শিশুর লাশ গুম করতে বস্তায় ভরে রাখা হয়
আদমদীঘিতে নারীর স্বীকারোক্তি
Advertisement
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আদমদীঘির সান্তাহারে নিখোঁজের ছয় ঘণ্টা পর শিশু রাকিকা আক্তার রাকা মনির (সাড়ে ৬ বছর) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় শিশুটির বাবা রায়হান উদ্দিন প্রামাণিক থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। গ্রেফতাররা হচ্ছে-মৃত আবুল হোসেনের ছেলে আমজাদ হোসেন, তার স্ত্রী বন্যা খাতুন, প্রতিবেশী আবদুল কাদেরের ছেলে মো. বাবু এবং তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা আশা। ইনস্পেকটর (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার চারজনের মধ্যে প্রধান আসামি আমজাদ হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্য তিন আসামিকে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে বন্যা খাতুন বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি বলেন, শিশুটির কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে মাথায় আঘাত ও গলায় রশির ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করতে হাত-পা মুচড়ে বস্তায় ভরে রাখা হয়। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, শিশু রাকিকা আক্তার রাকা মনি মোটর মেকনিক রায়হান উদ্দিন প্রামাণিকের মেয়ে। শিশুটি স্থানীয় একটি নূরানি মাদ্রাসায় নার্সারি শ্রেণিতে পড়ত। মা অন্যত্র বিয়ে করে চলে যাওয়ায় শিশু রাকা তার ফুপু লিপির কাছে থাকত। বৃহস্পতিবার শিশুটি বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়। সন্দেহজনক আচরণ করায় এলাকাবাসী প্রতিবেশী মাদকাসক্ত আমজাদ হোসেনের বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি করলে ঘরে একটি বস্তায় হাত-পা মোড়ানো রাকার লাশ দেখতে পান। এ সময় এলাকাবাসী আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী বন্যা খাতুন এবং প্রতিবেশী মো. বাবুকে গণপিটুনি দেয়। বাড়িঘরও ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ আমজাদ, বন্যা ও বাবুকে উদ্ধার করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির একটি টহল ভ্যানের সামনের কাচ ভাঙচুর করেন। রাতে পুলিশ শিশু রাকা মনির লাশ উদ্ধার করে।
