কোয়েলকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ আরেক অভিনেত্রীর
Advertisement
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টালিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও জড়িয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য হিসেবে রাজ্যসভায় পা রেখেছিলেন ‘মিতিন মাসি’খ্যাত অভিনেত্রী। তবে গত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূলের পরাজয়ের পরপরই কয়েক মাসের মাথায় ইস্তফা দেন তিনি। সেই বিতর্ক থিতু হওয়ার আগেই আবার সোমবার (৫ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক এবং পেয়ে গেছেন বিজেপির রাজ্যসভা প্রার্থী পদের টিকিটও।
তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে কোয়েলের যোগদান এবং রাজ্যসভার প্রার্থী হওয়া নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই টালিউডের অন্দরে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিল। এই নাটকীয় পলিটিক্যাল শিফট এবং পদ্মশিবিরে যোগ দিয়ে রাজ্যসভায় যাওয়ার প্রেক্ষাপটেই সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র।
সরাসরি নাম না নিলেও পোস্টের প্রতিটি ছত্রে কোয়েলের দলবদল, ইন্ডাস্ট্রির নীরবতা এবং তথাকথিত ‘ইমেজ পলিশিং’-কে ধুয়েমুছে একাকার করে দিলেন এ অভিনেত্রী। সেই পোস্টে রূপাঞ্জনা মিত্র প্রশ্ন তোলেন, অতীতে একটি শুটিং ফ্লোরে অভিনেত্রী হেনস্তার অভিযোগের সময়ে কেন ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ নেতৃত্ব নীরব ছিল?
‘তিতিন মাসি'র (পড়ুন মিতিন মাসি) ফ্লোরে একজন অভিনেত্রী মলেস্টেড হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল— তারপর কী হয়েছিল? তিতিন মাসির তরফ থেকে কোনো জোরালো প্রতিক্রিয়া এসেছিল? সেই অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়ানোর দৃশ্য আমরা মিস করে গেলাম, নাকি সেটা ওটিটির এক্সক্লুসিভ কনটেন্ট ছিল?’, প্রশ্ন রূপাঞ্জনার। মিতিন মাসি ছবির শুটিংয়ে পরিচালক অরিন্দম শীলের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন এক অভিনেত্রী। সেই সময় চুপ ছিলেন কোয়েল মল্লিক।
কোয়েল মল্লিকের রাজনীতিতে আসা এবং পরপর সুযোগ পাওয়াকে ‘প্যারাশুট ল্যান্ডিং’ বলে কটাক্ষ করে রূপাঞ্জনা বলেন, ‘সংসদীয় রাজনীতির অ-আ-ক-খ না জেনেও যখন প্যারাশুট ল্যান্ডিং হয়, তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না—রানওয়ে আগেই পরিষ্কার ছিল।’
ইন্ডাস্ট্রিতে বকেয়া পারিশ্রমিক, তোষামোদ আর পারিবারিক ‘ইমিউনিটি’ প্রসঙ্গ টেনেও চাঁচাছোলা আক্রমণ শানান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘সহকর্মীর পাশে দাঁড়ানোর সময় নীরবতা, শিল্পীদের দিয়ে কাজ করিয়ে পেমেন্টের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা—তারপর পাবলিকের সামনে ইমেজ পলিশিং এমন পর্যায়ে যে, মনে হয় মাছের তেলে মাছ ভাজা নয়, মাছই এবার নিজের তেল নিয়ে প্রেস কনফারেন্স করছে!’
পারিবারিক ঐতিহ্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেই যেন ইমিউনিটির বাহানা দেওয়া হয়, আর সঙ্গে কিছু ‘চিরস্থায়ী তেল-সরবরাহকারী’ তো রয়েছেই— এমনটাই অভিযোগ রূপাঞ্জনার।
২০১৯ সালের রাজনৈতিক তিক্ততার স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতির চাকা সবসময় ঘোরে। ২০১৯-এ তো দেখেছি—নামজাদা ডিজাইনার থেকে পুরোনো বন্ধু, কট্টর বাম থেকে সুবিধামতো বিপ্লবী—সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন ঝড় তুলেছিলেন যেন আমাকে একঘরে করলেই বিপ্লব সম্পূর্ণ হবে।
রূপাঞ্জনা মিত্র বলেন, আমি কিছুই ভুলিনি। আজ যারা অন্যকে একঘরে করতে বা তোষামোদে ব্যস্ত, কাল হয়তো তারাই ভাববেন— এত তেল ঢাললাম… গাড়িটা গেল কোথায়?
