মুরাদনগরে চার গ্যাসক্ষেত্র
তবুও আবাসিক গ্যাস থেকে বঞ্চিত লাখো পরিবার
জালাল আহাম্মদ, মুরাদনগর (কুমিল্লা)
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মুরাদনগর উপজেলায় রয়েছে চারটি গ্যাসক্ষেত্র। এসব গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হলেও আবাসিক গ্যাস-সুবিধা থেকে বঞ্চিত উপজেলার লাখো মানুষ। দীর্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসার পরও পূরণ হয়নি স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা। ফলে নিজেদের এলাকায় উৎপাদিত গ্যাসের সুবিধা না পাওয়াকে ‘বাতির নিচে অন্ধকার’ হিসাবে দেখছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মুরাদনগরে বাখরাবাদ, বাঙ্গরা, শ্রীকাইল ও শ্রীকাইল-৩ (মকলিশপুর) গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। অথচ উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের ৩০৮টি গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দাই আবাসিক গ্যাস সংযোগের বাইরে। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার দুই লাখেরও বেশি পরিবারের মধ্যে মাত্র ১২ হাজার বাসিন্দা আবাসিক গ্যাস সুবিধা পাচ্ছেন। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন শেলওয়ে কোম্পানির মাধ্যমে বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। পরে ১৯৮৪ সালে এ ক্ষেত্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। এরপর বাঙ্গরা ও মকলিশপুরসহ অন্যান্য গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মুরাদনগরের গ্যাস দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে জ্বালানির চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। অথচ গ্যাসক্ষেত্রের কাছাকাছি বসবাস করেও নিজেদের রান্নার কাজে সেই গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন না তারা। উপজেলার অধিকাংশ পরিবারের রান্নার প্রধান ভরসা এখনো মাটির চুলা। সামর্থ্যবান পরিবারগুলো বাড়তি খরচ করে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। আবাসিক গ্যাস সংযোগ না থাকায় উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় বহুতল ভবনের মালিকরাও সমস্যায় পড়ছেন বলে জানিয়েছেন। গ্যাস সুবিধার অভাবে ভাড়াটিয়া পাওয়া এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। মুরাদনগরে আবাসিক গ্যাসের দাবিতে আন্দোলন নতুন নয়। ২০১৪ সালে ‘আমাদের গ্যাস আমাদের অধিকার’ ব্যানারে উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন থেকে প্রায় এক লাখ মানুষের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। পরে তা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও স্থানীয়দের সেই দাবি পূরণ হয়নি। এদিকে ভূগর্ভস্থ গ্যাসের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কায় দ্রুত সংযোগ না পেলে ভবিষ্যতে তাদের প্রত্যাশা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।
জাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ সওকত হোসেন বলেন, শুধু আমার ইউনিয়ন নয়, মুরাদনগরের ২২টি ইউনিয়নের সর্বসাধারণের একমাত্র প্রাণের দাবি-উৎপাদিত গ্যাস যেন এই উপজেলার আবাসিক খাতেই আগে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, অবিলম্বে স্থানীয়দের বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আব্দুর রহিম প্রামাণিক বলেন, আমাদের প্রধান কাজ খনি থেকে গ্যাস উত্তোলন করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা। বাসাবাড়িতে কিংবা বাণিজ্যিক খাতে বিপণন ও নতুন সংযোগ দেওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই। গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিগুলো এ বিষয়ে সঠিক তথ্য ও সিদ্ধান্ত দিতে পারবে।
