রাজনীতিমুক্ত পাবিপ্রবি ক্যাম্পাস
ছাত্রদলে যোগ না দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মারধর
Advertisement
পাবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজনীতিমুক্ত পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ছাত্রদলে যোগ না দেওয়ায় জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এলিভেটেডের ওপর এ ঘটনা ঘটে। মারধরে আহতরা হলেন-১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী রিমন, আশিক, রবিনসহ বেশ কয়েকজন। এ সময় মারধরে আহত রিমন নিজ কক্ষে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সহপাঠীরা তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন-ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন, রাইসুল ইসলাম সিজান, শুভজিৎ কর্মকার এবং সিয়াম সরকার। তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সিনিয়র কয়েক শিক্ষার্থী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হতে দীর্ঘদিন ধরেই ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের চাপ দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় সিনিয়ররা তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। এ নিয়ে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের পিকনিকের নাম করে ক্যাম্পাসে ডাকেন। ওই পিকনিকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের জুনিয়ররা যাননি। পরে সিনিয়ররা ওই ব্যাচের ৭-৮ জন জুনিয়রকে শনিবার রাতে ক্যাম্পাসে ডাকেন। তখন জুনিয়ররা কেন পিকনিকে আসেননি এ নিয়ে প্রথমে সিনিয়ররা তাদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেন এবং একপর্যায়ে গিয়ে তারা ওই জুনিয়রদের মারধর করেন। আহত শিক্ষার্থী রিমন বলেন, সিনিয়ররা আমাদের ডেকে নিয়ে অন্যায়ভাবে গায়ে হাত তুলেছেন। আমি এই অন্যায়ের বিচার আশা করছি। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম সিজান বলেন, ডিপার্টমেন্টের চেইন অব কমান্ড অনুযায়ী ইমিডিয়েট সিনিয়র ব্যাচ জুনিয়র ব্যাচকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। প্রায় ১০ মাস হয়ে গেলেও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের জুনিয়ররা আমাদের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের জুনিয়রদের আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়নি। তাই আমরা দুই ব্যাচকেই ক্যাম্পাসে পিকনিকের জন্য ডেকেছিলাম। কিন্তু ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ওরা আসেনি।
এজন্য আমরা তাদের ডেকেছিলাম বিষয়টি মিনিমাইজ করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু ওরা এসেই এগ্রেসিভ মুডে ছিল। একপর্যায়ে আমাদের ওপর হামলারও চেষ্টা করে। ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান অভি বলেন, আমি ক্যাম্পাসে নেই। ক্যাম্পাসে ফিরে উভয়পক্ষ নিয়ে বসব। প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, মারামারির বিষয়টি আমি জানতে পেরে ওই বিভাগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি আপাতত ক্যাম্পাসে নেই। তিনি আসলে তার সঙ্গে আমি বিষয়টি নিয়ে বসব।
