আরও হালকা, মসৃণ আধুনিক ই-অ্যাসিস্ট প্রযুক্তি
সাইকেলকে ই-বাইকে রূপান্তর করবে ‘সাইপ্লোর’
মো. আবদুস সালিম
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নতুন ইলেকট্রিক বাইক (ই-বাইক) কিনতে আন্তর্জাতিক বাজারে খরচ করতে হয় ২ থেকে ৪ হাজার মার্কিন ডলার। তবে নিজের ব্যবহৃত সাধারণ সাইকেলটিকেই চাইলে রূপান্তর করা যায় ই-বাইকে। এ ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী বিকল্প হিসাবে জনপ্রিয় হচ্ছে ই-বাইক কনভার্সন কিট। এমনই আধুনিক প্রযুক্তির নাম ‘সাইপ্লোর’ (Cyplore)। ছোট আকার, হালকা ওজন এবং উন্নত ই-অ্যাসিস্ট সুবিধার কারণে প্রযুক্তিটি নজর কেড়েছে।
সাইপ্লোরের অন্যতম আকর্ষণ এর ওজন। মোটর ও ব্যাটারিসহ পুরো কিটটির ওজন প্রায় ১ দশমিক ৭ কেজি। উন্নত কার্বন হুইলসহ নিলে ওজন দাঁড়ায় প্রায় ২ দশমিক ৪ কেজি। ফলে সাইকেলের স্বাভাবিক গঠন ও চালানোর অনুভূতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই যুক্ত করা যায় বৈদ্যুতিক সহায়তা।
প্যাডেল করলেই বাড়বে গতি
সাধারণত ই-বাইক কনভার্সন কিটে ফ্রন্ট হাব, রিয়ার হাব ও মিড-ড্রাইভ-এ তিন ধরনের মোটর ব্যবহার করা হয়। সামনের চাকায় যুক্ত হয় ফ্রন্ট হাব মোটর, পেছনের চাকায় রিয়ার হাব মোটর এবং প্যাডেলের ক্র্যাঙ্কসেটে বসানো হয় মিড-ড্রাইভ মোটর। পাহাড়ি বা উঁচু-নিচু পথে মিড-ড্রাইভ মোটর তুলনামূলক কার্যকর।
সাইপ্লোরের বিশেষত্ব এর টর্ক সেন্সিং প্রযুক্তি। চালক কতটা শক্তি দিয়ে প্যাডেল করছেন, তা শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোটরের সহায়তা বাড়ায় বা কমায়। ফলে চালককে আলাদাভাবে গতি নিয়ন্ত্রণের ঝামেলায় পড়তে হয় না। এতে রয়েছে বিল্ট-ইন ক্লাচ, যা মোটর বন্ধ থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে সাধারণ সাইকেলের মতো প্যাডেল করার সময় বাড়তি ঘর্ষণ বা বাধা অনুভূত হয় না।
প্রযুক্তিটিতে প্রায় ২৩ থেকে ৩৩ নিউটন মিটার টর্ক সরবরাহের সক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। রয়েছে স্মুথ, এজাইল, অটো ও ট্রেনিং-চার ধরনের রাইডিং মোড। হ্যান্ডেলে থাকা ডিসপ্লেতে ব্যাটারির চার্জ ও গতি দেখা যায়। পাশাপাশি থ্রটল এবং ব্রেকের সঙ্গে যুক্ত কাট-অফ ব্যবস্থার সুবিধাও রয়েছে। ব্রেক চাপলে মোটরের পাওয়ার বন্ধ হয়ে যায়।
খরচ কম, সুবিধা বেশি: আন্তর্জাতিক বাজারে সাধারণ সাইকেলকে ই-বাইকে রূপান্তর করতে কিটের ধরন ও ব্যাটারির ক্ষমতাভেদে প্রায় ৫০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ ডলার খরচ হতে পারে। ফ্রন্ট হাব কিটের দাম তুলনামূলক কম; মিড-ড্রাইভ কিটের দাম বেশি। ব্যাটারি এ রূপান্তরের অন্যতম ব্যয়বহুল উপাদান।
বাংলাদেশের বাজারে ব্যাটারিবিহীন বেসিক মোটর কনভার্সন কিট পাওয়া যায় প্রায় ৬ থেকে ১৫ হাজার টাকায়। মোটর ও উন্নতমানের লিথিয়াম ব্যাটারিসহ সম্পূর্ণ রূপান্তরে খরচ হতে পারে ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা।
সাইপ্লোরের মতো প্রযুক্তি সাইকেল ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে যানজটপূর্ণ শহরে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াত, শারীরিক পরিশ্রম কমানো এবং পরিবেশবান্ধব চলাচলের ক্ষেত্রে ই-বাইক কনভার্সন হতে পারে আকর্ষণীয় বিকল্প। তবে ব্যবহারের আগে সাইকেলের কাঠামোগত সক্ষমতা, ব্রেক, ব্যাটারির নিরাপত্তা এবং স্থানীয় সড়ক ব্যবহারের বিধিবিধান বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
