জলবায়ু সংকটে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশের নতুন লড়াই
মোনায়েমুল ইসলাম সিজার
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে বলার মতো সাফল্যের গল্প যোগ হয়েছে। এদের মধ্যে উজ্জ্বল উদাহরণ হিসাবে বলা যায় টিকাদান কর্মসূচি, শিশু ও প্রসবকালীন মায়ের মৃত্যুহার কমানো, জনবান্ধব ওষুধনীতি, কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া ইত্যাদি। আরও সাফল্যের পালক যোগ হয়েছে, যা দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বে সমাদৃত হয়েছে। যেমন-ডায়রিয়া প্রতিরোধে লবণ-গুড় স্যালাইন, যা বিশ্বব্যাপী কয়েক কোটি শিশুর জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
স্বাধীনতা অর্জনের পাঁচ দশকের কিছু বেশি সময় পর দেশ আজ ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি। এ সংকটকালে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাও বহুমুখী প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে। এরমধ্যে সবচেয়ে অনিবার্য ও গভীর চ্যালেঞ্জ হলো জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। বর্তমান শতাব্দীর সবচেয়ে কঠিন স্বাস্থ্যঝুঁকির একটি হিসাবে জলবায়ু পরিবর্তনকে বিবেচনা করা হচ্ছে ।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শিশু ও মায়েদের স্বাস্থ্যের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা সত্যিই ভয়াবহ। তাই আজ যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, তা হলো, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় আমাদের শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যসেবা কতটা সহনশীল, স্থিতিস্থাপক এবং প্রস্তুত?
সহজভাবে বললে, (Climate resilience) জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা বা সহনশীলতা বলতে বোঝায় এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা, যা পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, সংকটের সময়ও স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখতে সক্ষম হয় এবং দ্রুত অভিযোজনের মাধ্যমে সংকট পেরিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে। শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা কেমন হতে পারে, তা নিচের উদাহরণ ও আলোচনা থেকে বোঝা যেতে পারে।
একযুগ আগেও বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে গর্ভবতী মায়ের প্রসবপরবর্তী জটিলতায় মৃত্যু ছিল নিত্যদিনের করুণ ঘটনা। নবজাতকের টিকাদান ছিল দুরাশা, আর মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছিল গ্রামের অধিকাংশ শিশুরা। ২০০১ সালে যেখানে প্রতি লাখে মাতৃমৃত্যু ছিল ৩২২, সেখানে ২০২৩ সালে নেমে এসেছে ১৬৩-এ। পাঁচ বছরের নিচে শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস পেয়েছে ঈর্ষণীয় হারে। এর পেছনে রয়েছে একটি সুচিন্তিত, বহুমুখী ও অভূতপূর্ব স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে তোলার নিরলস প্রচেষ্টা।
এ অবস্থান এবং ধারাবাহিক সাফল্য জলবায়ুর চ্যালেঞ্জের মধ্যেও শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের মানসম্মত সেবা বজায় রাখতে সক্ষম, এমন একটি ব্যবস্থা সবাই প্রত্যাশা করে। কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্যব্যবস্থা যতই শক্তিশালী হোক, সহনশীল না হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মা ও শিশু। শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে, সবাই আশা করে গর্ভবতী মা যেন যে কোনো পরিস্থিতিতেই নিরাপদ প্রসবসেবা পান। নবজাতক ও শিশুর টিকাদান, পুষ্টি ও জরুরি চিকিৎসা যেন ব্যাহত না হয়। স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকির মধ্যেও সুরক্ষিতভাবে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের জন্য কাজ করতে পারেন।
আমরা যদি আজকের বাংলাদেশের দিকে তাকাই, আমরা দেখি সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে হাজার হাজার প্রসূতি মা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দিকে পা বাড়াচ্ছেন। গ্রামের পথে থ্রি-হুইলার অ্যাম্বুল্যান্সের শব্দ, শহরের হাসপাতালে নবজাতকের প্রথম কান্না আর প্রত্যন্ত চরে স্বাস্থ্যকর্মীর অবিরাম পদচারণা, এ ছবিগুলো শুধু দৃশ্য নয়, এগুলো একটি জাতির অঙ্গীকারের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ যে অভিযাত্রা শুরু করেছিল, তা আজ বিশ্বে রোল মডেল।
