লোহাগড়া নিয়ামতপুর দিরাইয়ে হামলা সংঘর্ষে আহত ৪০
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নড়াইলের লোহাগড়ায় স্যালো মেশিনের পাম্প চুরি, সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে জলমহালের দখল এবং নওগাঁর নিয়ামতপুরে খাস পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে হামলা-সংঘর্ষেরর ঘটনা ঘটেছে। এতে আন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। যুগান্তর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর : নড়াইলের লোহাগড়ায় স্যালো মেশিনের পাম্প চুরির ঘটনা নিয়ে দুক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক ইউপি সদস্য ও দুই নারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের বাঁকা গ্রামের বটতলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জানা যায়, লক্ষীপাশা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য বাঁকা গ্রামের জিরু কাজী গ্রুপের সঙ্গে একই গ্রামের আক্তার মোল্যা গ্রুপের মধ্যে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। দুটি গ্রুপের মধ্যে ইতোপূর্বে পালটাপালটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। কিছুদিন আগে জিরু কাজী পক্ষের রাসেল শেখের একটি স্যালো মেশিনের পাম্প চুরি হয়। এতে তিনি প্রতিপক্ষকে দোষারোপ করেন। এ ঘটনার পর থেকেই দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। একপর্যায়ে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাঁকা বটতলা এলাকায় দুগ্রুপের লোকজন ঢাল, সড়কি, রামদা, ইটপাটকেল, লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে জলমহালের দখল নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত চারজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়ের ভাটিপাড়া বাজারে শিশির নূর ও রাসেল মিয়ার লোকদের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতরা হলেন-ভাটিপাড়া গ্রামের মুরসালিন, তারাজুল, রাজরান ও গোলাম কিবরিয়া। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জানা যায়, ভাটিপাড়া গ্রামের পার্শ্ববর্তী ধলিপুরী ডোবা নামক জলমহালটি ভাটিপাড়া গ্রামের রাসেল মিয়া ইজারাদার সমিতির কাছ থেকে সাব-লিজ নেন। শিশির নূর এতে অংশ চাইলে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। শনিবার সকালে রাসেল মিয়ার লোকজন ডোবায় সেচের মাধ্যেমে মাছ ধরতে গেলে শিশির নূরের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এতে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন আহত হন। নওগাঁর নিয়ামতপুরে খাস পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে দুপক্ষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজনসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের পীরপুকুরিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত জামিনুর রহমান নামে একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। জানা যায়, শুক্রবার রাতে বিবদমান সরকারি খাস পুকুরে পীরপুকুরিয়া গ্রামের জালাল উদ্দিন ও তার লোকজন মাছ ধরার প্রস্তুতি নেন। এতে গ্রামবাসী বাধা দিতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, পীরপুকুরিয়া গ্রামে প্রায় ৪০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের বসবাস করে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই খাস পুকুরে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। সরকার পরিবর্তনের পর একবার, নির্বাচনের পর এখন একটি মহল মাছ ধরার পাঁয়তারা শুরু করেছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য বিরেন জানান, তারা বহু বছর ধরে পুকুর পাড়ে বসবাস করে আসছেন। তবে জালাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি পুকুরটি তার পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি করছেন। শুক্রবার রাতে তিনি ও তার সহযোগীরা পুকুরে মাছ ধরতে এলে এলাকাবাসী বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
