‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে বাধ্য করার ভিডিও ভাইরাল
‘জুলাই যোদ্ধা’ ট্যাগ দিয়ে জাবি ছাত্রকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন
Advertisement
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার পূর্বধলায় ‘জুলাই যোদ্ধা’ ট্যাগ দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রকে হেনস্তা, বিবস্ত্র করে নির্যাতনসহ মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নেত্রকোনা-পূর্বধলা সড়কের ত্রিমোহনী সেতুর সিন্দুররাটিয়া শালদিঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর রাত ১২টার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। ভুক্তভোগী মো. শরীফ হোসেন নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার শুনই এলাকার জানু মিয়ার ছেলে এবং জাবির নাট্যকলা ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বুধবার বিকালে শরীফ হোসেন নেত্রকোনা শহরের বাইপাস মোড় এলাকায় ঘুরতে বের হন এবং সন্ধ্যার পর পূর্বধলার উদ্দেশে ইজিবাইকে রওয়ানা দেন। পথে ত্রিমোহনী সেতু পার হয়ে সিন্দুররাটিয়া শালদিঘা এলাকায় পৌঁছালে তিনজন যুবক তাকে ইজিবাইক থেকে নামতে বাধ্য করে। পরে তারা শরীফ হোসেনকে ‘মাদক কারবারি’ ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা শুরু করে এবং মারধর করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় তার কাছে মুক্তিপণ হিসাবে প্রথমে ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরে নগদ ও বিকাশে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার টাকা আদায় করে। এ সময় তার মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে বস্ত্রহীন করে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা পরে ভাইরাল হয়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, শরীফ হোসেনকে বস্ত্রহীন করে বলানো হচ্ছে-‘আমি একজন জুলাই যোদ্ধা, আমি আর জুলাই করতাম না। জুলাই...। আমি আগে ভুল করছি ছাত্রদের পক্ষে থাইক্কা। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’ এ সময় বস্ত্রহীন অবস্থায় শরীফকে কাঁদতে দেখা যায়। তার ঠোঁটে জমাট বাধা রক্ত। ভুক্তভোগী জানান, তাকে অন্ধকারে মারধর করা হয়েছে। ঘটনাটি তার জন্য গভীর মানসিক ট্রমা তৈরি করেছে। তার পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেছে। তার বড় বোন জামাই উজ্জ্বল খান বলেন, শরীফ অত্যন্ত নিরীহ প্রকৃতির একজন শিক্ষার্থী। পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি
পূর্বধলা থানার আওতাধীন হওয়ায় সেখানে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
