বালাগঞ্জে দৃষ্টিনন্দন ভবনে ভূতুড়ে পাঠাগার
বই-আসবাব উধাও, নথিও নেই প্রশাসনের কাছে
Advertisement
শামীম আহমদ, বালাগঞ্জ (সিলেট)
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিলেটের বালাগঞ্জে সরকারি অর্থে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত পাঠাগারটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে পাঠাগারটি স্থাপন করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে তা কার্যত পরিত্যক্ত। কক্ষের ভেতরে ধুলাবালি, মাকড়সার জাল, ভাঙা আসবাবপত্র পড়ে থাকলেও উদ্বোধনের সময় থাকা অনেক বই ও আসবাবপত্রের হদিস মিলছে না। জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা পাঠাগারটি উদ্বোধন করেন। তখন পাঠাগারের ভেতরে কয়েকটি ছোট কক্ষ সাজানো হয়। মূল পাঠাগারে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র ও বই সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমানে সেসবের অনেক কিছুই আর সেখানে নেই। সরেজমিন দেখা যায়, পাঠাগার কক্ষের দরজায় তালা নেই। ভেতরে টেবিল-চেয়ার ও বই এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। কয়েকটি চেয়ার ও টেবিল ভেঙে এক কোণে ঠাসাঠাসি করে রাখা হয়েছে। বই ও আসবাবপত্রের ওপর ধুলার আস্তরণ জমেছে। বিভিন্ন স্থানে রয়েছে মাকড়সার জাল। পুরো কক্ষে বিরাজ করছে ভূতুড়ে পরিবেশ। এদিকে পাঠাগারের সাজসজ্জায় কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কত টাকার বই ও আসবাবপত্র কেনা হয়েছিল, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এসবের কোনো ফাইল বা নথি উপজেলা প্রশাসনের কাছে নেই বলেও জানা গেছে। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ও পাঠাগার রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জুয়েল আহমদ বলেন, এসব বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। পাঠাগার কক্ষটি আগে তালাবদ্ধ ছিল, এখন তালা নেই-এটি তিনি প্রতিবেদকের কাছ থেকে জেনেছেন। পাঠাগারটি চালুর বিষয়ে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা ও তরুণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ব্যয় করে কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হলেও পাঠাগারটির মূল উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই পড়ার আগ্রহ থাকলেও পাঠাগারটি ব্যবহার করতে পারছেন না তারা। অনেকেই জানেন না, সেখানে পাঠাগার রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত পাঠাগারটি চালু করে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিয়োগ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে পাঠাগার পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ইউএনও মেরিনা দেবনাথ বলেন, পাঠাগারটি পরিদর্শন করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