রোল মডেলের এ মর্যাদা আজ অনেকটা হুমকির মুখে। এর অন্যতম কারণ, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও তাপপ্রবাহ সরাসরি শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যে আঘাত হানছে। উপকূলীয় এলাকায় গর্ভবতী নারীদের জন্য নিরাপদ পানীয় জল পাওয়া কঠিন হচ্ছে, পুষ্টিহীনতা বাড়ছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। আবার শহরের বস্তি, পাহাড়ি অঞ্চল, চর ও হাওড় এলাকার শিশু ও মায়েরা স্বাস্থ্যব্যবস্থার সহনশীলতা যাচাইয়ের সবচেয়ে বাস্তব উদাহরণ। এখানে সংকট নতুন নয় সংকটই নিত্যদিনের বাস্তবতা।
বহুমাত্রিক সংকটের এ সময়ে, বাংলাদেশ যদি সত্যিকার অর্থে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যে টেকসই অগ্রগতি চায়, তাহলে আমাদের লক্ষ্য হতে হবে, এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা, যা সংকটে ভেঙে পড়বে না; বরং সংকট থেকেই শক্তি সঞ্চয় করবে। এটি সরকারের একক দায়িত্ব নয়। উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত, এনজিও, গবেষক, গণমাধ্যম সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যে একটি সহনশীল, মানবিক ও ন্যায্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে। জলবায়ু সহনশীল শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যে ব্যবস্থা নির্মাণ প্রশ্নে, প্রথমেই নীতি ও বিনিয়োগের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। আমাদের বর্তমান নীতিগুলোকে আবার পর্যালোচনা করে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে তা বাস্তবসম্মত হয় এবং শিশু ও নারীবান্ধব ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। আর এ নীতি বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখতে হবে, নীতি কাগজে নয়, বাস্তবে কাজ করলেই সহনশীলতা তৈরি হয়।
বিশ্বব্যাংক ২০২৫ সালে ‘Rethinking Resilience Adapting to a Changing Climate’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাসঙ্গিক উদাহরণ হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ১৯৭০ সালের ভোলা ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৫ লাখ মানুষ মারা যায়, আর ১৯৭৪ সালের বন্যা ও দুর্ভিক্ষে প্রাণহানি ঘটে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের। কিন্তু ২০১৯ সালে ক্যাটাগরি-৫ ঘূর্ণিঝড়ের সময়, দেশের আয় অনেক বেড়েছিল ফলে মৃত্যুর সংখ্যা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৩,৫০০ জনে।
এ সময়ের বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় কয়েক গুণ বেড়েছে আর প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যুঝুঁকিও অনেক কমেছে। তাই বোঝা যায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা হলো শক্তিশালী অর্থনৈতিক উন্নয়ন। এটি থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন জরুরি, তেমনি শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগও অপরিহার্য।
এরপর যে বিষয়টি জরুরি, তা হলো জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ।
গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত রোগ যেমন ডায়রিয়া, ডেঙ্গু, পানিবাহিত সংক্রমণ ও গর্ভকালীন জটিলতা বৃদ্ধির কারণে শিশু ও মায়ের অসুস্থতা ও মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্য অবকাঠামো, যেমন-বন্যা-সহনশীল ক্লিনিক, মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা ও জরুরি পরিবহণ ব্যবস্থা, গ্রামীণ ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মাতৃ ও শিশুসেবা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত জরুরি। এসব কাঠামো শক্তিশালী হলে, দুর্যোগ পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত থাকে, যার ফলে মাতৃমৃত্যু, নবজাতক মৃত্যু এবং শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস পায়।
ডিজিটাল হেলথ এবং টেলিমেডিসিন শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে প্রযুক্তি কার্যকর হলে তা সবার জন্য ব্যবহারযোগ্য হতে হবে, ডেটা বাস্তব সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কাজে লাগতে হবে এবং গ্রাম-শহরের বৈষম্য কমাতে হবে। তাই প্রযুক্তিকে লক্ষ্য নয়, সেবায় পৌঁছানোর মাধ্যম হিসাবে ভাবা জরুরি।
