কাউনিয়ায় আবাসিক এলাকায় কারখানা
ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন
কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কাউনিয়া উপজেলার হলদীবাড়ি রেলগেট আবাসিক এলাকায় অ্যাসফন্ট মিক্সিং প্লান্ট মেশিনে বিটুমিন (পিচ) গলানোর কাজে জুতা স্যান্ডেল পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে রাস্তা নির্মাণ কাজের মিক্সার। আবাসিক এলাকায় এই কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও ছাইয়ে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও ছাইয়ে অতিষ্ঠ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। বিষাক্ত কালো ধোঁয়া এবং ছাইয়ের কারণে এরই মধ্যে এলাকার বৃদ্ধ ও শিশুদের শ্বাসকষ্ট রোগ দেখা দিয়েছে। এছাড়া নষ্ট হচ্ছে খেতের নানা ধরনের ফসল।
সরেজমিনে কাউনিয়ার হলদি রেলগেট গিয়ে দেখা গেছে আশপাশে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা দোকান পাট, পেট্রোলপাম্প ও ঘনজনবসতি আবাসিক এলাকা রয়েছে। আছে নানা ফসলি জমি ও বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরই মাঝে গড়ে তোলা হয়েছে রাস্তার উপকরণ তৈরির মিক্সার কারখানাটি। চুল্লির কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে এলাকাজুড়ে। এতে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে কালো ধোঁয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে হলদীবাড়ি, সাহাবাজ ও খোপাতি গ্রামের হাজারো মানুষ। কারখানার কালো ধোঁয়ায় গাছের ফল ও জমির ফসল নষ্ট হওয়ারও উপক্রম। স্থানীয় আব্দুল হাকিম ও মন্টু মিয়া জানান এই কারখানার ৫০০ গজ দূরে হলদিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হলদিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় এবং ৬০০ গজ দূরে কাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মোফাজ্জল হোসেন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়গুলো স্থাপিত। পাশেই রেলগেট বাজার এবং কারখানার চারদিকে উঠতি ফসলের মাঠ ও বসতবাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে এই কারখানায়র। চুল্লিতে জুতা স্যান্ডেল পোড়ানোর সময় প্রচুর কালো ধোঁয়া নির্গত হয়। চুল্লির উচ্চতা মাত্র সাত-আট ফুট। চুল্লি থেকে বের হচ্ছে কালো ধোঁয়া। এই কারখানার ধোঁয়ার কারণে ঘরের বাইরে শিশুদের নিয়ে যাওয়া যায় না। কারখানাটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্থাপিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন না নিয়েই কারখানাটি গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার মমিনুল ইসলাম বলেন, চুল্লি থেকে নির্গত ধোঁয়ায় আশপাশের মানুষের শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকার সাধারণ মানুষ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার বলেন, চুল্লির উচ্চতা বজায় না রাখলে কালো ধোঁয়ায় ধান, গাছের ফলসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
অবিলম্বে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্টকারী অবৈধ কারখানাটি বন্ধের দাবি জানান স্থানীয়। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, তদন্তসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
