দুর্গাপুরে চালের কার্ড চাওয়ায়
বিএনপি নেতার মারধরে দুই নারী হাসপাতালে
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দুর্গাপুর উপজেলার জয়ানগর ইউনিয়নে ভিজিএফের চালের কার্ড চাওয়ায় এক বৃদ্ধা ও তার পুত্রবধূকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে এক বিএনপি নেতা। আহত দুই নারী এখন দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় এক শিশুও আহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার জয়ানগর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী নারীদের অভিযোগ, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে হতদরিদ্র ও অসহায় নারীদের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির নামের তালিকা তৈরি করছিলেন জয়নগর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা সুলতান আলী। উপজেলা ত্রাণ শাখা থেকে এই বিএনপি নেতাকে কার্ড তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই সময় ব্রহ্মপুর গ্রামের আলিমন বিবি ও তার পুত্রবধূ রেশমা বিবি কার্ড চাইতে গেলে তাদের কার্ড দেওয়া হবে না বলে জানান বিএনপি নেতা সুলতান। এ সময় আলিমন বিবি বিএনপি নেতাকে বলেন, সচ্ছল নারীদের কার্ড দেওয়া হচ্ছে তাহলে গরিব হলেও সে কেন কার্ড পাবে না। সুলতান আলী ওই নারীকে জানায়, তোরা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছিস এবার। তোদের কার্ড দেওয়া হবে না। আলিমন বিবি এ কথার প্রতিবাদ করলে তার ওপর ক্ষেপে ওঠে বিএনপির এই নেতা। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে নারীকে লাথি কিল-ঘুসি মারতে থাকে সুলতান। একপর্যায়ে আলিমন বিবি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। শাশুড়িকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে পুত্রবধূ রেশমা বিবিকেও বেধড়ক পেটায় বিএনপি নেতা সুলতান। রেশমার কোলে থাকা শিশুও আঘাত পায়। আহত আলিমন বিবির ছেলে জয়নাল আলী জানান, বিএনপি নেতা সুলতান তার মাকে মেরে হাত ভেঙে দিয়েছে। এই ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি। অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিএনপি নেতা সুলতানের দাবি ধাক্কাধাক্কির সময় বুড়ি মাটিতে পড়ে গিয়ে কিছুটা চোট পেয়েছে। তাকে মারধর করা হয়নি। প্রকৃত হতদরিদ্র ও অসহায়দের কার্ড দেওয়া হয়েছে। তারা বিনামূল্যে ১০ কেজি করে চাল পাবে। ঘটনার বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, শুনেছি দুই নারী আহত হয়েছে। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
