বিএনপি নেতার কাণ্ড
কমলনগরে খাল পাড়ের মাটি কেটে উঠান ভরাট
Advertisement
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কমলনগরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) খনন করা তুলাতুলি খালের পাড় কেটে মাটি নিয়ে নিজের বাড়ির উঠান ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে আবদুল মতিন নামে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুরে উপজেলার লরেন্স ৪নং ওয়ার্ডের শেষ সীমানার পোলের গোড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে খালের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়া ও পাড় ধসের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অভিযুক্ত আবদুল মতিন তোরাবগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুশ শহীদের বড় ভাই এবং একই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এ কাজ করছেন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তোরাবগঞ্জ এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিরসন এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে তুলাতুলি খালটি খনন করে বিএডিসি। খনন শেষে খালের পাড় সংরক্ষণের জন্য সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ এবং পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বড় আকারের পাইপ স্থাপন করা হয়। গত বছর খালটি খননের সময় আবদুল মতিন খালের পাড় নিয়ে কোনো আপত্তি বা মালিকানা দাবি না করলেও প্রায় এক বছর পর এখন জায়গাটি নিজের দাবি করে মাটি কেটে নিচ্ছেন। সরেজমিন দেখা গেছে, খালের পাড়ের মাটি কেটে পাইপের উপরিভাগের অংশও ফাঁকা করে ফেলা হচ্ছে। সেখানে ১০ জন শ্রমিক মাটি কাটার কাজ করছেন এবং দুটি ট্রাক্টর দিয়ে সে মাটি আবদুল মতিনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কর্মরত শ্রমিকরা জানান, আবদুল মতিনের নির্দেশেই তারা মাটি কেটে তার বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খালটি খননের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও তখন কেউ মালিকানা দাবি করতে আসেনি। এখন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে খালের পাড় দুর্বল হয়ে পড়বে এবং বর্ষায় ধস নেমে ভবিষ্যতে তীব্র জলাবদ্ধতাসহ জনভোগান্তি তৈরি হবে। অভিযোগের বিষয়ে আবদুল মতিন বলেন, ‘আমার জমি থেকে আমি মাটি নিচ্ছি।’ সরকারি খালের পাড়ের মাটি কীভাবে ব্যক্তিগত হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, খালের পাড়ের ওই জায়গাটি মূলত তার নিজস্ব সম্পত্তি। বিএডিসি’র উপসহকারী প্রকৌশলী (নোয়াখালী) মো. জুয়েল হোসেন বলেন, সরকারি খালের পাড়ের মাটি ব্যক্তিগতভাবে কেটে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত উজ জামান বলেন, ‘খালের পাড় কেটে মাটি নেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। সরেজমিনে তদন্ত করে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
