হাইওয়ে পুলিশ ব্যস্ত চাঁদা সংগ্রহে
Advertisement
আবেদ আমিরী, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে মহাসড়কের পটিয়া অংশে ১৭ কিলোমিটার চোর ও ছিনতাকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এ ১৭ কিমি. অংশকে তারা স্বর্গরাজ্য বানিয়েছে। কিন্তু হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে গত ছয় মাসে একজন ছিনতাইকারী আটক কিংবা প্রতিরোধের ঘটনা ঘটেনি। সন্ধ্যা হলে বিশেষ কয়েকটি ট্রাক, পিকআপ দিয়ে চলে চোরাই মালামাল পাচার। পুলিশকে ম্যানেজ করে হাইওয়ে মহাসড়কে চলাচল করছে স্থানীয় গ্যারেজে তৈরি বাস, পিকআপসহ নানা ধরনের যানবাহন ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। কিন্তু গত ছয় মাসে এ ফিটসেববিহীন ও হাইওয়ে মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ এ ধরনের কোনো যানবাহন আটকের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মাসিক ও দৈনিক দুই ভাগে ভাগ করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মাসিক হারে আদায়কৃত চাঁদা পায় ওসি হারুনুর রশিদ আর দৈনিক গাড়িপ্রতি যেসব চাঁদা সংগ্রহ হয় তা ভাগ হয় অন্য কর্মকর্তা ও পুলিশ কনস্টেবলদের মধ্যে। ওসির মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করেন হাইওয়ে থানার ঝাড়ুদার রহমান এবং দৈনিক হারে ট্রিপপ্রতি যেসব চাঁদা নেওয়া হয় তা টহল দলগুলো তাদের টহলকালীন সময় সংগ্রহ করে নিজেদের মধ্যে বণ্টন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট থেকে কক্সবাজারমুখী চক্রশালা বাইপাস সংযোগস্থল পর্যন্ত কয়েকটি গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করছে ছিনতাই ও চলন্ত গাড়ি থেকে মালামাল চুরির ঘটনা। চলন্ত কাভার্ডভ্যানের তালা কেটে চুরি করা হয় দামি পণ্য। পরে এসব মালামাল কর্ণফুলীর কলেজ বাজারের হাসান ও টিটু এবং কর্ণফুলী থানাধীন শিকলবাহার মাস্টারহাট এলাকায় ভিকি, রাজু ও লাল বাদশার কাছে চলে যাচ্ছে। এছাড়া শাহ আমানত সেতু এলাকা, মইজ্জ্যারটেক, কলেজ বাজার ও শান্তিরহাট থেকে যাত্রীবেশে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে ছিনতাইকারী। পথিমধ্যে যাত্রীদের জিম্মি করে মোবাইল ফোন ও টাকা লুট করা হয়। ওই ১৭ কিলোমিটার এলাকায় প্রতিদিন ১০-১২টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। হাইওয়ে মহাসড়কে এসব ঘটনা ঘটলেও পটিয়া থানায় প্রতিনিয়ত সেসব ঘটনায় অভিযোগ জমা হয়। কিন্তু সেদিকে নজর নেই হাইওয়ে পুলিশের। তাদের নজর মাসিক, দৈনিক ও গাড়িপ্রতি ট্রিপ হিসাবে চাঁদা আদায়ের দিকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, পটিয়া হাইওয়ে ক্রসিং থানার ওসি থানায় কর্মরত ঝাড়ুদার রহমানের মাধ্যমে মাসিক হারে চাঁদা সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে লেগুনা ১৮০টি গাড়ি থেকে মাসিক ৫০০ টাকা হারে ৯০ হাজার, ২২০টি পিকআপ থেকে এক লাখ ১০ হাজার, বাগিছারহাটের রফিকের মাধ্যমে ১২০টি গাড়ি থেকে ৬০ হাজার, স্থানীয়ভাবে তৈরি রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন কাটা বাস থেকে ৪০ হাজার টাকা, সাতকানিয়া, লোহাগড়া, চকরিয়া, ঈদগাহ, কক্সবাজার ও লালদীঘি হাইয়েস মাইক্রোর মালিকদের থেকে বিভিন্ন অঙ্কের চাঁদা সংগ্রহ করেন। এছাড়া রাতে গাছ, বাঁশ ও চোরাই পণ্যবাহী গাড়ি থেকে হাইওয়ে পিকআপ টহল দল গাড়িপ্রতি চাঁদা সংগ্রহ করে। দিনের বেলা সড়কে টহল দল বিভিন্ন সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটকের পর সেসব থানায় না নিয়ে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে পথিমধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশকে শুধু সড়ক দুর্ঘটনার পর গাড়ি জব্দ করার সময় দেখা মেলে। মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারি রিকশা চলাচলের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে এবং যাত্রী নিহত হন। সবশেষ গত মঙ্গলবার রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক রিকশাচালক নিহত এবং অপর এক যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। হাইওয়ে পুলিশ (পটিয়া) জোনের ওসি হারুনুর রশিদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঝাড়ুদার রহমান কর্তৃক মাসিক হারে চাঁদা আদয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন। রহমান প্রতি মাসে মাসিক চাঁদার জন্য তার ফোন থেকে কেন যোগাযোগ করেন সে বিষয়ে তিনি কোনো উত্তর দেননি। গত ছয় মাসে অবৈধ পণ্যবাহী গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা আটকের তথ্য পাওয়া যায়নি। টহল দল গাড়িপ্রতি চাঁদা আদায়ের বিষয়টিও তার জানা নেই বলে তিনি জানান।
