শিপইয়ার্ড মালিকের ওপর হামলা, চাঁদা দাবি
অপমান-অপপ্রচারে অতিষ্ঠ হয়ে ব্যবসা গুটানোর চিন্তা
সীতাকুণ্ডে বেকারত্বের শঙ্কায় ৫ শতাধিক শ্রমিক
Advertisement
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সীতাকুণ্ডে এক শিপইয়ার্ড মালিকের কাছে চাঁদা না পেয়ে হামলা করার পর উলটো মিথ্যা অপপ্রচার শুরু করেছে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এতে বিরক্ত হয়ে মানসম্মান হারিয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন ওই ব্যবসায়ী। এদিকে এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়ায় চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন ইয়ার্ডের ওপর নির্ভরশীল শত শত এলাকাবাসী ও ইয়ার্ডের কর্মরত পাঁচ শতাধিক শ্রমিক-কর্মকর্তা। জানা গেছে, একসময় সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে কর্মসংস্থানের অভাবে যুবসমাজ মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছিল। গত দুই দশকে কিছু শিল্প উদ্যোক্তা সোনাইছড়ি সাগর উপকূলে পরপর ৮-১০টি শিপব্রেকিং ইয়ার্ড গড়ে তুললে এলাকার অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়। এছাড়া অনেকে বেছে নেন পুরোনো জাহাজের মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসাসহ নানা কাজ। ফলে বেকারত্ব কমে আসে। কিন্তু গত ১৩ জুন এখানে ঘটে যায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এদিন স্থানীয় শিপব্রেকার্স এসএম নুরুন নবী ইয়ার্ড থেকে ফেরার পথে জাহাঙ্গীর নামে এক যুবক দলবল নিয়ে তার গাড়ি থামিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং কর্মকর্তাদের মারধর করে। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা গ্রামবাসী তাদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বিওবি রিসাইক্লার্স শিপইয়ার্ডের এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে পুলিশ প্রধান আসামি জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে। কিন্তু এ ঘটনার পর জাহাঙ্গীরের দলবল সামাজিক মাধ্যমে এসএম নুরুন নবীর বিরুদ্ধে মিথ্যা, মানহানিকর অপপ্রচার শুরু করে। এসব অপপ্রচার দৃষ্টিগোচর হলে নুরুন নবী এলাকা থেকে তার ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু তিনি যেন এমন সিদ্ধান্ত না নেন সেজন্য গ্রামবাসী তার কাছে অনুরোধ জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, ‘ব্যবসায়ী নুরুন নবীর তিনটি শিপইয়ার্ডের ওপর তারা সবাই নির্ভরশীল। শত শত গ্রামবাসী এখানে চাকরি করছেন। তার থেকেও অনেক বেশি মানুষ ব্যবসা করছেন। এ তিনটি ইয়ার্ড চলে গেলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।’ বিওবি রিসাইক্লার্স শিপব্রেকিংয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এসএম নুরুন নবী সীতাকুণ্ডে তিনটি শিপইয়ার্ড করার পর তার ইয়ার্ডে ৬৫০ জনের স্থায়ী কর্মসংস্থান হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৯৩টি জাহাজ কাটিং করে দেশের নির্মাণ শিল্পে অবদান রেখেছেন। হাজার হাজার কোটি টাকা ট্যাক্স দিয়ে অন্যতম করদাতা হয়েছেন। প্রতিবছর দেড় কোটি টাকার ওপর অনুদান দেন এলাকার উন্নয়ন, দরিদ্র মানুষ, স্কুল, কলেজ, সামাজিক সংগঠনকে। এ মানুষকে তুচ্ছ বিষয়ে অপমান করায় তিনি ব্যবসা সরিয়ে নিয়ে গেলে এলাকাবাসী চরম কষ্টে পড়ে যাবেন।
