হাবিপ্রবিতে নেই স্বাস্থ্যবিমা তবুও ফি আদায়
Advertisement
ফাহিমুল্লাহ, হাবিপ্রবি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা স্বাস্থ্যবিমা কার্যক্রমের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। তবে এখনো প্রতি সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্বাস্থ্যবিমা বাবদ ২৭০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। কার্যকর কোনো বিমা চুক্তি না থাকা সত্ত্বেও অর্থ আদায় অব্যাহত থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা নিশ্চিত করতে যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চুক্তি ছিল। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আর নবায়ন করা হয়নি। ফলে বর্তমানে কোনো বিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকর স্বাস্থ্যবিমা চুক্তি নেই। অভিযোগ রয়েছে, বিমা চুক্তি না থাকলেও এনরোলমেন্টের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে স্বাস্থ্যবিমা ফি আদায় করা হচ্ছে। অথচ অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত বিমা সুবিধা পাচ্ছেন না। স্বাস্থ্যবিমার আওতায় চিকিৎসা ব্যয় বা ক্ষতিপূরণ চাইলে অনেককেই জানানো হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বর্তমানে কোনো কার্যকর বিমা চুক্তি নেই। সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক শিক্ষার্থীকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে তার চিকিৎসার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। এ সময় স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাওয়া যাবে কিনা, তা জানতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, বর্তমানে এ ধরনের কোনো কার্যকর স্বাস্থ্যবিমা চুক্তি নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে সহায়তার চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। সূত্র জানায়, প্রথমে ওই শিক্ষার্থীর চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা সহায়তার কথা বলা হলেও পরে তা বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সহায়তার অর্থ প্রদান সম্পন্ন হওয়ার আগেই ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, স্বাস্থ্যবিমার নামে দুই বছর ধরে আদায়কৃত অর্থ কোথায় জমা হয়েছে, কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর বিপরীতে শিক্ষার্থীরা কী সুবিধা পেয়েছেন। হিসাবের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. এসএম এমদাদুল হাসান বলেন, হিসাবের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ট্রেজারারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মাসুদুল হাসান বলেন, স্বাস্থ্যবিমার টাকা ছাত্রদের ফান্ডেই জমা হচ্ছে। তবে হিসাবের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। দীর্ঘদিন স্বাস্থ্যবিমা চুক্তি নবায়ন না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কোষাধ্যক্ষ বলেন, এতদিন চুক্তি হয়নি কেন এ বিষয়ে আমি জানি না। তবে আমরা একটি টিম তৈরি করে চলতি মাসের শেষের দিকে বিভিন্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করব। তাদের মধ্যে যে কোম্পানির নিয়মগুলো আমাদের শিক্ষার্থীবান্ধব হবে এবং যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা সহজে ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম করে টাকা পাবে, তাদের সঙ্গেই চুক্তি করা হবে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, নতুন চুক্তির পরিকল্পনার পাশাপাশি গত দুই বছরে স্বাস্থ্যবিমার নামে আদায়কৃত অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করতে হবে।
