সস্তা তারকাখ্যাতির পেছনে ছুটি না : সিয়াম
Advertisement
আনন্দনগর প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জনপ্রিয়তার চেয়ে কাজের সততা ও নিজস্ব দর্শনে বিশ্বাস করেন ঢাকাই সিনেমার নায়ক সিয়াম আহমেদ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ অভিনেতা বলেছেন জনসমাগম ও সাক্ষাৎকার এড়িয়ে চলা, অভিনয়ের শুরুর দিন, পারিবারিক জীবন এবং সিনেমা মুক্তির সংস্কৃতি নিয়ে নিজের ভাবনার কথা। জনসমাগম ও সাক্ষাৎকার এড়িয়ে চলা প্রসঙ্গে সিয়াম বলেন, ‘জংলি সিনেমার প্রস্তুতির সময় আমার বিশেষ লুক ট্রান্সফরমেশন ছিল। তাই যে কোনো জনসমাগম ও অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলতাম। আমি দর্শকদের কাজ দিয়েই প্রকৃত চমক দিতে চেয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনুষ্ঠানে একই ধরনের প্রশ্ন আর কৃত্রিম ডিপ্লোম্যাটিক উত্তরের চর্চা আমার পছন্দ নয়। তাই সাক্ষাৎকার এড়িয়ে সরাসরি কাজ দিয়েই দর্শকের কাছে পৌঁছাতে চাই। অনেক সময় সৎ কথা স্পষ্ট করে বলতে গেলে নানা ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই চুপ থেকে কাজ করে যাওয়াই আমার কাছে সুবিধাজনক মনে হয়।’
অভিনয় জীবনের শুরুর দিনগুলো নিয়ে সিয়াম বলেন, ‘ক্যারিয়ারের শুরুতে সেট, লাইটিং বা কিউ সম্পর্কে আমি কিছুই বুঝতাম না। পারফরমার হিসাবে সেই সময়টাই আমার অন্যতম সুন্দর স্মৃতি। শুটিং সেটে সিনিয়র, সহশিল্পী ও পরিচালকদের কাছ থেকেই অভিনয়ের খুঁটিনাটি শিখেছি।’
অভিনয়ে আসার আগে আইনজীবী হিসাবে কাজ করতেন সিয়াম। এখনো সেখানে সময় দেন। তবে কম। এখন তিনি পেশাদার অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘অন্য পেশাকে কম্প্রোমাইজ করেই আমি অভিনয়ে এসেছি। কারণ এ পেশা বেছে নেওয়া ছিল আমার মনের ভেতরের ডাক।’ আইন বিষয়ে পড়াশোনা করলেও তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য কোনো আফসোস নেই বলে জানান সিয়াম। তিনি বলেন, ‘অর্জিত শিক্ষা বা অভিজ্ঞতা কখনো বিফলে যায় না। মানুষের আচরণ পর্যবেক্ষণ ও চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে এটি আমার কাজে লাগে।’
ওকালতি ছেড়ে অভিনয়ে যোগ দেওয়ার পর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এ পেশা নিয়ে অনেকটা অনিশ্চয়তাও ছিল। এই নায়ক বলেন, ‘সিনেমার অনিশ্চয়তা ও পারিবারিক দায়িত্ব নিয়ে তখন মানসিক চাপ ছিল। তবে আমি নিজের স্বপ্নের প্রতি সব সময় সৎ ও অবিচল ছিলাম। বস্তুগত বিলাসিতার চেয়ে নিজের সময় ও কাজ উপভোগ করাকেই আমি প্রাধান্য দিই। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্ত্রীর মানসিক সমর্থন আমার জীবন অনেক সহজ করেছে।’
পারিবারিক জীবন নিয়ে সিয়াম বলেন, ‘সন্তান হওয়ার পর আমি বেশ পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছি। চার দেওয়ালের ভেতরের প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গই এখন আমার কমফোর্ট জোন। নিজে বাবা হওয়ার পর সম্পর্কের গভীর আবেগ বুঝতে পেরেছি। তাই এখন পরিবার ও শিশুদের উপযোগী সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনাও করছি।’
বর্তমান পেশা নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও এর অসঙ্গতিটাও এ অভিনেতাকে বেশ কষ্ট দেয়। এই যেমন, এখন শুধু ঈদেই সিনেমা মুক্তি দেওয়া হয়। বিষয়টিকে স্বাভাবিক চোখে দেখেন না সিয়াম। তিনি বলেন, ‘শুধু ঈদ কেন্দ্র করে সিনেমা মুক্তির মানসিকতা থেকে আমাদের বের হতে হবে। বছরজুড়ে নিয়মিত সিনেমা মুক্তির পরিবেশ তৈরি করা দরকার। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের দর্শক সব সময় ভালো গল্প ও নির্মাণকে সাদরে গ্রহণ করে। শুধু সিনেমা বানালেই হবে না। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রচারণার বাজেট রেখে দর্শকের কাছে ভালো কাজের বার্তা পৌঁছে দেওয়াও প্রডিউসারদের দায়িত্ব।’
অভিনেতা আরও জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য নিয়েই তিনি এগোচ্ছেন। বলেছেন, ‘সস্তা তারকাখ্যাতির পেছনে ছোটা আমার লক্ষ্য নয়। কাজের সততা ও পারফরম্যান্স দিয়ে দর্শকের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে চাই। এটাই আমার অভিনয় জীবনের মূল লক্ষ্য।’
এদিকে কাজের সূত্রে সিয়ামকে সর্বশেষ দেখা গেছে চলতি বছরের ঈদুল ফিতরে ‘রাক্ষস’ সিনেমায়। মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত এ সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে আশানুরূপ সাফল্য না পেলেও একেবারেই হতাশ করেনি। আলোচনায়ও ছিল বেশ। ঈদের দিন শুধু মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তি পায় এটি। ঈদের পর দেশের প্রায় ৩০টি সিঙ্গেল স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহেও দেখানো শুরু হয়। বর্তমানে তিনি রায়হান রাফী পরিচালিত থ্রিলার সিনেমা ‘আন্ধার’ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। সিনেমাটি গত অক্টোবর মুক্তির কথা থাকলেও পরে তা পেছানো হয়। পরিচালক জানান, ২০২৭ সালের ২৬ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন তিনি।
