Logo
Logo
×

Advertisement

বাংলার মুখ

সিকিভাগ কাজে সিংহভাগ বিল

Icon

সোহেল রানা, মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ)

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সিকিভাগ কাজে সিংহভাগ বিল

নির্ধারিত ১৮ মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের নির্মাণ কাজ এখনো পাম্পঘরের মেঝে পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।

Advertisement

মুক্তাগাছায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার দুবছর পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। নির্ধারিত ১৮ মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের নির্মাণ কাজ এখনো পাম্পঘরের মেঝে পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এক লাখ লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক স্থাপন ও পাইপলাইন নির্মাণ শুরুই হয়নি। এ অবস্থায় প্রকল্পের সিংহভাগ বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টে ময়মনসিংহ বিভাগের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল হোসেনের অধীনে মুক্তাগাছা ও গৌরীপুর উপজেলায় ‘লার্জ পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই স্কিম’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ১৮ মাস মেয়াদি প্রকল্প দুটির ব্যয় ধরা হয় ১২ কোটি ৬৩ লাখ ২ হাজার ১৩৯ টাকা। কাজটি পায় ঢাকাভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূর অ্যান্ড কোং। প্রকল্পের আওতায় মুক্তাগাছার পাইকাশিমুল এলাকায় পাম্পঘর, এক লাখ লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক এবং পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষের কাছে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণ শ্রমিক বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রতিনিধির উপস্থিতি নেই। পাম্পঘরের নির্মাণ কাজ মেঝে পর্যন্ত এগিয়ে থেমে আছে। ট্যাংক ও পাইপলাইনের কাজ এখনো শুরু হয়নি।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, প্রকল্পের অগ্রগতি ২০ ভাগ। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে সেই অগ্রগতির প্রতিফলন নেই। তাদের দাবি, নামমাত্র কাজ দেখিয়ে ঠিকাদার প্রকল্পের সিংহভাগ বিল উত্তোলন করেছেন। তবে কত টাকা ছাড় হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। ঠিকাদারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রও যুগান্তরকে সিংহভাগ বিল উত্তোলনের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পাইকাশিমুল এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, শুরুর দিকে কিছু কাজ হলেও পরে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে এলাকার মানুষ প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। প্রকল্পে কাজ করা নির্মাণ শ্রমিক শফিকুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের সঙ্গে প্রায় ২৬ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদার সময়মতো রড, সিমেন্টসহ প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ না করায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দুর্বল তদারকি ও প্রভাবশালী ঠিকাদারের দৌরাত্ম্যে প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক টুকু কাজের ধীরগতির বিষয়টি স্বীকার করলেও কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট জবাব দেননি। প্রকল্পের শুরুতে দায়িত্বে থাকা সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী শফিউল আজম বলেন, আমি যোগদানের আগেই প্রকল্পটি শুরু হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করতে বিভাগীয় কার্যালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ময়মনসিংহ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ ছামিউল হক জানান, কাক্সিক্ষত অগ্রগতি না হওয়ায় কার্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করে প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এক লাখ লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংকের মাধ্যমে পাইকাশিমুল এলাকার প্রায় ৩৫০টি পরিবার বাড়িতে বসেই পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি পাবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিনা রসিদে অর্থ আদায়

বিনা রসিদে অর্থ আদায়

মুরাদনগরে চার গ্যাসক্ষেত্র তবুও আবাসিক গ্যাস থেকে বঞ্চিত লাখো পরিবার

তবুও আবাসিক গ্যাস থেকে বঞ্চিত লাখো পরিবার

বাঘায় মঞ্চায়ন ‘আপন-দুলাল’ যাত্রাপালা

বাঘায় মঞ্চায়ন ‘আপন-দুলাল’ যাত্রাপালা

লোহার খাঁচায় শামীমের এক যুগ পার

লোহার খাঁচায় শামীমের এক যুগ পার

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম