কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসন
জামায়াত প্রার্থীদের আয় সীমিত, শিক্ষায় সমৃদ্ধ
সাতজন ব্যবসায়ী শিক্ষক ৩
Advertisement
আবুল খায়ের, কুমিল্লা
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লায় জামায়াত প্রার্থীদের আয়ের উৎস সীমিত কিন্তু শিক্ষায় তারা সমৃদ্ধ। জেলার সাতটি আসনের প্রার্থী ব্যবসায়ী, তিনজন শিক্ষক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াত ১০টিতে প্রার্থী দিয়েছে। তাদের সবার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। জেলার বিএনপি প্রার্থীদের তুলনায় জামায়াত প্রার্থীরা সম্পদে পিছিয়ে রয়েছেন। বিএনপি প্রার্থীদের তুলনায় তাদের আয়ের উৎস অত্যন্ত সীমিত। এদিকে জামায়াত জোট একটি আসন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহকে ছেড়ে দিয়েছে। অপরদিকে কুমিল্লা-৩ আসনে তথ্যে ভুল থাকায় দলের প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেলের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। হলফনামা সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান বাহালুল পেশায় ব্যবসায়ী, শিক্ষা এমএসএস। বছরে আয় ২০ লাখ ৭২ হাজার টাকা। প্রার্থীর নগদ আছে ২৫ লাখ ৩৯ হাজার ৭০৪ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি ২৮ লাখ আট হাজার ৫৪০ টাকার ও স্থাবর সম্পত্তি আছে ১৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকার। মামলার সংখ্যা পাঁচটি। কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনের মো. নাজিম উদ্দিনের (এমএ) পেশা ব্যবসা। আয়ের উৎস কৃষি, ব্যবসা, শেয়ার সঞ্চয়পত্র। প্রার্থীর বার্ষিক আয় সাত লাখ ৫৫ হাজার এবং নগদ আছে চার লাখ টাকা। তার আছে অস্থাবর সম্পত্তি ৪৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৮ টাকার ও স্থাবর সম্পত্তি ৮৫ লাখ টাকার। মামলার সংখ্যা ১২টি। কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক মো. আবুল হাসনাত ওরফে হাসনাত আবদুল্লাহ (এমএ)। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী এবং তার আয়ের উৎসও ব্যবসায়। তার বার্ষিক আয় ১২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা এবং নগদ আছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি আছে ৫০ লাখ টাকার। এ প্রার্থীর নিজের ও স্ত্রীর স্থাবর সম্পদ নেই, মামলাও নেই। কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের প্রার্থী মো. মোবারক হোসাইনের (এমএ) পেশা শিক্ষকতা এবং আয়ের উৎস ব্যবসা ও শেয়ার। তিনি বছরে আয় করেন ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৮ টাকা, নগদ আছে তিন লাখ ৯৮ হাজার ১৮১ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি আছে ৪৬ লাখ ৩৭ হাজার ৭২৬ এবং স্থাবর সম্পত্তি আছে ৪৮ লাখ ৪৪ হাজার ২৬৭ টাকার। মামলার সংখ্যা ১২টি। কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, সিটি করপোরেশন, সেনানিবাস এলাকা, সদর দক্ষিণ) আসনের প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদের (এমএ) পেশা ব্যবসা। আয়ের উৎস বাড়িভাড়া ও ব্যবসা । প্রার্থীর বছরে আয় পাঁচ লাখ ২৮ হাজার ও নগদ আছে ১২ লাখ ২১ হাজার ৫৮১ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি আছে ২২ লাখ ৪১ হাজার ৫৮১ টাকার এবং স্থাবর সম্পত্তি ৬১ লাখ ২১ হাজার ৪২১ টাকার। মামলার সংখ্যা ২১টি। কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের প্রার্থী পেশায় শিক্ষক মো. মোশাররফ হোসেন (কামিল)। আয়ের উৎস শিক্ষকতা। বছরে আয় পাঁচ লাখ ৪২ হাজার ২১৪ টাকা। নগদ আছে ৬৭ হাজার ৭৮২ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি ১২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫০ ও স্থাবর সম্পত্তি ৩০ লাখ ১৬ হাজার টাকার। মামলা চারটি। কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে দলটির প্রার্থী ড. মো. শফিকুল আলম হেলাল (এমএ)। শিক্ষকতা পেশায় এ প্রার্থীর বছরে আয় ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮ টাকা, নগদ আছে তিন লাখ ৪১ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি আট লাখ ৫৮ হাজার ৮২৬ ও স্থাবর সম্পত্তি আছে ৩১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৫৯ টাকার। মামলা ছয়টি। কুমিল্লা-৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) আসনের প্রার্থী সৈয়দ একেএম সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকীর (এমএ) পেশা ও আয়ের উৎস ব্যবসা। বছরে আয় করেন তিন লাখ ৮৪ হাজার টাকা। নগদ আছে ৯০ হাজার টাকা। অস্থাবর ৩৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকার ও স্থাবর দুই কোটি ৩৫ লাখ টাকার সম্পত্তি আছে। মামলার সংখ্যা পাঁচটি। কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনের প্রার্থী মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাতের (এমএ) পেশা ব্যবসা। তার বছরে আয় পাঁচ লাখ ২১ হাজার টাকা। প্রার্থীর ৪০ লাখ টাকার অস্থাবর এবং এক কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি আছে। মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৪৪টি। কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের (এমবিবিএস)। পেশায় চিকিৎসক ও ব্যবসায়ী। এ প্রার্থীর বছরে আয় ১০ লাখ ৩৮ হাজার এবং নগদ আছে পাঁচ লাখ আট হাজার ২২৪ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি আছে ৮৫ লাখ টাকার ও স্থাবর সম্পত্তি পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টাকার। মামলার সংখ্যা ৩৭টি। মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীরা স্বচ্ছভাবে হলফনামা দাখিল করেছে। ফ্যাসিবাদের আমলে জেলার সব উপজেলায় আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণে হয়রানিমূলক অনেক মামলা হয়েছে। মামলাগুলো থেকে তারা অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন। কিছু মামলা বাতিল হয়েছে, কিছু স্থগিত আছে।
