তিন শতাধিক সিনেমার নায়িকা নূতন এখন একা
Advertisement
আনন্দনগর প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সত্তরের দশকের ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নূতন। একসময় শুটিংয়ে পার করেছেন ব্যস্ত সময়। পরিবারের চেয়েও বেশি সময় কাটিয়েছেন সিনেমার সেটে। এখন আর সেই ব্যস্ততা নেই। সিনেমার সেই সোনালি সময় আজ অতীত। একের পর এক আপনজনকে হারিয়ে শূন্যতা আর নিঃসঙ্গতা নিয়ে এক প্রকার ঘরবন্দি দিন কাটছে তার। যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে মন খুলে কথা বলেছেন তিনি। নূতন বলেন, ‘একজন চিত্রনায়িকা সারা জীবন আনন্দ উল্লাসের মধ্যে কাজ করে এসেছে, সেখান থেকে এখন একদম ঘরবন্দি।’
স্বামী, মা-বাবা ও ভাইকে হারানোর শূন্যতা তাকে প্রতিনিয়ত কষ্ট দেয়। একমাত্র মেয়ে ও নাতি-নাতনিরা থাকেন দেশের বাইরে। একাকী দিন কাটানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ছোট বোনটার সঙ্গে মাঝে মাঝে একটু বাইরে যাই। কফি খাওয়া ও কেনাকাটা করি। এভাবেই সময়গুলো পার করে দিই।’
এত কষ্টের কথা অবশ্য কাউকে বুঝতে দেন না এ অভিনেত্রী। হাসির আড়ালে সব চেপে রাখেন। নিজের জীবন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার জীবনটা এমন কষ্টের জীবন, যে কষ্টটা তোমাদের বলে শেষ করতে পারব না। আমার লাইফে শুধু কষ্টই কষ্ট।’ তিনি আরও বলেন ‘এত কষ্ট করেছি জীবনে যে, সেই কষ্টের কথা অল্পতে বলা সম্ভব নয়। বললে আমার চোখে অশ্রু ঝরবে। অনেক কষ্ট জমে আছে বুকে, চোখটাও যেন সমুদ্র হয়ে আছে।’
ক্যারিয়ারে উজ্জ্বল সময় একটি দারুণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার কথা বলে আক্ষেপও করেন নূতন। জানিয়েছেন, তার বাবার মৃত্যুর পর এক চাচা তাদের পরিবারকে দক্ষিণ ভারতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার মা রাজি হননি। সেই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি যদি ওখানে চলে যেতাম, তাহলে আমার ভেতরে যে কনফিডেন্স, আমি নিশ্চয়ই ওখানকার একজন হিরোইন হতাম।’ তিনি মনে করেন, সেখানে গেলে সুচিত্রা সেন বা মিঠুন চক্রবর্তীর মতো তাকে নিয়েও এদেশের মানুষ গর্ব করতে পারত। তাকে নিয়েও সে দেশে আলোচনা হতো। দেশে থেকে যাওয়ায় যথাযথ মূল্যায়ন পাননি বলে মনে করেন নূতন। তিনি বলেন, ‘শ্রীদেবী বা শিল্পা শেঠির আগের রূপ দেখুন। তারা সার্জারি করে সুন্দরী হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ আমাকে যেভাবে জন্ম দিয়েছেন, আমি এখনো পর্যন্ত আমার স্কিনে কিছুই টাচ করিনি, স্বাভাবিকই আছি।’ আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘আমার দুঃখটা ওইটা বেশি যে, আমাকে এখানে কেন রাখা হলো।’
ক্যারিয়ারের স্মৃতিচারণায় ঋত্বিক ঘটকের কথাও তোলেন নূতন। ‘ঋত্বিকদার সঙ্গে কাজ করেছি। খুব মজার মানুষ, অনেক বড় ও মজার মানুষ ছিলেন তিনি’-বলেন এ অভিনেত্রী।
জীবনের এ পর্যায়ে এসে বর্তমান প্রজন্মের প্রতি পরামর্শ দিয়ে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘জীবনসঙ্গীকে ভালোবাসার পাশাপাশি বাবা-মাকেও ভালোবাসতে হবে। স্বামী-স্ত্রীর যে ভালোবাসা তা আল্লাহ প্রদত্ত। তবে বাবা-মায়ের প্রতিও সন্তানদের ভালোবাসা থাকা উচিত। তাহলে আর শেষ বয়সে তাদের আর বৃদ্ধাশ্রম খুঁজতে হবে না’।
