শালিখায় শিক্ষক-কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়ন
আমানতকারীদের দেড় কোটি টাকা তছরুপ চেয়ারম্যানের
Advertisement
আবু বাসার আখন্দ, মাগুরা
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শালিখায় সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধিত ‘শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড’ নামে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আমানতকারীদের সঞ্চিত প্রায় দেড় কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান উপজেলার শ্রীহট্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাহারুল ইসলাম ক্রেডিট ইউনিয়নের অ্যাকাউন্ট থেকে মোট এক কোটি ৪৮ লাখ পাঁচ হাজার টাকা সরিয়ে জুনারি, হাজরাহাটি ও আড়পাড়া এলাকার এক একর ৯৯ শতাংশ জমি নিজ নামে খরিদ করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা গেছে, শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সাল থেকে উপজেলার আড়পাড়া বাজারে কার্যক্রম শুরু করে। সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধন সাপেক্ষে তারা সদস্য সংগ্রহ করে জামানত তৈরি এবং ঋণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বর্তমানে এ আর্থিক প্রতিষ্ঠানটিতে ৫৪৬ জন আমানতকারী রয়েছেন। ইতোমধ্যে যাদের সঞ্চিত তহবিলের পরিমাণ প্রায় ছয় কোটি টাকা। ক্রেডিট ইউনিয়নের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটিতে ছয় সদস্যের একটি পরিচালনা কমিটি থাকলেও চেয়ারম্যান বাহারুল ইসলাম একক উদ্যোগে গত বছরের ২৩ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৬ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের শালিখা শাখায় ক্রেডিট ইউনিয়নের দুটি হিসাব থেকে পাঁচ কিস্তিতে মোট এক কোটি ৪৮ লাখ পাঁচ হাজার টাকা পাঁচ ব্যক্তির হিসাব শাখায় স্থানান্তর করেন। বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে উপজেলার জুনারি, হাজরাহাটি ও আড়পাড়া এলাকার এক একর ৯৯ শতাংশ জমি নিজ নামে খরিদ করেন। আবার সমুদয় জমির বিপরীতে নিজ নামে অপ্রত্যাহারযোগ্য আম মোক্তারনামা দলিল সম্পাদন করে নেওয়ায় ওই দলিলে জমির প্রকৃত মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। এভাবে তিনি ক্রেডিট ইউনিয়নটির আমানতকারীদের অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করে আসছেন। শালিখা উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের আমানতকারীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধিত এবং শিক্ষকদের সংগঠন হওয়ায় বিশ্বাস করে এখানে সদস্য হয়ে অনেকেই নিজেদের অর্থ গচ্ছিত রেখেছেন। কিন্তু পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আমানতকারীদের অর্থ দিয়ে নিজ নামে সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। এতে করে সঞ্চিত অর্থ ফেরত না পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পরিচালনা কমিটির সদস্য আড়পাড়া মহিলা কলেজের ডেমোনেস্ট্রেটর সিরাজুল ইসলাম জানান, এ বছরের শুরুতে বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রতিষ্ঠানটির তহবিলে সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু জমি ক্রয়ের বিষয়ে সমবায় অধিদপ্তরের অনুমোদন না থাকার পরও জমি ক্রয় এবং ব্যক্তি বিশেষের নামে আমমোক্তারনামা তৈরি করে আইনের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে। অভিযুক্ত শালিখা শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বাহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমানতকারীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি ক্রয় করা হয়েছে। তবে আমি মাস্টারি করি, নিয়মকানুন ভালো জানি না। ক্রেডিট ইউনিয়নের মাগুরা জেলা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক সাহাজুল ইসলামের সঙ্গে পরামর্শ করেই জমি কেনা হয়েছে। জমি নিজ নামে কেনা হলেও কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই।’ তবে কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড মাগুরা জেলা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. শাহাজুল হক তার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে মাগুরা জেলা সমবায় কার্যালয়ের উপ-সহকারী নিবন্ধক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমানতকারীদের অর্থ দিয়ে জমি ক্রয় এখতিয়ারবহির্ভূত এবং অনিয়ম। এছাড়া নিজ নামে জমি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত অপরাধ হিসাবেই গণ্য হয়। তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হলে সমবায় আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
