ভৈরবের মেঘনায় ডাকাতের উপদ্রবে মাঝিরা অতিষ্ঠ
Advertisement
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভৈরবের মেঘনায় নৌ-ডাকাতদের উপদ্রবে মাঝিরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। প্রতিনিয়ত নদীতে ডাকাতি হলেও পুলিশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রায় দিন ডাকাতদল মালবাহী ট্রলার ও বাল্কহেডে ডাকাতি করে লাখ লাখ টাকার মাল লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি সরকারি সারবাহী বাল্কহেড ছিনতাই করে সার লুটের চেষ্টা করা হয়েছে।
জানা গেছে, ৭ এপ্রিল একটি ট্রলার ভৈরব থেকে মালামাল নিয়ে রাতে আশুগঞ্জ ঘাটে নোঙর করে। পরদিন ৮ এপ্রিল ভোরে সুনামগঞ্জে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্ত ৭-৮ জন ডাকাত মঙ্গলবার রাত দেড়টায় ট্রলারে উঠে মাঝি ও স্টাফদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ২ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে ভৈরব নৌ-থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও গত ৫ দিনেও কোনো ডাকাতকে ধরতে পারেনি। পুলিশের অভিযোগ-ট্রলারের মাঝি এখনো থানায় অভিযোগ দেয়নি। গত বছরের ১০ অক্টোবর ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার মানিকনগর এলাকায় মেঘনা নদীতে একটি সারবোঝাই বাল্কহেড ছিনতাই করে। বাল্কহেডে ৩১৭ টন (৬৩৪০ বস্তা) সার ছিল। বাল্কহেডটি মুন্সীগঞ্জ থেকে সরকারি সারবোঝাই করে সুনামগঞ্জের সার গুদামে সার পৌঁছানোর কথা ছিল। সারবোঝাই বাল্কহেডটি থেকে মানিকনগর ঘাটে রাতে ডাকাতরা ট্রলারচালকসহ স্টাফদের নদীতে ফেলে দেয়। সার পরিবহণ ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে হাত-মুখ বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে নৌ-পুলিশ পরদিন ১১ অক্টোবর সারবোঝাই বাল্কহেডটি উদ্ধার করে।
কয়েক মাস আগে ট্রলারের চালকরা আন্দোলন করে নদীপথে ট্রলার চালানো বন্ধ করে প্রতিবাদ করে। তাদের দাবি নদীপথে নৌ-পুলিশ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ভৈরব থেকে প্রতিদিন ট্রলারগুলো মালবোঝাই করে হাওড়ে যাওয়ার পথে ভৈরবের খলাপাড়া, সরাইলের ধোবাজাইল, রাজাপুর, আশুগঞ্জের বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে পৌঁছালেই নৌ-ডাকাতরা নদীতে ট্রলার ও লঞ্চে ডাকাতি করে। ডাকাতদল ইঞ্জিনবাহী ট্রলার নিয়ে মেঘনা নদীতে ওতপেতে থাকে। মালবাহী বা যাত্রীবাহী ট্রলার দেখলেই তারা হামলা চালায়।
এ অবস্থায় মেঘনার নদীপথ ডাকাতদের কারণে অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। নৌ-ডাকাতদের উপদ্রবে মাঝিরা এখন অতিষ্ঠ বলে তাদের অভিযোগ। ভৈরব নৌ-থানার ইনচার্জ সুব্রত কুমার পোদ্দার এ বিষয়ে জানান, আমি কয়েকদিন আগে থানায় যোগদান করেছি। আগের বিষয়গুলোয় অবগত নই। তবে কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে মেঘনা নদীতে টহল জোরদার করেছি। এছাড়া ভৈরব থেকে মালবাহী ট্রলারগুলো যখন ভোরে ছাড়া হয় তখন মাঝিরা পুলিশকে অবগত করলে আমরা প্রহরা দিয়ে এগিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। নৌ-ডাকাতদের চিহ্নিত করে তাদের ধরতে অভিযান চালাব। তিনি বলেন, ডাকাতির ঘটনায় মাঝিরা থানায় অভিযোগ দিতে আসে না। অভিযোগ দিলে আমাদের কাজ করতে সুবিধা হয়। তারপরও নদীপথ নিরাপদ রাখতে আমরা চেষ্টা করছি।
