীর্ঘ দায়িত্ব শেষে ইউনিটগুলোকে বিশ্রাম, পুনঃপ্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি পুনরুদ্ধারের সময় দিতে হবে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। তবে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের প্রস্তুতির সঙ্গে মূল প্রতিরক্ষা দায়িত্বের ভারসাম্য রাখতে হবে। বেসামরিক সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ালে সামরিক বাহিনীর ওপর অপ্রয়োজনীয় নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর যৌথ পরিকল্পনা, মহড়া, যোগাযোগ ও রসদব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। বড় ক্রয় প্রস্তাবে দেখাতে হবে সংশ্লিষ্ট সক্ষমতা অন্য বাহিনীর সঙ্গে কীভাবে কাজ করবে। গোয়েন্দা ব্যবস্থার প্রধান কাজ হবে আগাম সতর্কতা ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন দেওয়া। আঞ্চলিক সামরিক পরিবর্তন, সীমান্ত, সমুদ্র, সাইবার হুমকি এবং সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি পর্যবেক্ষণে সমন্বয় প্রয়োজন। রাজনৈতিক প্রভাব ও আন্তঃসংস্থা প্রতিযোগিতা থেকে পেশাগত বিশ্লেষণকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। নীতিনির্ধারকের পছন্দের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও বিকল্প মূল্যায়ন উপস্থাপনের পরিবেশ থাকতে হবে।
সাইবার নিরাপত্তাকে সামরিক ও বেসামরিক যৌথ দায়িত্ব হিসাবে দেখতে হবে। ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ বা পরিবহণ ব্যবস্থা অচল হলে প্রচলিত আক্রমণ ছাড়াই জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নিয়মিত মহড়া, বিকল্প যোগাযোগ, তথ্য পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা এবং দক্ষ দেশীয় জনবল প্রয়োজন। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা যাচাই এবং দ্রুত ঘটনার তথ্য বিনিময়ের কার্যকর পদ্ধতিও থাকতে হবে। প্রতিরক্ষা ব্যয় হতে হবে পূর্বপরিকল্পিত ও টেকসই। বিশ্বব্যাংকের অক্টোবর ২০২৬-এর মূল্যায়নে বাংলাদেশের জ্বালানি, আর্থিক খাত ও রাজস্ব আহরণের সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হয়েছে। তাই বহু বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় ক্রয়মূল্যের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, গোলাবারুদ, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিস্থাপনের ব্যয় ধরতে হবে। সামর্থ্যরে বাইরে কেনাকাটা ভবিষ্যতে প্রস্তুতির অর্থ সংকুচিত করতে পারে। ব্যয়ের ফল বিচার করতে হবে সরঞ্জামের সচলতা, প্রশিক্ষণের মান ও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দিয়ে।
প্রতিরক্ষা ক্রয়ে পেশাগত মূল্যায়ন, আর্থিক যাচাই, স্বাধীন নিরীক্ষা এবং উপযুক্ত সংসদীয় তত্ত্বাবধান থাকা জরুরি। প্রকৃত সামরিক গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে; তবে এর কারণে দুর্নীতির তদন্ত বাধাগ্রস্ত হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। দেশীয় শিল্পে মেরামত, নির্বাচিত গোলাবারুদ, যন্ত্রাংশ, সফটওয়্যার, যোগাযোগ ও উপযোগী নৌযান নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ও যোগ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে দক্ষতার ভিত্তি বিস্তৃত করতে হবে। প্রযুক্তি হস্তান্তরের চুক্তিতে প্রশিক্ষণ, প্রকৌশল নথি, যন্ত্রাংশ উৎপাদন, মেরামত ও পরিবর্তনের অধিকার স্পষ্ট থাকতে হবে। স্থানীয় সংযোজনের পাশাপাশি প্রকৃত কারিগরি দক্ষতা অর্জন জরুরি। প্রতিরক্ষা কূটনীতির লক্ষ্য হবে বিকল্প বাড়ানো এবং স্বাধীনতা বজায় রাখা। বিভিন্ন অংশীদারের সহযোগিতা সুবিধা, ব্যয় ও দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। বন্দর সমঝোতার মতো উদ্যোগে শিল্প সহযোগিতা অনুসন্ধান করা যেতে পারে, তবে অংশগ্রহণের শর্ত ও সম্ভাব্য বাধ্যবাধকতা যাচাই অপরিহার্য।
সব সিদ্ধান্তের ভিত্তি হবে সাংবিধানিক কর্তৃত্ব ও পেশাগত নিরপেক্ষতা। সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদের শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নীতি এবং ৬৩ অনুচ্ছেদের যুদ্ধসংক্রান্ত সংসদীয় সম্মতির বিধান অনুসরণ করতে হবে। নিয়োগ, পদোন্নতি ও নেতৃত্ব নির্বাচনে সততা, দক্ষতা ও প্রজাতন্ত্রের প্রতি দায়িত্ববোধ প্রাধান্য পাবে। বেসামরিক নেতৃত্ব লক্ষ্য ও সম্পদ নির্ধারণ করবে; সামরিক নেতৃত্ব অকপট পরামর্শ দিয়ে আইনানুগ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও সমন্বয় পর্যালোচনার মাধ্যমে। পরবর্তী বিনিয়োগ হবে যাচাইকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী। পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ, যোগাযোগ এবং অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে বেসামরিক প্রস্তুতি বাড়াতে হবে। সামাজিক সংহতি, সমান নাগরিক অধিকার এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাও জাতীয় প্রতিরোধ ক্ষমতার অংশ। পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী, সুস্থ অর্থনীতি এবং ঐক্যবদ্ধ জনগণের সমন্বয়েই বাংলাদেশ স্বাধীনতা রক্ষা ও শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে পারবে।
মেজর জেনারেল (অব.) এইচ আর এম রোকন উদ্দিন : নিরাপত্তা বিশ্লেষক