সুনামগঞ্জের হাওড়ে একজন গর্ভবতী মা মোবাইলে পরবর্তী চেকআপের তারিখ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাচ্ছেন। ‘মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম’ বা ‘৯৯৯’ ইমার্জেন্সি সার্ভিসের মতো উদ্যোগ জীবন রক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে থাকা ট্যাবলেটে প্রতিটি মা ও শিশুর পূর্ণ স্বাস্থ্যরেকর্ড, এ শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার নয়, প্রতিটি জীবনকে অনন্য হিসাবে মূল্যায়নের দর্শন।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো কমিউনিটি পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা। সংকটের সময় জনগণের প্রথম ভরসা তারাই। কিন্তু কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থাকে, তারা কি যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা পান? সংকটকালে তাদের মানসিক ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত হয়? সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়তে হলে ফ্রন্টলাইন কর্মীদের শুধু দায়িত্ব দিয়ে নয় সম্মান, নিরাপত্তা ও সক্ষমতা দিয়ে শক্তিশালী করতে হবে।
সর্বশেষ কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সরকার যদি শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের গুরুত্ব যথাযথভাবে উপলব্ধি করে এবং এটিকে জাতীয় অগ্রাধিকারে স্থান দেয়, তবেই ওপরের সব উদ্যোগ বাস্তবায়ন ও অর্জন সম্ভব হবে। রাজনৈতিক অঙ্গীকার বলতে শুধু বক্তৃতা বা ঘোষণাকে বোঝায় না; বরং এটি নীতিনির্ধারণ, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহির একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
নীতিনির্ধারকদের উপলব্ধি করতে হবে, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নতি কোনো বিলাসিতা নয়। এটি মানবসম্পদ গঠনের কেন্দ্রবিন্দু। গর্ভে ও শৈশবে স্বাস্থ্য, পুষ্টিতে বিনিয়োগ মানে ভবিষ্যতের শিক্ষিত, কর্মক্ষম এবং উদ্ভাবনী প্রজন্ম। পাশাপাশি দুর্যোগ-ঝুঁকির দেশে সহনশীল স্বাস্থ্যসেবা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতি দুটির সঙ্গেই সরাসরি সম্পর্কিত।
শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিলে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়, সেবার মান উন্নত হয়, এবং দুর্যোগ বা সংকটের সময়ও প্রয়োজনীয় সেবা চালু রাখা সহজ হয়। এ জন্য প্রয়োজন স্পষ্ট লক্ষ্য ও সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা, স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন সক্ষমতা, নিয়মিত নজরদারি ও মূল্যায়ন।
একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন মাপা হয় তার সবচেয়ে অসহায় ও গুরুত্বপূর্ণ দুই জনগোষ্ঠী মা ও শিশুর প্রতি তার আচরণ দিয়ে। কারণ, প্রতিটি সুস্থ মা হচ্ছেন একটি পরিবারের, একটি সমাজের, একটি দেশের শক্তির উৎস। আর প্রতিটি সুস্থ শিশুই হলো আগামী দিনের সম্ভাবনা। বাংলাদেশের ভবিষ্যতের স্বপ্ন। সে স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে। এখন প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্নতা, ন্যায়সংগতা ও সহনশীলতা। যাতে যে কোনো ঝড়ের পরও মা-শিশুর সেবা থেমে না যায় বরং আরও সুবিন্যস্ত ও সুলভ হয়ে ওঠে। নীতিনির্ধারক, স্বাস্থ্যকর্মী, উন্নয়ন-সহযোগী, বেসরকারি খাত এবং সবচেয়ে বড় শক্তি, আমাদের কমিউনিটি একসঙ্গে চললে এ লক্ষ্য অধরা নয়।
মনে রাখা প্রয়োজন, সহনশীলতা কিংবা স্থিতিস্থাপকতা কথাটি এখানে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা নয়, এটি একটি সামগ্রিক দর্শন। এটি হলো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এমন একটি গুণ, যা অপ্রত্যাশিত আঘাত (মহামারি, বন্যা, অর্থনৈতিক ধাক্কা) সামলে আবার দ্রুত পূর্বাবস্থায় ফিরে আসতে পারে এবং ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী হতে পারে। করোনা মহামারির সময় আমরা দেখেছি, কীভাবে টিকা কর্মসূচি এবং প্রসূতি সেবা ধারাবাহিক রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে গেছেন, বিকল্প উপায়ে পরামর্শ দিয়েছেন। এ স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য।
মোনায়েমুল ইসলাম সিজার : স্বাস্থ্যব্যবস্থাবিষয়ক গবেষক, নির্বাহী পরিচালক, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।
