মহম্মদপুরে স্বামীর কাণ্ড
যৌতুক না পেয়ে ‘পরকীয়া’ নাটকে স্ত্রী নির্যাতন
Advertisement
মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাগুরার মহম্মদপুরে যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় পরকীয়ার নাটক সাজিয়ে সুমি খাতুন (২০) নামে এক গৃহবধূকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে ঘটে। সুমি খাতুন ওই গ্রামের ফারুক মৃধার মেয়ে।
ভুক্তভোগীর মা ও দাদি জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে সুমি খাতুন একই গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে হাবিবুর রহমানকে বিয়ে করেন। হাবিবুর পেশায় একজন টাইলস মিস্ত্রি। বিয়ের পর দীর্ঘ সময় তাদের সংসার স্বাভাবিকভাবে চললেও সম্প্র্রতি যৌতুকের দাবিতে শুরু হয় নির্যাতন। তাদের আড়াই বছর বয়সি একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস আগে হাবিবুর মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা বলে স্ত্রীর কাছে বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা আনতে চাপ দেন। এই টাকা না আনতে পারায় সুমির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বাড়তে থাকে।
অভিযোগে আরও জানা যায়, ঘটনার রাতে পরিকল্পিতভাবে হাবিবুর তার বন্ধু নুর আলীকে সুমির ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে পরকীয়ায় হাতেনাতে ধরার নাটক সাজিয়ে সুমির ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে স্বজনরা সুমিকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে পরে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্বজনরা দাবি করেন, যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুমির স্বামী হাবিবুর রহমান বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে পরকীয়ার সময় হাতেনাতে ধরেছি। তাই তাকে মারধর করেছি। যৌতুকের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
