দাগনভূঞায় রাফির স্বীকারোক্তি
পরিবারের ভালোবাসা ‘বঞ্চিত’ হওয়ার ক্ষোভে মা খুন
Advertisement
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মা-বাবার অপবাদ, ভর্ৎসনা এবং পরিবারের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভে মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে দাগনভূঞার মোশারফ হোসেন রাফি। মা লাকি আক্তারকে (৪০) হত্যার দায় স্বীকার করে সোমবার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। রাফি জানান, ছোটকাল থেকে তিনি শ্বাসকষ্ট এবং মানসিক রোগে ভুগছিলেন। তিনি সিগারেটে আসক্ত ছিলেন। মা-বাবা সবসময় তাকে ভুল বুঝতেন এবং নানা অপবাদ দিতেন। তাদের ভালোবাসা ও স্বাভাবিক আচরণ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভ থেকেই তিনি মাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। জানা যায়, মা লাকি আক্তার তার সঙ্গে আপন সন্তানের মতো আচরণ করতেন না। ঘটনার দিন রাফি নানার বাড়ি থেকে এসে শুয়ে পড়েন এবং মাকে মাথা টিপে দিতে বলেন। কিন্তু মা তাকে দূরে সরিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে মাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। একপর্যায়ে গুরুতর আহত মা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং সেখানেই মারা যান। লাশ খাটের নিচে লুকানোর চেষ্টা করেন তিনি।
এসময় বোন দেখে ফেললে তাকেও আঘাত করা হয়। এরপর বাবা এসে পড়লে তাকে ছুরিকাঘাতে আহত করা হয়। রোববার রাতে উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দিলপুর গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবদুল মোতালেব বলেন, জবানবন্দিতে রাফি দাবি করে বেশিরভাগ সময় তিনি নানার বাড়িতে থাকতেন।
এসএসসি পাশ করার পর লেখাপড়া ছেড়ে দেন। তিনি শ্বাসকষ্ট ও মানসিক রোগে ভুগছিলেন। তার মা-বাবা মানসিক ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসাও করিয়েছেন। তার মা-বাবা তাকে সবসময় ভুল বুঝতেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে মাদকাসক্ত ও বখাটে বলে অবজ্ঞা করতেন। মা তাকে বলতেন, তুই মাদকসেবী, তুই বখাটেদের সঙ্গে আড্ডা দিস, তোর মতো পোলা দরকার নেই, তুই ট্রাকের নিচে পড়ে মর। এসব কথায় তিনি মানসিকভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তার সবসময় ক্ষতি চাইতেন। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি দুটি শনিবার অনলাইন থেকে কিনেছিলেন। হত্যার ঘটনায় সোমবার রাফিকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন তার ফুফু শরীফা বেগম। হত্যায় ব্যবহৃত দুটি ছুরি পুলিশ জব্দ করেছে।
