রায়পুরে ইজারার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ
Advertisement
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রায়পুর পৌর শহরে ইজারার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান নামে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক পান ব্যবসায়ীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আহত পান ব্যবসায়ী হারুনুর রশীদ অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বুধবার সকালে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জানা যায়, রায়পুর শহরের মুড়িহাটা সড়ক ইজারা নেন মিজানুর রহমান ওরফে মিজান সর্দার। কিন্তু তিনি কিছুদিন ধরে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে আসছেন এবং তিনি নিজেকে যুবদল নেতা হিসাবে পরিচয় দেন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সোনালী ব্যাংক সড়ক ও প্রধান সড়ক থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পান ব্যবসায়ী হারুনুর রশীদ অভিযোগ করে বলেন, ‘দীর্ঘ বছর ধরে মুড়িহাটা সড়কে পানের ব্যবসা করি। কয়েক দিন ধরে আমার কাছ থেকে খাজনার নামে টাকা দাবি করা হচ্ছিল। প্রথমে মাসিক ৬০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও পরে তা বাড়িয়ে প্রতিটি পানের টুকরি থেকে ৩০ টাকা এবং সর্বশেষ দৈনিক ৩০ টাকা দাবি করা হয়। এতে আমি রাজি না হলে ইজারাদার মিজানুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর করে পরিধেয় জামা ছিঁড়ে ফেলেন। টাকা না দিলে মালগুলো (পান) রাস্তায় ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। আমি বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’ অভিযুক্ত যুবদল নেতা ইজারাদার মিজান বলেন, ‘তার সঙ্গে মারামারির কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আর আমি পৌরসভার একজন ইজাদার। শিডিউল অনুযায়ী খাজনা আদায় করছি, এটা কোনো চাঁদা নয়। হারুন মিথ্যা কথা রটাচ্ছেন। আমিও পান বিক্রেতা হারুন ও তার সহযোগী আনোয়ারকে বিবাদী করে থানায় অভিযোগ দিয়েছে।’ এ ঘটনায় রায়পুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ফুটপাত ইজারা দেওয়া হয় না। কিন্তু ফুটপাতে ইজারার নামে খাজনা আদায় করা দুঃখজনক। প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’ রায়পুর পৌরসভার প্রশাসক (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নোই। খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।’ থানার ওসি শাহীন মিয়া বলেন, ভুক্তভোগী পান ব্যবসায়ী হারুনুর রশীদ, আনোয়ার হোসেন ও ইজারাদার মিজানের পৃথক অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি তদন্ত করে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
