Logo
Logo
×

Advertisement

বাংলার মুখ

কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

ওষুধ চুরির আলামত মুছতে ‘পরিকল্পিত’ আগুন

Advertisement

Icon

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধের হিসাব গায়েব করতে পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স কুসুম রানী পাইকের বিরুদ্ধে। ২ মে ভোরে হাসপাতালের আন্তঃবিভাগের ওষুধ স্টোর রুমে ঘটা এ রহস্যজনক আগুনে অন্য সব মালামাল অক্ষত থাকলেও পুড়ে গেছে কেবল রোগীদের ওষুধের হিসাব সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ খাতাটি (রেজিস্টার)। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে একই কর্মস্থলে থাকা এ নার্সের গড়ে তোলা শক্তিশালী সিন্ডিকেটের অনিয়ম ঢাকতেই এ ‘অগ্নি নাটক’ সাজানো হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। পল্লী বিদ্যুৎ অফিস নিশ্চিত করেছে, সেদিন ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত হাসপাতালে লোডশেডিং চলছিল। এছাড়া স্টোর রুমের বৈদ্যুতিক বোর্ড ও তারের সঞ্চালন লাইন অক্ষত থাকায় শটসার্কিট থেকে আগুন লাগার দাবিটি ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কুসুম রানী পাইক তার নিজস্ব লোক ব্যবহার করে এ আগুন লাগিয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ওষুধ রোগীদের না দিয়ে গোপনে বাইরে বিক্রি করে দেওয়ার দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সে চুরির হিসাব মেলাতে ব্যর্থ হয়েই প্রমাণ মুছে ফেলতে বেছে নেওয়া হয়েছে আগুনের পথ। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, ২৬ বছর ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে কুসুম রানী পাইক এক প্রকার ‘মগের মুল্লুক’ কায়েম করেছেন। বিশেষ করে ডেলিভারি রোগীদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তিনি বিগত ২৬ বছরে অন্তত কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তার প্রভাবের কাছে অন্য নার্স ও কর্মচারীরা তটস্থ থাকেন সবসময়। এ বিশাল দুর্নীতির সাম্রাজ্য রক্ষা করতে এবং সরকারি ওষুধের হিসাবের গরমিল ঢাকতে রেজিস্টার খাতা পোড়ানোর বিষয়টি এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। এমনকি ঘটনার পর স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ইমরান হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ অগ্নিকাণ্ডকে সরাসরি কুসুম রানীর পরিকল্পিত কাজ বলে দাবি করেন এবং এর সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান। এদিকে, হাসপাতালে আগুন লাগা এবং ওষুধের হিসাব সংরক্ষণ খাতা (রেজিস্টার) পুড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে মেডিকেল অফিসার ডা. সোহেল রানা, আতায়ে রাব্বি এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার আমিনুল ইসলাম মঞ্জুসহ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওইদিনই থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করার পর সত্যতা পাওয়া গেলে কুসুম রানী পাইকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্ত কমিটিতে থাকা মেডিকেল অফিসার ডা. আতায়ে রাব্বির কাছে তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি হতবাক হয়ে বলেন, ‘আমাকে তদন্ত কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে অথচ এখনো আমি জানতেই পারিনি।’ তিনি বলেন, চিঠি হাতে পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এসব গড়িমসি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা বা তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টাকেই ইঙ্গিত করে। এ বিষয়ে জানতে সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ইনচার্জ কুসুম রানী পাইকের দেখা মেলেনি। এরপর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। থানার ওসি ফরিদুল আলম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

হাইওয়ে পুলিশ ব্যস্ত চাঁদা সংগ্রহে

হাইওয়ে পুলিশ ব্যস্ত চাঁদা সংগ্রহে

বালাগঞ্জে দৃষ্টিনন্দন ভবনে ভূতুড়ে পাঠাগার

বালাগঞ্জে দৃষ্টিনন্দন ভবনে ভূতুড়ে পাঠাগার

বিয়ের আগের দিন বরের মৃত্যু

বিয়ের আগের দিন বরের মৃত্যু

ভাঙ্গায় নানাবাড়িতে প্রাণ হারাল শিশু

ভাঙ্গায় নানাবাড়িতে প্রাণ হারাল শিশু

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম