বেড়ায় ফজলুর রহমান হত্যার ক্লু উদ্ঘাটন
সাবেক স্বামীর সঙ্গে প্রেমে বাধা দেওয়ায় হত্যা
Advertisement
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বেড়া উপজেলায় রিকশাচালক ফজলুর রহমান (৫৫) হত্যারহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সাবেক স্বামীর সঙ্গে প্রেমে বাধা দেওয়ায় দ্বিতীয় স্বামী ফজলুর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে গলা কেটে হত্যা করেন স্ত্রী জোছনা খাতুন। হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর সোমবার ভোরে মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতাররা হলেন-নিহতের স্ত্রী জোছনা খাতুন, জোছনার সাবেক স্বামী ও ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত মো. মানিক এবং হত্যাকাণ্ডে সহায়তাকারী মানিকের সহযোগী মো. খোকন প্রামাণিক। পুলিশ জানায়, ২০ মার্চ বেড়া পৌরসভার বড়শিলা গ্রামের একটি ধানখেত থেকে ফজলুর রহমানের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি হাতিগাড়া ক্যানেল এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন। ঘটনার দিন তার লাশ ও ব্যবহৃত রিকশাটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান, বেড়া মডেল থানার ওসি নিতাই চন্দ্র সরকার এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক লাবলুর রহমান পিপিএমের নেতৃত্বে পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ ১০ দিনের নিবিড় তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান জানান, জোছনা নিহত ফজলুর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রী। জোছনা খাতুনের সঙ্গে তার সাবেক স্বামী মানিকের দীর্ঘদিনের গোপন সম্পর্ক বা পরকীয়া চলছিল। এই সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় এবং পারিবারিক কলহের জেরে ফজলুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার রাতে মানিক ও তার সহযোগী খোকন প্রামাণিক ফজলুর রহমানকে কৌশলে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে স্ত্রী জোছনা খাতুনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফজলুরকে গলা কেটে হত্যা করে লাশ ধানখেতে ফেলে তারা পালিয়ে যান। গ্রেফতার তিন আসামিকে সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
